Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ভোটের পরদিনই ‘নাকের জলে চোখের জলে’ দশা হুমায়ুন কবীরের! কথা রাখেননি শুভেন্দু,‘গদ্দারি’পুত্রর! রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুনের

RK NEWZ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর পুলিশের সমালোচনা করে হুমায়ুন কবীর জানান, রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। বিকেলে রেজিনগরের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে প্রার্থী-পুত্রকে একহাত নিয়েছেন। পাল্টা পুত্র বাবাকে ‘ফ্রাস্ট্রেটেড’ বলেছেন। বিধানসভা নির্বাচনে দুটো আসনে লড়েছিলেন নিজে। জিতেছিলেন দুটোতেই। প্রায় ৫৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন রেজিনগরে। নওদার বিধায়ক হওয়ার পর বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন, পারলে উপনির্বাচনে রেজিনগর বার করে দেখাক তারা। কিন্তু সেই কেন্দ্রে ভোটের পরদিনই ‘নাকের জলে চোখের জলে’ দশা হুমায়ুন কবীরের! কখনও মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি ‘অভিমানী’ নওদার বিধায়ক বলছেন আর বিধানসভায় যাবেন না। কখনও কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, আর রাজনীতিই করবেন না। তার পর উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী, পুত্র গোলাম নবি আজ়াদকেই ‘গদ্দার’ বলে বসলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা! রেজিনগরে ভোট শুরুর খানিকক্ষণের মধ্যেই রাজ্য পুলিশকে একহাত নিয়েছিলেন হুমায়ুন। অভিযোগ, শাসকদলের হয়ে পুলিশই ভোটে ‘রিগিং’ করছে। পুলিশের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের পর আটক হন। সন্ধ্যায় ছাড়া যখন পেলেন, তখন ভোটগ্রহণও সমাপ্ত। তার আগেই রেজিনগরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হার স্বীকার করে বসেছেন। বলেছেন, আর ৯ অক্টোবরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। ফল তাঁর জানা।

বুধবার সকালে আবার একপ্রস্ত বিজেপি, মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশকে দুষে হুমায়ুনও বলে দেন, রেজিনগর এ বার পদ্মশিবিরেরই। বিপুল ভোটে জয়ী হবে শুভেন্দুর দল। তার পর ঝর ঝর করে কেঁদেছেন হুমায়ুন। চোখ মুছে বলেছেন, এমন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আর রাজনীতি করার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি এ-ও দাবি করেছেন, ভোটের আগে একদিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বলেছিলেন তাঁর পুত্রই প্রায় ৩০ হাজার ভোটে রেজিনগরে জিতবেন। কিন্তু কথা রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তিনি তো রাজনৈতিক বিরোধী? বোঝাপড়া হয়েছিল? জবাব না দিয়ে হুমায়ুন চলে যান বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গে। তিনি জানান, মুর্শিদাবাদে বাবরির প্রতিষ্ঠা করবেনই। এ ব্যাপারে তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তার পর বিকেল গড়াতেই ছেলের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁকে ‘গদ্দার’ বলেন হুমায়ুন। শুধু তা-ই নয়, পুত্রকে পরামর্শ দিয়েছেন পারিবারিক ব্যবসা দেখার। রাজনীতি তাঁর কর্ম নয়। পুত্র সটান বাবাকে ‘ফ্রাস্ট্রেটেড’ (হতাশ) বলে বসেছেন। গোলাম ওরফে রবিনের দাবি, মঙ্গলবার পুলিশের হাতে হেনস্থা হওয়ার পর তাঁর বাবা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। হতাশা এবং অভিমান থেকে এ সব বলছেন।

কিন্তু হুমায়ুনের বিশ্বাস, ছেলেই পিছন থেকে ছুরিটা মেরেছেন। কী ভাবে? আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান জানান, ভোটে জিতে অন্য কেউ দল বদলে ফেলতে পারেন, এই ভেবে নিজের ছেড়ে দেওয়া আসনে ছেলেকে প্রার্থী করেছিলেন। বাধার মুখে দাঁড়িয়েও ভোটপ্রচার করেছেন। কিন্তু ছেলে লড়াই করার মনোভাবই দেখাননি। তিনি জানান, মঙ্গলবার পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর পুত্রকে বার্তা দিয়েছিলেন, রেজিনগরের পার্টি অফিসের দখল যেন থাকে। কর্মীদের মনোবল যেন বজায় রাখেন তিনি। কিন্তু তাঁর আটক হওয়ার পর সাহসিকতা দেখানো তো দূরঅস্ত্, ভয় পেয়ে দলীয় কর্মীদের বুথ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন গোলাম! ওই কথা বলতে গিয়ে বিরক্তি ফুটে ওঠে হুমায়ুনের চোখেমুখে। তাঁর কথায়, “ভাবতেই পারিনি ও এ রকম কাজ করবে। কর্মীরা যাতে লড়াই থেকে সরে যায়, প্রত্যেকে যাতে বাড়ি ফিরে যায়, ভোটের সময় সেটাই বলেছে! সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করেছে ও। এটা তো রাজনৈতিক ভাবে একপ্রকার গদ্দারি।’’ এখানেই থামেননি গোলামের পিতা। পুত্রের উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘ওর মতো ভিতু ছেলে রাজনীতিতে কিছুই করতে পারবে না।” আবার শুভেন্দু এবং তাঁর পুলিশ-প্রশাসনের সমালোচনা করে জানান, আসলে ছেলের উপর আস্থা রাখাটাই তাঁর মস্ত ভুল ছিল। বাবার এ হেন আক্রমণে চুপ থাকেননি গোলাম। তবে সংঘাত এড়াতে চেয়েছেন। তিনি নরম গলায় বলেছেন, তাঁর বাবার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন। কিন্তু কখনও এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি কখনও হতে হননি তিনি। গোলামের কথায়, ‘‘একজন নির্বাচিত বিধায়ককে থানার ওসি জামার কলার ধরে পুলিশভ্যানে তোলার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। বাবা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন। এমন রাজনীতি দেখে বাবা চরম ফ্রাস্ট্রেটেড (হতাশ)। সেই কারণেই হয়তো আমার উপর অভিমান থেকে এই কথা বলছেন।” তিনি আরও জানান, ভোটের লড়াই জিততে গিয়ে নিজের বা দলের কোনও কর্মীর ক্ষতি হোক, তা তিনি চাননি। যদিও পিতা-পুত্র দু’জনেই ফলঘোষণার আগে ফলের আশা ছেড়েই দিয়েছেন।

রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার অবশ্য দাবি করেন, এই সব বলার পিছনে হুমায়ুনের কোনও অভিসন্ধি রয়েছে। তাঁর কটাক্ষ, ​‘‘পরিস্থিতি অনুযায়ী নাটক করায় উনি ওস্তাদ। অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে যে অপশব্দ ব্যবহার করেছেন, মানুষ তার ফল ওঁকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। নিশ্চিত হার বুঝতে পেরে সহানুভূতি কুড়োতে এখন নতুন নতুন নাটক করছেন। সুযোগ পেলে আবার ধর্মের তাস নিয়ে মাঠে নেমে পড়বেন। ওঁদের বাবা-ছেলে, কারও কথার কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই রাজনীতিতে।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles