RK NEWZ মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই অভয়া কাণ্ডের তদন্তে বিরাট পদক্ষেপ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা পুলিশের বড় পদে থাকা তিন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু জানিয়েছেন, ওই সময় কাদের নির্দেশে সাসপেন্ডেড আধিকারিকরা কাজ করেছেন, সাংবাদিক বৈঠক করেছেন, সেটা মুখ্যমন্ত্রী নাকি অন্য কোনও মন্ত্রীর নির্দেশে, সমস্ত বিষয় তদন্তের আওতায় এনে খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর কথায়, ‘‘ওই আইপিএসদের ফোনকল, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সব বের করব। দেখতে হবে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রীর কথায় তাঁরা সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন কি না। প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া এবং নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দিতে চাওয়ার অভিযোগের তদন্ত হবে।” আগেই আর জি করের সেমিনার হল সিল করেছিল তদন্তকারীরা। এবার অভয়া কাণ্ডে সিবিআইকে সম্পূর্ণ অকুস্থল সিল করার নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চের। সন্দীপ ঘোষের চেম্বার-সহ অভয়া কাণ্ডের সঙ্গে হাসপাতালের যে যে জায়গার যোগ সূত্র রয়েছে, সব সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই নতুন করে খুলেছে অভয়া ফাইল। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে ছিল মামলার শুনানি। এদিন আদালতের তরফে সিবিআইকে প্রশ্ন করা হয় তদন্তভার নেওয়ার সময় কোন কোন জায়গা সিল করা হয়েছিল ? জবাবে সিবিআই জানায়, সেমিনার হলের কথা। এরপর পালটা বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, আর কোনও জায়গা সিল করার প্রয়োজন হয়নি? তাতে সিবিআই জানায় ‘না’। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অভয়ার পরিবারের তরফে দাবি করা হচ্ছিল, সেমিনার হলের পাশের একটি ঘর রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সেটির যোগ থাকতে পারে। এমনকী সন্দীপ ঘোষের চেম্বারের সঙ্গেও ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছিল। এদিন সেই সব জায়গা সিল করার নির্দেশ দিল আদালত।
দু’বছর আগে, ২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুন করা হয় এক মহিলা চিকিৎসককে। ওই ঘটনায় আসামি সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তবে আরজি করের ওই ঘটনার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। এ অবস্থায় মঙ্গলবার হাই কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ সিবিআইয়ের কাছে জানতে চান আরজি করের ঘটনাস্থল সিল খোলা হয়েছে কি না। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, দ্রুত ঘটনাস্থল সিল করুক সিবিআই। সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়, সেমিনার হল সিল করা রয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, ওই ভবনের সপ্তম তলায় আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের অফিস ছিল। সেটি খোলা রয়েছে বলে দাবি পরিবারের। তাতে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন করে, তদন্তের স্বার্থে অন্য কোনও জায়গা সিল করার প্রয়োজন রয়েছে বলে কি মনে হয়নি সিবিআইয়ের? অন্য কোনও জায়গা কি সিল করা হয়েছে? কথোপকথনের একটি পর্যায়ে আদালত জানায়, আরজি করের ঘটনাস্থল সিল করে রাখতে হবে। আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। এর আগে এই মামলা ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের তিনটি বেঞ্চ। গত ১২ মে ‘এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার দ্রুত শুনানি প্রয়োজন’ পর্যবেক্ষণ রেখে মামলা ছেড়ে দিয়েছিল বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। তার পরে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ শনিবার জানিয়েছিল, নির্যাতিতার পরিবারের আরজি কর ঘটনাস্থল পরিদর্শন-সহ সমস্ত আবেদনের শুনানি হবে নতুন ডিভিশন বেঞ্চে। সেইমতো এখন মামলাটি রয়েছে বিচারপতি সরকার ও বিচারপতি ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে।





