Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘জেন জি-র উপর নির্যাতন বন্ধ করুন’! আশুতোষ-সৌরভের হেফাজতে কেন্দ্রকে ‘গণতন্ত্রের খুনি’ আখ্যা মমতার

RK NEWZ দেশজুড়ে চলা পুলিশি দমনপীড়ন। এক্স হ্যান্ডলে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা লেখেন, “আশুতোষ ও সৌরভের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর এই মরিয়া ও সংকীর্ণ মানসিকতা আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি। গণতন্ত্রকে প্রতিদিন আক্রমণ করার জন্য এটি একটি বিপজ্জনক ‘ভাইরাস’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জেন জি-র ছেলে-মেয়েদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করুন। আজ যাঁরা ক্ষমতার মসনদে বসে আছেন, তাঁরা চিরকাল ক্ষমতায় থাকবেন না।” দেশজুড়ে চলা পুলিশি দমনপীড়ন নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তিনি আরও লেখেন, “কলকাতা থেকে দিল্লি, মুম্বই – সারা দেশ জুড়ে নির্যাতন ও অত্যাচারের মাত্রা সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের পূর্বসূরিরা যখন ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন তাঁদেরও চরম অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল এবং তবুও তাঁরা পরম নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন।” খুব স্পষ্ট ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মত, “এটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাস। এগুলি পুলিশ-স্পন্সরড অত্যাচার। এই ধরনের জবরদস্তি বেশি দিন টেকে না। যখন আদর্শবাদী মানুষরা ‘ভারতকে বাঁচাও, গণতন্ত্রকে বাঁচাও’ এই স্লোগান তুলে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়াবেন – শুধুমাত্র তখনই সরকারের এই অহংকারী ও অন্ধ রাজনীতিবিদদের চোখ খুলবে। তবে ততক্ষণে দেশের সাধারণ মানুষ জয়ী হয়ে যাবেন এবং গণতন্ত্রের এই খুনিদের পতন সম্পূর্ণ হবে।”

সবশেষে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল নেত্রী লিখেছেন, “আপনারা যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তবে অবিলম্বে আশুতোষ এবং সৌরভকে মুক্তি দিন।” রাজধানী দিল্লিতে ভোটারের বিশেষ সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকার বিরুদ্ধে জেন জি-র তরুণদের নেতৃত্বে যে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়েছে, তাকে প্রথম থেকেই সমর্থন জানিয়ে আসছেন মমতা। এর আগে প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটকও হতে হয়েছিল তাঁকে। এ বার সিজেপি নেতাদের হেফাজত বৃদ্ধি নিয়ে তাঁর এই বিস্ফোরক পোস্ট জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। যন্তর মন্তরে ঢুকে জাতীয় পতাকা তোলা ও স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। ৫ দিনের হেফাজত শেষে সোমবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে ককরোচ নেতাদের জেল হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ান হল। ফলে এখনই জেল থেকে মুক্তি হচ্ছে না তাঁদের। যন্তর মন্তরকে নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থলের স্বীকৃতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই সেখানে ঢুকেছিলেন বলে দাবি সিজেপির। দলের অভিযোগ, দুই নেতাকে আটকে রাখতে ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়া। ১৩ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরের তালাবন্ধ গেট টপকে ভিতরে ঢোকার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল আশুতোষ ও সৌরভকে। সম্প্রতি যন্তর মন্তরকে নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে সিজেপি। তার মধ্যেই সেখানে ঢোকার অভিযোগে গ্রেফতার হন দলের দুই নেতা। আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের পুলিশি হেফাজত মেয়াদ বাড়ানোর তীব্র নিন্দা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স-এ একটি কড়া ও দীর্ঘ পোস্ট করে মোদী সরকারকে কড়া আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাস’ ও ‘পুলিশি অত্যাচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে ওই তরুণ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তুলেছেন মমতা।

‘আইন ভাঙাটাই অভ্যাস, সম্মান করে না’, আশুতোষ-সৌরভের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দিল্লির আদালত। ককরোচ জনতা পার্টির দুই নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার জেল হেফাজতের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে আদালত। সেই সিদ্ধান্তের তুমুল বিরোধিতা করেছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর কথায়, খুনে দোষী সাব্যস্তকে মুক্তি দিচ্ছে আদালত কিন্তু ককরোচ নেতাদের জামিন মঞ্জুর করছে না। অন্য়দিকে আদালত একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছে আশুতোষ এবং সৌরভের বিরুদ্ধে। স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট সোমবার জানিয়েছে, দুই ককরোচ নেতাকে আরও দুই দিন জেল হেফাজতে থাকতে হবে। কারণ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নেই তাঁদের। আদালতের নির্দেশপত্রে আরও বলা হয়েছে, আমজনতাকে রীতিমতো প্রভাবিত করেছেন এই দুই ককরোচ নেতা। যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরেও সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে ‘উসকানি’ দিয়েছেন তাঁরা। আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, শান্তিভঙ্গকারী কাজ করবেন না, এই শর্তে ১১ অক্টোবর ছাড়া পেয়েছিলেন দুই নেতা। তা সত্ত্বেও যন্তর মন্তর এবং কনট প্লেসের মতো জায়গায় আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। আদালতের কথায়, দুই ককরোচ নেতা আইনের প্রতি কোনও সম্মান দেখাননি। আমজনতার শান্তি এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী হিসাবেও দুই ককরোচ নেতাকে দেখছে আদালত। প্রতিবাদের জন্য নির্দিষ্ট নয় এমন জায়গায় বারবার কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি। সেই দেখে আদালতের মত, আইন ভাঙাটাই এই নেতাদের অভ্যাস। তাই আগামী দিনে জামিন পেয়ে এই দুই নেতা ফের আইন ভাঙবেন না, সেটায় নিশ্চিত হতে পারছে না আদালত। সেকারণেই আবারও দু’জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে জেলে। আগামী বুধবার দুই সিজেপি নেতাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হবে। পুলিশি নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন সিজেপির দুই শীর্ষ নেতা আশুতোষ ও সৌরভ। সেখানে তাঁরা তেরঙ্গা ওড়ান। এরপরই তাঁদের গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। দুই নেতাকে ৫ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। সোমবার দিল্লি পুলিশ দুই সিজেপি নেতার জেল হেফাজতের মেয়াদবৃদ্ধির আবেদন জানায়। তা মঞ্জুর করেন ম্যাজিস্ট্রেট। ককরোচদের তোপ, নেতাদের কারাবন্দি রাখার উদ্দেশ্যেই মামলার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles