RK NEWZ শেষ দফা ভোটের আগে রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তি পাকাতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। দ্বিতীয় দফা ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত ১৫৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সমস্যা সৃষ্টিকারী (ট্রাবল মেকার)-দের নামের তালিকা প্রকাশ নিয়ে আবার কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করল তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশের পরেও তালিকা প্রকাশ করে ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন করেছেন। শেষ দফা ভোটের আগের দিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়ের করতে অনুমতি দেয়। তার পরেই শুনানি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। শেষ দফা ভোটের আগে রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে অশান্তি পাকাতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। দ্বিতীয় দফা ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত ১৫৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারির নিরিখে সবার প্রথমে পূর্ব বর্ধমান জেলা। ওই জেলায় ৪৭৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ২৪৬ জনকে। নদিয়ায় গ্রেফতারির সংখ্যা ৩২। হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনায় গ্রেফতার করা হয়েছে যথাক্রমে ৪৯ জন এবং ৩১৯ জনকে। প্রথম দফা ভোটের আগে এই সংক্রান্ত মামলায় হাই কোর্ট জানিয়েছিল গোলমাল সৃষ্টি করতে পারে (ট্রাবল মেকার) বলে দাগিয়ে দিয়ে ঢালাও গ্রেফতারি চলবে না। সতর্কতামূলক ভাবে কাউকে আটক করতে গেলেও তা আইনের নির্দিষ্ট বিধি মেনেই করতে হবে। একই সঙ্গে জানিয়েছিল, কমিশন যদি ঢালাও গ্রেফতারি সংক্রান্ত এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তার উপরেও স্থগিতাদেশ জারি হচ্ছে। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। অন্য আইন থাকলে তার অধীনে কাজ করতে হবে। যদি আইন কোনও কাজ নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে করতে বলে, তবে সেটাই মানতে হবে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের মন্তব্য ছিল, “শুধুমাত্র ‘ট্রাবল মেকার’ বলে চিহ্নিত করে ঢালাও নির্দেশ দেওয়া প্রাথমিক ভাবে ভুল। নাগরিকের স্বাধীনতা শুধুমাত্র আইন অনুযায়ীই সীমিত করা যায়। কেউ যদি অপরাধ করে, পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। সতর্কতামূলক ভাবে কাউকে আটক করতে হলেও নির্দিষ্ট বিধি মেনেই করতে হবে।” আদালত এ-ও জানায়, এ ক্ষেত্রে কমিশন এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে, তাতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে। ওই সময় তৃণমূলের প্রায় ৮০০ কর্মীকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূলের সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ।
তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে থানায় দায়ের হল অভিযোগ। মনোনয়নে সঠিক তথ্য না দেওয়ায় রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বাগুইহাটি থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অদিতি মুন্সি ও তার স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। তরুণজ্যোতি তিওয়ারির অভিযোগ, অদিতি মুন্সির তাঁর মনোনয়নপত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত সম্পূর্ণ তথ্য দেননি। তাঁর দাবি, অদিতি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রচুর জমি কিনেছিলেন। সেই জমির বিক্রয়মূল্য উল্লেখ করা হয়নি মনোনয়নপত্রের কোথাও। চলতি বছরের ২৫ মার্চ তিনি একটা জমি বিক্রি করেছিলেন, সেই জমির বিক্রয়মূল্যও মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়নি বলে তরুণজ্যোতি তিওয়ারির অভিযোগ। তরুণজ্যোতির বক্তব্য, কিছু জায়গায় ‘বি সি গ্লোবাল’ নামে একটি কোম্পানির নাম উঠে আসছে। বিপুল সম্পত্তি বিক্রয় করা হলো কিন্তু সেই টাকা গেল কোথায়, সেটাই প্রশ্ন তুলে অভিযোগ দায়ের করছি বাগুইহাটি থানায়। তিনি বলেন, “চোর ধরা পড়েছে, একজন ভারতীয় নাগরিক হিসাবে দায়িত্ব পুলিশের কাছে খবর দেওয়া, আয়কর দফতরের কাছে খবর দেওয়া, কিংবা সিবিআই-ইডিকে জানানো। চোরের খবর দিতেই পুলিশের কাছে আসা।” তাঁর বক্তব্য, দেবরাজ চক্রবর্তী এবং অদিতি মুন্সি যৌথভাবে প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে, তা মনোনয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়নি। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত অদিতি মুন্সির কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




