RK NEWZ হাড্ডাহাড্ডিভাবে ম্যাচ শেষ হলেও সুপার ওভারে হেসেখেলে জিতেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। সুপার ওভারে মাত্র এক রান তাড়া করতে নেমে রিঙ্কু চার মেরে দলকে জিতিয়ে দেন। ম্যাচে সেরা রিঙ্কু হলেও আসল নায়ক অবশ্য অন্য একজন। তিনি সুনীল নারিন। সুপার ওভারে তাঁর তিনটে বুদ্ধিদীপ্ত বলেই ম্যাচ জিতে যায় কেকেআর। তবে এই সুপার ওভারে জয়ে যতটা না কৃতিত্ব সুনীল নারিনের তার থেকেও বড় ব্যর্থতা লখনৌ সুপার জায়ান্টসের ম্যানেজমেন্টের। তাদের ভুল প্লেয়ার বাছাইয়ের জন্যই এই ছবি। সুপার ওভারে লখনৌ দুই উইকেট হারিয়ে মাত্র এক রান তোলে। প্রথম বলে সুনীল নারিন ফেরান নিকোলাস পুরানকে এবং এর পর ঋষভ পন্থ এক রান নেন। আর তৃতীয় বলে তিনি আউট করেন আইডেন মারক্রামকে। সামনে যখন সুনীল নারিনের মতো বোলার তখন নিকোলাস পুরানকে ব্যাটিংয়ে পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারণ, পুরান ম্যাচে ১২ বলে মাত্র ৯ রান করে আউট হন। এই বিষয়ে ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে এলএসজি-র কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার বলেন, ‘নিকোলাস পুরান বাকিদের থেকে সুনীল নারিনকে বেশি খেলেছে। তাই আমরা ভেবেছি ও সেরা বিকল্প হবে। আমি জানি ও ফর্মে নেই, কিন্তু পুরান নিজেই প্রথমে খেলতে চায়। আমরা তাই ওর পাশে থেকেছি। সুনীল নারিনের থেকে নিকোলাস পুরানকে কেউ ভালো খেলেননি।’
টি২০ ক্রিকেটে সুপার ওভারে নিকোলাস পুরান বনাম সুনীল নারিন
২০১৪ সালের সিপিএল: ৫ বল খেলে রান করতে পারেননি
২০২১ সালের সিপিএল: ২ বলে ১ রান
২০২৬ সালের আইপিএল: ১ বলে শূন্য রান ও আউট
সুপার ওভারে নিকোলাস পুরান ও সুনীল নারিনের মধ্যে ডুয়েলে ৮ বলে এসেছে ১ রান ও দু’বার আউট হয়েছেন তনি। সুপার ওভারে নিকোলাস পুরানের রেকর্ড ভালো না। তিনি এখনও পর্যন্ত ১০ বল খেলে ১ রান করে ৫ বার আউট হন। আইডেন মারক্রামের রেকর্ডও ভালো নয় সুনীল নারিনের বিরুদ্ধে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, দলে ঋষভ পন্থ, মিচেল মার্শ, মুকুল চৌধরির মতো প্লেয়ার থাকলেও কেন সুপার ওভারে ফ্লপ প্লেয়ারদের এগিয়ে দেওয়া হলো? সবার শেষে কাঠগড়ায় সেই এলএসজি-র স্ট্র্যাটেজি।
রবিবার ২৬ এপ্রিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের জন্য আবারও আলো হয়ে উঠলেন রিঙ্কু সিং। শুধু ব্যাট হাতে নয়, ফিল্ডিংয়েও তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ভূমিকা নেন। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তাঁর উপস্থিতি ম্যাচে ফেরায় কেকেআর-কে, যা শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে টিকে থাকতে বড় ভরসা জোগায় নাইটদের। রিঙ্কুর দুরন্ত ক্যাচের সৌজন্যেই সাজঘরে ফেরেন মার্কর্যাম। লং অফের দিকে শট খেললেও বলটা ঠিক ভাবে ব্যাটে-বলে হয়নি। তাই ছক্কা মারতে গিয়েও একটু খামতি থেকে যায়। সেই সময়ে রিঙ্কু অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধি দেখিয়ে ক্যাচ ধরে দলকে বড় ব্রেকথ্রু এনে দেন। আসলে মার্কর্যামের শট বাউন্ডারির ধারে লুফেও শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পেরে, বাউন্ডারি লাইনের বাইরে বেরিয়ে যান রিঙ্কু। সেই সময় তিনি বলটি উপরে ছু়ড়ে দিয়েছিলেন। এর পর চোখের পলকে মাঠের ভেতরে এসে সেই ক্যাচ ধরেন। ২৭ বলে ল৩১ করে সাজঘরে ফিরতে হয় মার্কর্যামকে, যেটা লখনৌয়ের জন্য বড় ধাক্কা হয়। মার্কর্যাম আউট হওয়ার পরেই একে একে সাজঘরে ফেরেন পন্থ, নিকোলাস পুরানরা। ফলে চাপে পড়ে যায় লক্ষণৌ। সুনীল নারিন প্রথম বারের মতো আইপিএল-এ আউট করেন লখনৌ অধিনায়ক ঋষভ পন্থকে। আর বরুণ চক্রবর্তী ফেরান নিকোলাস পুরানকে। ইনিংসের শুরুতে নাইটরা রান তুলতে সমস্যায় পড়ে। তবে পরে ক্রিজে এসে রিঙ্কু সিং ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান। বিশেষ করে ডেথ ওভারে তিনি সুনীল নারিনের সঙ্গে ৮ নম্বর উইকেটে ৬০ রানের বেশি পার্টনারশিপ গড়ে দলকে বড় সহায়তা করেন। মাত্র ৫১ বলে অপরাজিত ৮৩ রান করেন রিঙ্কু। মারেন ৭টি চার এবং ৫টি ছক্কা। সুনীল নারিন ৬ বলে অপরাজিত ৪ করে কিছুটা সঙ্গ দেন এবং ইনিংস শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান। রিঙ্কুর ব্যাটিংই পুরো ম্যাচের চেহারা বদলে দেয়। রিঙ্কু ছাড়া ক্যামেরন গ্রিন করেন ২১ বলে ৩৪ রান। আর ১০ করেন অজিঙ্ক রাহানে। বাকিরা কেউ দুই অঙ্কের ঘরেই পৌঁছতে পারেননি।





