RK NEWZ এই মুহূর্তে সুজিত বসু যাতে জামিন না-পান সেই আবেদন করে ইডি আদালতে জানিয়েছে যে, প্রাক্তন মন্ত্রী বাইরে বেরোলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে পারেন। পুরনিয়োগ দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসুকে ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আর তা করতে গিয়ে হাতিয়ার করা হল দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা পাচু রায়ের বয়ানকে! আদালত বৃহস্পতিবার আগামী ৪ জুন পর্যন্ত সুজিতকে বিচারবিভাগীয় (জেল) হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ইডি আদালতে জানায়, দক্ষিণ দমদম পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান পাচু বয়ান দিয়েছেন যে পুরসভায় নিয়োগে বাইরের সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ায় (আউটসোর্সিং করায়) তাঁর আপত্তি ছিল। এতে নিয়োগে স্বচ্ছতা থাকবে না বলেও মনে হয়েছিল তাঁর। কিন্তু সুজিত এবং সুজিত-অনুগামী কাউন্সিলরেরা বাইরের সংস্থাকে সেই দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। ইডির দাবি, এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ এক জনের বয়ান তারা নথিভুক্ত করতে চেয়ে সমন পাঠালেও তিনি হাজির হননি। তবে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন তিনি এখন চিকিৎসার জন্য ভিন্রাজ্যে রয়েছেন। রাজ্যে ফিরে তিনি হাজিরা দেবেন। তার পরে ইডি সুজিতকে আবার হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারে বলে জানিয়েছে আদালতকে। এই মুহূর্তে সুজিত যাতে জামিন না-পান সেই আবেদন করে তারা আদালতে জানিয়েছে যে, , প্রাক্তন মন্ত্রী তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে পারেন। এ ছাড়া প্রাক্তন মন্ত্রী তদন্তেও পুরোপুরি সহযোগিতা করেননি বলে ইডির অভিযোগ। দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে গত ১১ মে সুজিতকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়ম বহির্ভূত ভাবে নিয়োগের ওই তালিকায় প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম রয়েছে। তাঁদের নাম সুপারিশ করার বিনিময়ে সুজিত অন্যায্য সুবিধা নিয়েছিলেন বলেও ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই মামলার তদন্তে গত সোমবার দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচুকে ডেকে পাঠানো হয় সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে। সেখানেই তিনি বয়ান নথিভুক্ত করেছিলেন।
এ বার গ্রেফতার কোচবিহারের তৃণমূল কাউন্সিলর! ভোটের আগের দিন বর্তমান স্পিকারকে অপমানের অভিযোগ। কাউন্সিলর উজ্জ্বল দলবল নিয়ে সেখানে হাজির হয়ে দাবি করেন, বিজেপি প্রার্থী এলাকায় টাকা বিলি করতে গিয়েছেন। কোচবিহারে এ বার গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের এক কাউন্সিলর। ধৃত কোচবিহার পুরসভার দু’নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর উজ্জ্বল তর। এর আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন কোচবিহার এক নম্বর ব্লক এবং দু’নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি, দিনহাটার পুরসভার কর্মী, প্রাক্তন চেয়ারম্যান। কোচবিহার কোতোয়ালী থানা সূত্রের খবর, নির্বাচনের আগে হুমকি, অপমানের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে, যেই ঘটনায় জড়িয়ে রয়েছেন রাজ্যের স্পিকার রথীন্দ্র বসু। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহারে নির্বাচনের আগের দিন, ২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় শহরের দুই নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির ওয়ার্ড সভাপতির বাড়িতে গিয়েছিলেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী, তথা বিধানসভার বর্তমান স্পিকার রথীন্দ্র বসু। অভিযোগ, সেই সময় কাউন্সিলর উজ্জ্বল দলবল নিয়ে সেখানে হাজির হয়ে দাবি করেন, বিজেপি প্রার্থী এলাকায় টাকা বিলি করতে গিয়েছেন। এলাকা থেকে ধাওয়া করে তাঁকে বিতাড়িত করা হয় বলে অভিযোগ। সে সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানান রথীন্দ্র। তিনি বলেন, তাঁর প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই বিজেপি নেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে উজ্জ্বলকে। উজ্জ্বলের মা মিনা তর বলেন, ‘‘আমরা সকলে বাড়িতেই ছিলাম। হঠাৎ করে পুলিশ এসে বাড়িতে হাজির হয় এবং আমার ছেলেকে খোঁজাখুঁজি করতে শুরু করে। কিছু বলে ওঠার আগেই তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়। জানতে চাইলে আমাদের বলা হয়, থানায় গিয়ে জানতে পারবেন।’’





