RK NEWZ সুভাষচন্দ্র বসুর উক্তি মনে করিয়ে মোদী বলেন, ‘‘আপনারা ৭০ বছর কংগ্রেস, বাম, তৃণমূলকে দিয়েছেন। একটা সুযোগ বিজেপি-কে দিন, মোদীকে দিন। সকলে মিলে বাংলাকে সব বন্ধন থেকে মুক্তি দেব।’’ শেষ দিনের প্রচারে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যয়ী সুরে জানান, এ বার রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসছেই। সুতরাং ভোটের ফলপ্রকাশের দিন তাঁকে আবার পশ্চিমবঙ্গে আসতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘এই ভোটে আমার এটিই শেষ সভা। বাংলায় যেখানে যেখানে গিয়েছি, মানুষের মধ্যে যে উন্মাদনা দেখেছি, তাতে এই বিশ্বাস নিয়ে যাচ্ছি যে, আগামী ৪ মে-র পরে বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসতেই হবে।’’ দ্বিতীয় দফার ভোটের শেষ দিনের প্রচারে রাজ্যে একটিমাত্র সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্থান, উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল। যেখানে রবিবার রাতেই তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়ায়। রাতে জগদ্দল থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ করেন সেখানকার বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস রাজেশ কুমার। সেই জায়গায় সভা করে মোদী গ্যারান্টি দিলেন, তোষণের রাজনীতি থেকে পশ্চিমবঙ্গকে মুক্তি দেবেন। শেষ দফা ভোটের জন্য পশ্চিমবঙ্গে মোট ন’টি জনসভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে মমতা ৬০টি নির্বাচনী সভা করেছেন। এ বার নির্বাচনী স্লোগানে খানিক বদল এনেছেন তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালে বলেছিলেন, ‘খেলা হবে।’ সেটি আরও এক ধাপ বেড়ে হয়েছে, ‘দুরন্ত খেলা হবে।’ ২০১১ সালে মমতার স্লোগান ছিল ‘বদলা নয়, বদল চাই’। অর্থাৎ হিংসার পাল্টা হিংসা নয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন রাজ্যে। এ বার মমতা জানাচ্ছেন, বদল নয়, বদলা প্রয়োজন বাংলাকে খাটো করার বদলা। বাংলাভাষীদের ভিন্রাজ্যে হেনস্থার বদলা। মমতার অভিযোগ, বিজেপির কথায় কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। আবার তাদের কথা মতো রাজ্যের পুলিশের একাংশও শাসকদলের বিরুদ্ধে কাজ করছে। ভোটের ফলপ্রকাশের পর সেই পুলিশকর্তাদের ‘মনে রাখা হবে’ বলে ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে মমতা নিশ্চিত, এ বার আরও বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে চতুর্থ বার রাজ্যে ফুল ফোটাবে তৃণমূল। শেষ দফা ভোটের শেষ দিনের প্রচারে মমতা কোনও সভা করেননি। মোট তিনটি পদযাত্রা করেছেন তিনি দক্ষিণ কলকাতার সুকান্ত সেতু থেকে ঢাকুরিয়া, গোলপার্ক থেকে গড়িয়াহাট এবং হাজরা থেকে গোপালনগর মোড়।
দ্বিতীয় দফায় শাহ মোট ১০টি সভা করেছেন পশ্চিমবঙ্গে। প্রত্যেকটি জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তৃণমূলের ‘গুন্ডা’দের একটিই ‘দাওয়াই’ দিয়েছেন ৪ মে-র পর উল্টো করে সোজা করবেন। প্রতিটি প্রচারসভা থেকে তিনি হুঙ্কার দিয়েছেন, ২৯ এপ্রিল, শেষ দফার ভোটে তৃণমূলের কোনও নেতা যদি বিজেপির কর্মী তথা সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখাতে যান ৫ মে-এর পরে তাদের উল্টো করে ‘সিধা’ করা হবে। সোমবার প্রচারের শেষ দিনে শাহের কর্মসূচি শুরু হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে। বিজেপি প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁয়ের সমর্থনে ‘রোড শো’ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই কেন্দ্রে ইন্দ্রনীলের প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের রত্না চট্টোপাধ্যায় এবং সিপিএমের নীহার ভক্ত। তার পর শাহ চলে যান হুগলির চন্দননগরে। তার আগে কপিল মুনির মন্দিরে পুজো দেন শাহ। তাঁর গঙ্গাসাগর সফরে উপস্থিত ছিলেন সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুমন্ত মণ্ডল। বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন গুহের সমর্থনে শেষ দফার শেষ প্রচারে বাগবাজার থেকে লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ‘রোড শো’ করেন। সংক্ষিপ্ত ভাষণে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তৃণমূলকে আক্রমণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভোট শেষে সাত দিন বাংলায় সিআরপিএফ। সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পারছি, হিংসা হতে পারে। তবে আপনারা চিন্তা করবেন না। এ বার কোনও হিংসার ঘটনা ঘটবে না।’’





