Wednesday, May 20, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ঝুঁকলেন ফলতার ‘পুষ্পা’! অসহায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির!

RK NEWZ ভোটের বাকি আর দু’দিন। হঠাৎ করে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ঘোষণা করলেন, তিনি ফলতার পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত ‘স্পেশ্যাল প্যাকেজ’কে স্বাগত জানালেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোটের ময়দান ছাড়লেন একা হয়ে যাওয়া তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে জাহাঙ্গিরের ঘোষণা, ‘‘আমি এই ভোটে লড়ছি না।’’ যদিও এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও নির্দেশ রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার করেননি ‘পুষ্পা’। যদিও তৃণমূলের তরফে এক্স করে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গিরের ব্যক্তিগত। দলের নয়। জাহাঙ্গির বলেন, ‘‘ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’’ যদিও মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ পেরিয়ে গিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ইভিএমে জাহাঙ্গিরের নামেই বোতাম থাকবে। অন্য দিকে, মঙ্গলবার ফলতায় ‘রোড শো’ করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জাহাঙ্গিরের ঘোষণার পর গেরুয়া আবির নিয়ে উচ্ছ্বাসে মাততে দেখা গেল পদ্মশিবিরের কর্মী এবং সমর্থকদের। ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু যখন ‘রোড শো’ করছেন ফলতায়, তখন প্রচারে না বেরিয়ে বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেকের পছন্দের জাহাঙ্গির। তিনি বলেন, ‘‘আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাইব ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং ভাল থাকুক। ফলতায় আরও বেশি বেশি উন্নয়ন হোক।’’ গলা ধরে আসে সাদা শার্ট-কালো ট্রাউজ়ার্স পরিহিত ‘পুষ্পা’র। তিনি বলেন, ‘‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে আমি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।ফলতার উন্নয়নের স্বার্থে, ফলতার মানুষের জন্য সরে (ভোটের লড়াই থেকে) যাচ্ছি। এত দিন অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়েছি। আর কিছু বলব না।’’

২৯ এপ্রিল ছিল রাজ্যের শেষ দফা বিধানসভা ভোট। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কিছু বুথে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ইভিএমে আতর, কালি, টেপ লাগানোর মতো অভিযোগ পায় কমিশন। পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী। তৎকালীন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা জানান, ফলতার খবর পেয়ে তাঁর মনে হয়েছে কমিশনের উচিত ওই কেন্দ্রে আবার ভোট করানো। ঘটনাক্রমে কমিশন পুনর্নির্বাচনেরই সিদ্ধান্ত নেয়। তার পর ৪ মে বাকি ২৯৩ আসনের ফলঘোষণা হয়ে যায়। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে প্রথম বার ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে ভোটপ্রচার করতে দেখা গিয়েছিল জাহাঙ্গিরকে, তাঁকে আর ফলতা বিধানসভার প্রচারে দেখা যায়নি। অভিষেক শেষ দফা ভোটের আগে তাঁর হয়ে প্রচার করেছিলেন। তিনি বা তৃণমূলের কোনও বড় নেতা জাহাঙ্গিরের হয়ে আর প্রচারে যাননি। এমতাবস্থায় দিন কয়েক আগে ফলতার দলীয় কার্যালয় খুলে বসেছিলেন জাহাঙ্গির। বিধানসভা ভোটের আগে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক ‘সিংহম’ অজয়পাল শর্মাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে নিজেদের ‘পুষ্পা’ বলা এই তৃণমূল নেতা জানান, তিনি মাথা নোয়াবেন না। লড়বেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ফলতায় তাঁদের প্রার্থীর হয়ে প্রচার করেছেন। শুভেন্দু সভা থেকে ‘ভাইপোর পুষ্পা’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে যান। তিনি ঘোষণা করেন, ফলতার জন্য ‘স্পেশ্যাল প্যাকেজ’ রাখবে তাঁর সরকার। শুধু বিজেপি প্রার্থীকে লক্ষাধিক ভোটে জয়ী করতে হবে। শমীক কটাক্ষ করে অভিষেককে তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচারে যেতে বলেন।

সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জাহাঙ্গির। গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের কাছ থেকে রক্ষাকবচ নেন। মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির জানালেন তিনি আর এই ভোটের লড়াইয়ে নেই! গত ২৯ এপ্রিল ফলতা বিধানসভা নির্বাচনে যে অনিয়ম তথা কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল জাহাঙ্গিরকে। তিনি জানান, প্রার্থী হিসাবে কমিশনের বিধি মেনে লড়েছেন। তাঁর নির্দেশে কোথাও কারচুপি হয়নি। তৃণমূল তথা তাঁর বিরুদ্ধে ফলতাবাসীর একাংশের অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গিরের জবাব, ‘‘আজকে যেটা বলার ছিল, বললাম। আমি করিনি এগুলো। আমি নিজের অফিসে থেকে ভোট পরিচালনা করেছি। ফলতার মানুষের সঙ্গে কখনও খারাপ ব্যবহার করিনি। যদি কেউ বলে থাকেন, আমার বিশ্বাস আমার সামনে এলে তাঁরা সে কথা বলবেন না। আর কিছু বলার নেই।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles