Wednesday, May 20, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

তোলাবাজিতে গ্রেপ্তার তৃণমূলের দেবরাজ চক্রবর্তী!‌ দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় পুলিশের জালে অদিতি মুন্সির স্বামী!

RK NEWZ অদিতি মুন্সির স্বামী তোলাবাজি, দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার। পুলিশের জালে ধরা পড়লেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা সংগীতশিল্পী অদিতি মুন্সির স্বামী! উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী অর্থাৎ তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতার গ্রেপ্তারির খবরে শোরগোল পড়েছে সমাজমাধ্যমে! যদিও এই বিষয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত কোনও তথ্য বা ব্যাখ্যা দেয়নি রাজ্য বা কলকাতা পুলিশ। সূত্রের দাবি, বুধবার সকালের আগে পর্যন্ত তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এদিন ভোররাত পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায়নি পুলিশ! আবার কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি, কেউ বলেছেন সিআইডি! দাবি করা হয়েছে, তাঁকে গ্রেপ্তারের পর নিয়ে যাওয়া হয়েছে ভবানীভবনে, সেখানেই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। যদিও এই বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি এখনও পর্যন্ত। তবে বিজেপি সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল অর্থাৎ তৃণমূলের নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে। তোলাবাজি, দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ছড়িয়েছে জল্পনা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘পাপ বিদায়’ বলে পোস্ট করেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তাঁর ওই পোস্টের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম করে, প্রশ্নবোধক চিহ্ন-সহ পোস্ট করেন বিজেপির প্রাক্তন নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিজেপি নেতা জানান, গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেবরাজ চক্রবর্তীকেই! এই দেবরাজ চক্রবর্তীকে নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বারবার সরব হয়েছে রাজ্য বিজেপি। তোলাবাজি, বিরোধীদের উপর আক্রমণ-সহ বিভিন্ন অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন প্রাক্তন বিধায়কের স্বামী। এবার তাঁর গ্রেপ্তারি নিয়ে এমন খবর অত্যন্ত তাৎপর্যের বলেই মনে করছেন অনেকে। উল্লেখ্য, পুরনিয়োগ দুর্নীতি নিয়েও নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। এই দুর্নীতি মামলায় উঠে এসেছে দক্ষিণ দমদম পুরসভার নাম। অনেকেই বলছেন, বিজেপি সরকারের শুরুর দিন থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে শুরু হয়েছে কড়া ব্যবস্থা। অন্যায়ের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে নতুন সরকার! আর জি কর ফাইল থেকে শুরু করে তোলাবাজি, পশুহত্যায় বিধিনিষেধ। একের পর এক ইস্যুতে ব্যবস্থা নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার। এবার দেবরাজের গ্রেপ্তারির এমন খবর ফের তোলপাড় করেছে রাজ্য রাজনীতি।

এবার পুলিশের জালে দেবরাজ চক্রবর্তীর ছায়াসঙ্গী। দীর্ঘদিন ধরে প্রোমোটারকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত অমিত চক্রবর্তীর খোঁজ চালাচ্ছিল পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ।

দুর্নীতির শিকড় উপরে ফেলতে দুর্দান্ত ব্যাটিং! শুভেন্দু সরকারের ১১ দিনে গ্রেপ্তার সুজিত, দেবরাজ-সহ ১৩। ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই দুর্নীতিমুক্ত বাংলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। যেমন কথা, তেমন কাজ। ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই দুর্নীতিমুক্ত বাংলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। যেমন কথা, তেমন কাজ। শুরু থেকেই শক্ত হাতে বাংলার রাশ ধরার চেষ্টা করছেন তিনি। দুর্নীতিকে গোড়া থেকে উপরে ফেলার জন্য যা পদক্ষেপ করা প্রয়োজন, তা-ই করছেন তিনি। রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি। প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে শুরু করে ব্লক স্তরের নেতা, অভিযোগ থাকলে কাউকেই রেয়াত করছে না সরকার। পরিসংখ্যান বলছে, সরকার গঠনের ১১ দিনে দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার মোট ১৩ জন।

১. দেবরাজ চক্রবর্তী (১৯.০৫.২০২৬)- উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী। তিনি রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতা। ভোট পরবর্তী হিংসা, খুন, দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শোনা যাচ্ছে, ফলপ্রকাশের পর থেকেই ফেরার ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার গোপন ডেরা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে। যদিও এবিষয়ে এখনও প্রশাসনের তরফে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।

২. সোনা পাপ্পু (১৮.০৫.২০২৬)- জমি দুর্নীতি, প্রতারণা-সহ একাধিক মামলা ছিল সোনা পাপ্পু বিরুদ্ধে। গোলপার্কের কাঁকুলিয়া বোমা-গুলি কাণ্ডের পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন তিনি। গত সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরে সস্ত্রীক হাজির হয়েছিলেন সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার। রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একইদিনে গ্রেপ্তার হন আসানসোলের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি রাজু অহলুওয়ালিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। ৩. স্মরজিৎ বিশ্বাস, গৌরীশংকর মাহেশ্বরী, মৌমিতা ভট্টাচার্য (১৭.০৫.২০২৬)- একইদিনে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫ জন। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নদিয়ার কৃষ্ণনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ স্মরজিৎ বিশ্বাসকে। অর্থের বিনিময়ে বিল্ডিং প্ল্যান পাশের অভিযোগে গ্রেপ্তার দিনহাটার প্রাক্তন পুরপ্রধান গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরী। একই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় পুরকর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্যকে। এছাড়াও পুলিশের জালে আরও ২ জন।

৪. প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাস (১৪.০৫.২০২৬)- সোনা পাপ্পু মামলায় নাম জড়িয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের। তাঁকে একাধিকবার তলব করেছিল ইডি। বাঁচতে হাই কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তাঁর নামে জারি হয় লুক আউট নোটিস। দীর্ঘদিন লুকিয়েও লাভ হয়নি। ১৪ মে ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন তিনি। ম্যারাথন জেরার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৫. কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার (১৩.০৫.২০২৬)- মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের বাসিন্দা শান্তনু মজুমদার। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছিল। গত ১৩ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একইদিনে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আরও ২ জনকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই।

৬. সুজিত বসু (১১.০৫.২০২৬)- বাংলার রাজনীতিতে একটা বড় নাম সুজিত বসু। একাধিকবারের বিধায়ক, মন্ত্রী ছিলেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতিতে দীর্ঘদিন আগেই নাম জড়িয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সৈনিকের। অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে ১৫০ জনের নাম সুপারিশ করেছিলেন তিনি। গত ১১ মে ম্যারাথন জেরার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইডি। বর্তমানে ইডি হেফাজতে রয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles