Tuesday, June 9, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘২০ জুনই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস’! শ্যামাপ্রসাদের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসকে বদলে দেওয়া যায় না

RK NEWZ ব্রিগে়ড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। সন্ধ্যা গড়াতে না-গড়াতেই তিনি চলে আসেন নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে। সেখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে বেরিয়ে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস এবং তাতে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার কথা। শুভেন্দু মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস ১৯৪৭ সালের ২০ জুন-ই। ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা এবং বিধানসভায় সেই বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোট গড়ার বার্তা নিয়ে খোঁচা দিলেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সঙ্গে প্রায়ই সংঘাতে জড়িয়েছিল রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপি। ২০২৩ সালে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করিয়ে পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসাবে চিহ্নিত করেছিল তৎকালীন মমতার সরকার। বিজেপি প্রশ্ন তুলেছিল, কেন ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসাবে মান্যতা দেওয়া হবে না? মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর সেই একই প্রসঙ্গ তুললেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘১৯৪৭ সালের ২০ জুন, যদি পশ্চিমবঙ্গ ভারতে যুক্ত না হত, তবে আজ আমরা এখানে দাঁড়াতে পারতাম না।’’ পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের মানচিত্রে যোগ করার নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং ভারত সেবাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দের লড়াইয়ের জন্য এটা সম্ভব হয়েছে। আইনসভাতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-সহ ৫৮ জন ভোট দিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আর এটা যদি না-হত তা হলে আমরা কেউ এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না। আমাদের অবস্থা বাংলাদেশে থাকা সে দেশের সংখ্যালঘুদের মতো হত। একটা সময়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কংগ্রেস নেতাদের বলেছিলেন, তোমরা দেশভাগ করলে আর আমি পাকিস্তানকে ভাগ করলাম।’’ তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘‘আমি নিশ্চিত ভাবে ক্যাবিনেট এবং বিধানসভায় বিষয়টা রাখব, আমার ভাবনার মধ্যে আছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস ১৯৪৭ সালের ২০ জুনই হওয়া উচিত। ইতিহাসকে বদলে দেওয়া যায় না।’’ শুভেন্দুর সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন বিজেপির জয়ী তিন প্রার্থী— তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। শ্যামাপ্রাসাদের বাড়ি থেকে তিনি যান বালিগঞ্জের ভারত সেবাশ্রমেও। শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে কালীঘাটের মায়ের আশীর্বাদ ছিল।’’ শনিবারও কালীঘাট মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি যে দিন প্রথম কালীঘাটে মাকে প্রণাম ও পুজো করতে যাই, সে দিন মায়ের পা থেকে একটা পদ্মফুল আমার হাতে পড়েছিল। আমি সে দিনই বুঝেছিলাম মা কালীর আশীর্বাদ আমার এবং আমাদের সঙ্গে আছে।’’

শনিবারই বাম এবং অতিবাম দলগুলিকে তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধার ডাক দিয়েছেন মমতা। বিজেপির বিরুদ্ধে সকল রাজনৈতিক দলকে জোট বাঁধার আহ্বান জানান তিনি। সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি একটা কথাই বলব তিনি রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক। অপ্রাসঙ্গিক লোকেদের সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাই না।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles