RK NEWZ শিলিগুড়ি পৌঁছে উত্তরবঙ্গের মানুষকে প্রণাম করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গে এবার থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী যাবেন। উন্নয়নের কাজও খতিয়ে দেখবেন। শিলিগুড়ি পৌঁছে উত্তরবঙ্গের মানুষকে প্রণাম করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রতি মাসে উত্তরবঙ্গে এবার থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী যাবেন। উন্নয়নের কাজও খতিয়ে দেখবেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রতি সপ্তাহে রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উত্তরকন্যায় বসবেন। সেখানে উন্নয়নের কাজকর্ম দেখাশোনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গেও দেখা করে তাঁদের দাবিদাওয়া-কথা শুনবেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে আজ, বুধবার উত্তরবঙ্গে প্রথম পৌঁছলেন শুভেন্দু অধিকারী। বাগডোগরা বিমান বন্দরে নেমে উত্তরবঙ্গে বিজেপিকে জেতানোর জন্য সাধারণ মানুষদের শুভেচ্ছা জানান। মুখ্যমন্ত্রী উত্তরের পাঁচ জেলার বিধায়ক, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের নিয়ে শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। জানা গিয়েছে, সামনে বর্ষা তাই বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেতে চলেছে বন্যা, হড়পা বান, ভূমিধস ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা। এছাড়াও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চিকিৎসা পরিষেবা এবং চা বাগানের সমস্যা, বেআইনি নির্মাণ, জমি ও বালি-পাথর মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রসঙ্গ। বেলা ১১টার পর বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো, বরণ করার জন্য প্রস্তুত পাহাড়। সকাল থেকেই বিজেপির কর্মী-সমর্থক, মানুষজন অধীর আগ্রহে বিমান বন্দরের বাইরে, রাস্তায় শুভেন্দুকে অভিবাদন জানানোর জন্য অপেক্ষা করেছেন। বিমান বন্দরের বাইরে বেরিয়ে উত্তরবঙ্গের মানুষদের হাতজোর করে নমস্কার করেন। বিজেপিকে বিপুল ভোটে জেতানোর জন্য উত্তরবঙ্গকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। একপাশে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা ও অন্যপাশে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এবার থেকে প্রতি মাসে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা উত্তরবঙ্গে আসবে। ঘুরতে নয়, এখানে কাজ করতে আসব। প্রতি সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উত্তরকন্যায় বসবেন।”
জুন মাস থেকে রাজ্যে সরকারি বাসে মহিলাদের যাতায়াত ফ্রি। তবে তাঁদের এই ফ্রি রাইডের জন্য বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে সরকারের তরফে। ঠিক হয়েছে, তাঁদের দেওয়া হবে একটি পিংক কার্ড। সেই কার্ড দেখালে শূন্য টাকার একটি টিকিট ইস্যু করবে কন্ডাক্টর। তবে যতদিন না পর্যন্ত এই কার্ড হাতে পাওয়া যাবে, ততদিন ভোটার বা আধার কার্ড, অথবা এই রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার যে কোনও প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখলেই বাসে ফ্রিতে যাতায়াত করতে পারবেন মহিলারা। নবান্ন সূত্রে খবর, সরকারি বাসে মহিলাদের ফ্রি-তে যাতায়াতের পরিষেবা কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন তৈরি করছে পরিবহণ দপ্তর। বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে নবান্নে। তার মধ্যে কোন পরিকল্পনায় নবান্নের সবুজ সংকেত মেলে, এখন সেটাই দেখার। ইতিমধ্যেই পরিবহণ দপ্তরের তরফে সরকারি বাসে সমীক্ষা করা হয়েছে। কত সংখ্যক মহিলা শহরে প্রতিদিন সরকারি বাসে ওঠেন, গোটা রাজ্যেই বা কত মহিলা চড়েন, এই যাবতীয় তথ্য নেওয়া হয়েছে। বিজেপি এবার তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারেই জানিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে মহিলাদের সরকারি বাসে যাতায়াত ফ্রি-করে দেবে। সেই মতো প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই তা ঘোষণা করা হয়। গত সোমবার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রীর অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “১ জুন থেকে মহিলারা বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াত করতে পারবেন।” সরকারি এসি, নন এসি, দূরপাল্লার যাবতীয় সরকারি বাসেই এই সুযোগ মিলবে। এই ঘোষণার পরই পরিবহণ দপ্তরের তরফে এই পরিষেবা কার্যকর করার জন্য ডিপিআর তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কলকাতা শহরে দিনে ১ লক্ষ ৮০ হাজার মতো মহিলা সরকারি বাসে চড়েন। গোটা রাজ্যে ৪ লক্ষ মতো। মনে করা হচ্ছে, এই ফ্রি পরিষেবা চালু হলে আরও এক লক্ষ মতো মহিলা যাত্রী বাড়তে পারে। সেইমতোই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে কোথা থেকে এই পিংক কার্ড বিলি হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বিডিও, এসডিও অফিস, পুরসভা থেকে এই কার্ড বিলি হতে পারে। যতদিন না হবে, ততদিন ভোটার, আধার, আয়ুষ্মান ভারত, ব্যাঙ্কের পাসবুক, মনরেগা বা যে কোনও ফোটো আইকার্ড দেখালেই হবে। যা দেখলে বোঝা যাবে ওই মহিলা এ রাজ্যের বাসিন্দা। তবে কোনও মহিলার সঙ্গে কোনও কন্ডাক্টরের যাতে এসব নিয়ে বাদানুবাদ না হয়, সেকারণে সরকারি বাসের ড্রাইভার ও কন্ডাক্টারদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। এ দিকে, মঙ্গলবারই ‘অন্নপূর্ণা’ যোজনার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। ১ জুন থেকে মিলবে টাকা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপকদের জন্য যে যোগ্যতাবলী ছিল, এক্ষেত্রেও তাই রাখা হয়েছে।




