Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘‌প্রোমোটার’‌ শতদ্রু দত্ত তারকাদের আনেন এই পর্যন্তই! আমরা ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করি, তারকা আনি না :‌ সৌরভ

RK NEWZ লিয়োনেল মেসি কয়েক মিনিটের জন্য হাত নাড়বেন আর সেটা দেখার জন্য মোটা টাকা খরচ করতে অসুবিধে নেই। কিন্তু ভিনিসিয়াসের মতো তারকার খেলা দেখতে টাকা খরচ করতে আপত্তি থাকা উচিত নয়। দুটোর মধ্যে তফাৎ আছে। ওটা তো ফুটবল ম্যাচ ছিল না। ওটা একটা ইভেন্ট ছিল। ওটা কোনও খেলা ছিল না। এখানে ভিনিসিয়াস জুনিয়র খেলতে আসছেন, দর্শকদের জন্য হাত নাড়াতে আসছেন না। এখানে নাচ-গান হবে না। এটা সিরিয়াস ফুটবল ম্যাচ। এটাই ইউএসপি। বললেন সৌরভ চট্টোপাধ্যায়। ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের যাঁর উদ্যোগে যুবভারতীতে দেখা যাবে, তিনি ‘বেস্ট অফ ইউ’ সংস্থার ভারতের ফাউন্ডার-ডিরেক্টর। তিনি অভিনেত্রী, সাংসদ জুন মালিয়ার স্বামী। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে কলকাতায় ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি করিয়েছেন তিনিই। জন্ম, বড় হওয়া কলকাতায়। তারপর মুম্বইয়ে স্টার স্পোর্টসে বিজ্ঞাপনের চাকরি। কিন্তু মনের মধ্যে ছিল খেলাধুলোর প্রতি ভালবাসা। ফুটবল নিয়ে কাজ করতে করতেই স্পেনের ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ। সেই যোগাযোগ বাড়তে বাড়তে লাতিন আমেরিকায়। ব্রাজ়িলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তির সঙ্গে ‘বেস্ট অফ ইউ’-এর মাদ্রিদের ডিরেক্টরের খুব ভাল সম্পর্ক ও সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে (এআইএফএফ) জানিয়ে জুনে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরই সম্ভব হয়েছে। ব্যাপারটা বাস্তবায়িত করতে অনেক বিনিদ্র রজনী কেটেছে। পাশিপাশি সহকর্মী অনুজ কিচলুর পরিশ্রম। ফিফা উইন্ডোতে এই ম্যাচ হচ্ছে। ফিফার বিশেষ ভূমিকা নেই। সংশ্লিষ্ট দুই দেশের ফেডারেশনের মধ্যে হয়। যে কেউ যে কারও সঙ্গে খেলতে পারে। র‌্যাঙ্কিংয়ে কারা উপরে, কারা নীচে এগুলো একেবারেই দেখা হয় না। এরকম কোনও নিয়ম নেই। পুরোটাই নির্ভর করে, সেই সময় কাদের পাওয়া যাবে। ভারতে আসার আগে ব্রাজিল অস্ট্রেলিয়ায় খেলবে বলে সুবিধে হয়েছে। মোটামুটি একই প্রান্তে খেলা। উরুগুয়ের খেলা কোরিয়ায়। পানামা খেলেছে জাপানে। যখন ব্রাজিল ম্যাচের আয়োজনের চেষ্টা চলছে, তখনই ভারত আশিয়ান কাপ থেকে নাম তুলে নেওয়ার ফলে এই তিন দলকেও হাতের কাছে পাওয়া সম্ভব হয়ছে। আর এথানে, ম্যাচ ছাড়া আর কিছু হবে না। ফিফার প্রোটোকল মেনে দুটো পরিপূর্ণ ফুটবল ম্যাচ হবে। এখানে ম্যাচটাই আসল এবং এটাই সবচেয়ে বড় ইভেন্ট। অন্য কোনও কিছু করে ম্যাচের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া নয়। কোনও শো-তামাশা হবে না। সিরিয়াস ফুটবল ম্যাচ হবে। লিয়োনেল মেসিকে নিয়ে যুবভারতীতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা