RK NEWZ সম্পূর্ণ মকুব করে দেওয়া হল হাওড়া পুরসভার বাসিন্দাদের বকেয়া সম্পত্তি করের উপর সুদ ও জরিমানা। এর ফলে হাওড়া পুর এলাকার প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার সম্পত্তি করদাতা উপকৃত হলেন। তাঁদের আর বকেয়া সম্পত্তি করের উপর সুদ কিংবা জরিমানা দিতে হবে না। পুরসভা সূত্রে খবর, এর ফলে পুরসভার রাজস্ব বাড়বে। পুর তহবিলে প্রায় ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বকেয়া কর আদায় হবে। প্রসঙ্গত, হাওড়া পুরসভায় বর্তমানে বকেয়া সম্পত্তি করের পরিমাণ প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা। হাওড়া পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, এই ওয়েভার স্কিম ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকরি থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দিয়েছিলেন। তার পরই বড় পদক্ষেপ। পুর আধিকারিকরা মনে করছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য করদাতারা উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে হাওড়া পুরসভার রাজস্ব ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। হাওড়া পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর সম্পত্তি কর বকেয়া রয়েছে। অনেকেই এই সম্পত্তি কর পরিশোধে আগ্রহ প্রকাশ করেন না। নাগরিকদের সম্পত্তি কর জমা দেওয়ার জন্য আগ্রহী করে তুলতেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে হাওড়া পুরসভা এই ধরনের ‘ওয়েভার স্কিম’ চালু করল। পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ৪র্থ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত বকেয়া থাকা করদাতারা শর্তসাপেক্ষে সুদ ও জরিমানা মকুবের সুবিধা পাবেন। এছাড়া আবাসিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে যোগ্য মূল করের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন করদাতারা। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, ”হাওড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের একটা দাবি ছিল, হাওড়াতে ‘ওয়েভার স্কিম’ আনা হোক। এই শহরে বহুদিন বহু বছর ধরে লোক সম্পত্তি কর দেয় না। কিছু জটিলতা ছিল। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী এই আবেদন স্বীকার করে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়ার পর এবার আমরা এই ওয়েভার স্কিম চালু করলাম।’’ পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, বাড়িতে বসে অনলাইনে এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন করদাতারা। যাঁরা অনলাইনে পারবেন না, তাঁরা হাওড়া পুরসভায় গিয়েও বকেয়া কর মিটিয়ে দিয়ে এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া এই প্রকল্পের সুবিধা কীভাবে পাওয়া যাবে সে সংক্রান্ত সহায়তা নিতে করদাতারা হাওড়া ময়দানে পুরসভার মূল দপ্তরেও যেতে পারেন। সেখানে তাঁদের জন্য হেল্প ডেস্কও খোলা থাকবে।
পুরসভার বাসিন্দারা কী কী সুবিধা পাবেন?
১) ১০০ শতাংশ সুদ মকুব!
২) ১০০ শতাংশ জরিমানা মকুব!
৩) আবাসিক সম্পত্তি করের ক্ষেত্রে মূল করের উপর ১০ শতাংশ ছাড়
কী ভাবে ট্যাক্স পরিশোধ করা যাবে?
অনলাইনে OPTICS – Property Tax Online (Citizen Entry) পোর্টালের মাধ্যমে সম্পত্তি কর পরিশোধ করা যাবে।
এই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের জেলার নাম, নিজের পুরসভার নাম, ওয়ার্ড নম্বর, লোকেশন বাছাই করতে হবে।
এর পরে আপনার হোল্ডিং নম্বর দিতে হবে। এর পরেই আপনার কত ট্যাক্স বাকি রয়েছে সেই সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে পারবেন। সেখানেই অনলাইনে আপনি হিসাব অনুযায়ী বকেয়া অর্থ জমা দিতে পারবেন।
অফলাইনে কী ভাবে ট্যাক্স পরিশোধ হবে?
হাওড়া পৌর নিগমের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট বরো অফিসগুলিতে অবস্থিত Property Tax Collection Counter-এ গিয়েও কর পরিশোধ করা যাবে।
কোনও তথ্য বা সহায়তার প্রয়োজন হলে WhatsApp অথবা মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ হেল্পলাইন নম্বর: 7001531503
হাওড়া পুরসভার
১. হাওড়ায় সম্পত্তি করের ওয়েভার স্কিম কতদিন চালু থাকবে?
হাওড়া পুরনিগমের ওয়েভার স্কিম ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত চালু থাকবে।
২. সম্পত্তি করের কত শতাংশ সুদ মকুব হবে?
ওয়েভার স্কিমের আওতায় বকেয়া মূল করের উপর জমা সুদের ১০০ শতাংশ মকুব করা হবে।
৩. জরিমানা বা পেনাল্টির ক্ষেত্রে কী ছাড় রয়েছে?
বকেয়া করের সঙ্গে জমা হওয়া জরিমানা ও পেনাল্টির ১০০ শতাংশ মকুবের সুবিধা রয়েছে।
৪. আবাসিক সম্পত্তির জন্য অতিরিক্ত কী সুবিধা রয়েছে?
আবাসিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে মূল বকেয়া করের উপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।
৫. হাওড়ায় অনলাইনে সম্পত্তি কর কীভাবে দেওয়া যাবে?
OPTICS Property Tax Online পোর্টালে গিয়ে জেলা, পুরসভা, ওয়ার্ড ও লোকেশন নির্বাচন করে হোল্ডিং নম্বর দিতে হবে। এরপর বকেয়া করের হিসাব দেখে অনলাইনেই পেমেন্ট করা যাবে।
পুজোর মুখে কলকাতাবাসীর জন্য সুখবর, পুরসভার বকেয়া সম্পত্তি করে সুদ-জরিমানা মকুব
পুরভোটের দু’মাস আগে মহানগরবাসীর জন্য বড়সড় সুখবর দিল রাজ্য সরকার। নাগরিকদের বকেয়া সম্পত্তি করের উপর সুদ ও জরিমানায় ১০০ শতাংশ মকুব করার জন্য কলকাতা পুরসভার প্রস্তাবে অনুমোদন দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার থেকেই পুরকরের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘোষণা করেছেন পুরকমিশনার তথা পুরপ্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে। জানিয়েছেন, ‘‘আগামী ৩১ মার্চ, ২০২৭ পর্যন্ত বকেয়া সম্পত্তিকর মেটাতে চাইলে তবেই জমে থাকা সুদ ও জরিমানায় ছাড়ের সুযোগ পাওয়া যাবে। অবশ্য যদি কেউ কিস্তিতে বকেয়া করের টাকা মেটাতে চান, সেই সুযোগও দেবে পুরসভা।’’ তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য, ওয়েভার স্কিম চালু হলে এবার কলকাতার বকেয়া সম্পত্তি করদাতার ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২৮৮ জন উপকৃত হবেন।
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) ও বিধানসভা নির্বাচন এবং ভোটপরবর্তীতে নানা সামাজিক প্রকল্পে পুরকর্মীরা টানা ১০ মাস পুরকর্মীরা ব্যস্ত থাকায় সম্পত্তি-কর আদায় তলানিতে ঠেকেছে। শুধু তাই নয়, অনলাইন সার্ভার টানা তিন সপ্তাহের বেশি বিকল থাকায় পুরকর জমা দিতে এসেও একাধিকবার ফিরে গিয়েছেন বহু নাগরিক। স্বভাবতই কর্পোরেশনের কোষাগারের বেহাল দশা ফেরাতে ও আগামী ২৮ নভেম্বর প্রস্তাবিত পুরভোটের আগে বাসিন্দাদের মুখে হাসি ফেরাতে ‘ওয়েভার স্কিম’ চালুর প্রস্তাবে সায় দিয়েছে নবান্ন। পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানান,‘‘সমস্ত সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত মালিকানার সম্পত্তি এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পত্তিতে বকেয়া করের উপর সুদ ও জরিমানায় ১০০ শতাংশ ছাড় মিলবে। আবার যদি কোনও সম্পত্তিতে বসবাস ও ব্যবসা একইসঙ্গে চলে, সেক্ষেত্রে সুদের উপর ৮০ শতাংশ এবং জরিমানায় ৯৯ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে।’’ কলকাতার সমস্ত বাণিজ্যিক ভবন ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কথা মাথায় রেখেও বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেকথা উল্লেখ করে পুরপ্রশাসক জানান,‘‘সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সম্পত্তির ক্ষেত্রে সুদের উপর ৭০ শতাংশ ও জরিমানায় ৯৯ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে। আগামী, ছ’মাস অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বকেয়া পুরকর মেটাতে চাইলে তবেই ওয়েভার-স্কিমে এই ছাড় পাবেন আবেদনকারীরা।’’ এর আগেও সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমরা মেয়র থাকাকালীন এমন ওয়েভার স্কিম চালু হয়েছে। পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে বকেয়া সম্পত্তি করের পরিমান ৬৮৫৪.২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল পুরকর ৩১৩৮.৭৬ কোটি এবং সুদের পরিমান ৩৩১৪.১৩ কোটি টাকা। আর জরিমানা বাবদ ধার্য রয়েছে ৪০০.৩৮ কোটি টাকা। ওয়েভার স্কিম চালু হলে এই সুদ ও জরিমানা বাবদ অর্থ পাবে না তবে মূল ধার্য পুরকরের অনেকটাই পুরসভার কোষাগারে আসবে বলে দাবি পুরপ্রশাসকের।



