কীভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তিন হাজার টাকা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে মহিলাদের মনে প্রশ্নের অন্ত নেই। সরকারের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, নতুন করে আবেদন, পুরনোদের স্টেটাস দেখার জন্য চালু করা হবে পোর্টাল। কথা রাখল সরকার। চালু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য পোর্টাল। তবে রাজ্যবাসী সেখানে নাম নথিভুক্ত করতে গিয়ে বেশ কিছু সমস্যায় পড়ছেন বলেই খবর। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করে দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে সিলমোহর দিয়েছে বিজেপি সরকার। জানানো হয়েছে, আগামী ১ জুন থেকে নথিভুক্তদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে ৩ হাজার টাকা। পোর্টাল চালু করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেল সেই পোর্টাল। নতুন করে আবেদন ও নিজের আবেদনের স্টেটাস দেখতে যেতে হবে https://socialsecurity.wb.gov.in/login – এই ওয়েবসাইটে। ঢুকলেই দেখা যাবে বাঁদিকে লেখা, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা পোর্টাল’। ডানদিকে রয়েছে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দেওয়ার জায়গা। তবে এখনও সেখানে নতুন করে রেজিস্ট্রারের কোনও অপশন মিলছে না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান, তাঁরাও মোবাইল নম্বর দিয়ে লগ ইন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন। নির্দিষ্ট জায়গায় মোবাইল নম্বর দেওয়া হলেও দেখাচ্ছে ইনভ্যালিড। মনে করা হচ্ছে, এই মুহূর্তে পোর্টালটিতে কোনও যান্ত্রিক সমস্যা চলছে। দ্রুতই তা মিটে যাবে। তারপর মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে নথিভুক্তরা তাঁদের তথ্য যাচাই করে নিতে পারবেন। যারা নতুন করে আবেদন করতে চান, তাঁরাও সেই সুযোগ পাবেন।
দেশের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার প্রশ্নে ইতিমধ্যে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। ক্ষমতার মসনদে বসেই সীমান্তে সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, কাঁটাতার দিতে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এরমধ্যেই উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেকে’র (Chicken’s Neck) নিরাপত্তা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সরকারের। জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি করিডোরের ১২০ একর জমি কেন্দ্রের কাছে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের। যা তৃণমূল সরকারের আমল থেকে আটকে ছিল বলে খবর। অবশেষে এহেন পদক্ষেপ দেশের সুরক্ষার জন্য ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলেই দাবি রাজনৈতিকমহলের। চিকেনস নেক ঘিরে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিন। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভারতকে দুর্বল করতে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নজরে রয়েছে শিলিগুড়ি করিডর। তিনটি দেশের সীমান্ত এক জায়গায় মেশায় এই পথে অস্ত্রশস্ত্র, মাদক ও জাল নোট ভারতে পাচার করার ছক থাকে জঙ্গিদের। শুধু তাই নয়, চিন-বাংলাদেশের নজরে রয়েছে এই এলাকা। অনুপ্রবেশ বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এর ফলে ক্রমশ বদলাচ্ছে এলাকার জনবিন্যাস। এই অবস্থায় বাংলার ভোট প্রচারে এসে চিকেনস নেকের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করে তাঁর মন্তব্য ছিল, টুকরে টুকরে গ্যাং চিকেনস নেক ভাঙার ছক কষছে। আর তা প্রশয় দিচ্ছে তৎকালীন তৃণমূল সরকার। বিজেপি ক্ষমতায় আসলেই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই মতো সরকারে বদল হতেই চিকেনস নেকের সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ বিজেপি সরকারের। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যে সমস্ত জমি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে তা আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি। শুধু জমি নয়, ইতিমধ্যে দেশের সুরক্ষার কথা ভেবে রাজ্যের হাতে থাকে সাতটি জাতীয় সড়ক ন্যাশানাল হাইওয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে হাসিমারা–জয়গাঁও হয়ে ভারত-ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ, বারাদিঘি–ময়নাগুড়ি–চ্যাংরাবান্ধা হয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশ এবং শিলিগুড়ি (দার্জিলিং মোড়)–কার্শিয়াং–দার্জিলিং সম্পূর্ণ অংশ। এই রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হলে সীমান্ত এলাকায় পরিবহণ ব্যবস্থায় গতি আসবে বলেও মত ওয়াকিবহালমহলের। শুধু তাই নয়, দ্রুত সরঞ্জাম থেকে শুরু করে রেশন সীমান্ত এলাকায় থাকা সেনাঘাঁটিগুলিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও মত।