আর ব্রাজিল ম্যাচ। দুটোর মধ্যে তফাৎ আছে। ওটা তো ফুটবল ম্যাচ ছিল না। ওটা একটা ইভেন্ট ছিল। ওটা কোনও খেলা ছিল না। এখানে ভিনিসিয়াস জুনিয়র খেলতে আসছেন, দর্শকদের জন্য হাত নাড়াতে আসছেন না। এখানে নাচ-গান হবে না। এটা সিরিয়াস ফুটবল ম্যাচ। এটাই ইউএসপি। এখানেও বলব, লিয়োনেল মেসি কয়েক মিনিটের জন্য হাত নাড়বেন আর সেটা দেখার জন্য মোটা টাকা খরচ করতে অসুবিধে নেই। কিন্তু ভিনিসিয়াসের মতো তারকার খেলা দেখতে টাকা খরচ করতে আপত্তি থাকা উচিত নয়। ভারতে আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকাদের আনা শতদ্রু দত্ত একজন প্রোমোটার। উনি তারকাদের আনেন। এই পর্যন্তই। এখানে ব্যাপারটা আলাদা। আমরা ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করি। আমরা তারকা আনি না। আমরা ফুটবলার আনি। আমরা ইভেন্ট করি না। আমরা ম্যাচ করি। ‘বেস্ট অফ ইউ’ সংস্থা একটা আন্তর্জাতিক এজেন্সি। প্রধান দফতর মাদ্রিদে। এছাড়া লাতিন আমেরিকার ব্রাজ়িল, কলম্বিয়া এবং ইউরোপের মাদ্রিদ ছাড়াও পর্তুগালে শাখা রয়েছে। দুবাই, চীনেও। ক্যাসেমিরো, জাবি আলোন্সো, করিম বেঞ্জিমা, দিয়াগো মিলিতাও এই সংস্থার ক্লায়েন্ট। এছাড়া লুই ফিগো, বড় রোনাল্ডো এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাবুর ঠিক উল্টো দিকে দফতর। ফলে রিয়াল, চেলসি, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের মতো ক্লাবের সঙ্গে ‘বেস্ট অফ ইউ’র খুব ভাল সম্পর্ক। প্লেয়ার, কোচেদের ম্যানেজ করা ছাড়াও নিজস্ব ফুটবল ক্লাব আছে। সেই মাবিয়া ক্লাব স্প্যানিশ লিগে তৃতীয় ডিভিশনে খেলে। ফলে ফুটবল বিশ্বে যথেষ্ট পরিচিত এই সংস্থার নিজস্ব এআই প্রযুক্তিও আছে। এর নাম অলোসিপ। বিভিন্ন ফুটবলার এবং ইউরোপের অধিকাংশ বড় ক্লাব এই সংস্থার এআই ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঠিক করে। প্যাশন ইউথ ডেভলপমেন্ট। সিইও অনুজের বিশ্বের নানা ক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় বাচ্চারা বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সুযোগ পাবে। এই জায়গায় ওর থেকে ভাল কেউ নেই। ভাল ফুটবলার খুঁজে বার করার চেষ্টা থাকবে, যারা বিদেশে গিয়ে ভারতীয় ফুটবলের নাম উজ্জ্বল করবে। মেয়েদের মধ্যে বালাদেবী প্রথম ভারতীয় হিসেবে বিদেশের ক্লাবে (গ্লাসগো রেঞ্জার্স) খেলেছে। এটা ‘বেস্ট অফ ইউ’-এর মাধ্যমে হয়েছে। ডায়নামো জাগ্রেবে আরও দু’জন খেলছে। মেয়েরা পারলে ছেলেরা পারবে না কেন? আশাবাদী। ব্রাজিলকে ভারতে খেলাতে উদ্যোক্তা ফেডারেশন। রাজ্য সরকারের কাছে বিরাট সুযোগ এরকম একটা ম্যাচ আয়োজন করার। ভারতে এখনও পর্যন্ত এটাই তো সবচেয়ে বড় ফুটবল ম্যাচ। রাজ্যের কাছে গর্বের ব্যাপার। নতুন সরকার। মাত্র কয়েক মাস হল ক্ষমতায় এসেছে। তার মধ্যেও দিন-রাত এক করে কাজ করছে। আশা, শীঘ্রই দেখা যাবে বিশ্বজয়ী স্পেনকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles