Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

জ্ঞানেশ-বিতর্কে জোরদার বিরোধীদের জোটধর্ম! ঐক্যবদ্ধ ভাবেই লড়াই, কে লাল,কে নীল,কে হলুদ দেখার দরকার নেই

RK NEWZ দিল্লিতে বৈঠকে বসছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের মাঝে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই বৈঠক থেকেই বিরোধী শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হতে পারে। ইতিমধ্যে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার। কথা হয়েছে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গেও। এ বার শনিবার বিকেলে শ্রীরামপুরের সভা থেকেও জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের ‘ঐক্য’ বোঝাতে চাইলেন মমতা। “সারা দেশ ঐক্যবদ্ধ। জোটবদ্ধ। আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবেই লড়াই করব। কে লাল, কে নীল, কে হলুদ দেখার দরকার নেই। নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতেই হবে। আমরা দেখব না ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’ না কি ‘জ়েড’ দল আন্দোলন করছে। আমরা দেখব ইস্যুটা। সেটা যদি মানুষের পক্ষে হয়, কোন পার্টি, কী কালার আমার দেখার প্রয়োজন নেই। আমরা থাকব তাদের সঙ্গে।”

কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক বরাবরই ভাল। রাহুলের সঙ্গেও সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে এ বারের বিধানসভা ভোটের আগে পর্যন্ত কংগ্রেসকে বিভিন্ন সময়ে খোঁচাও দিয়েছেন তিনি। বিধানসভা ভোটে বিজেপির জয়ের পরে অবশ্য ফের সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। তৃণমূলের ভোট বিপর্যয়ের পর মমতাকে ফোন করেছিলেন রাহুল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও ফোনে কথা হয় লোকসভার বিরোধী দলনেতার। ভিন্ন পথে শ্রীরামপুরে মমতা! নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে গেল পুলিশের গাড়ি, উত্তরপাড়ায় অশান্তির পর কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিধানসভা ভোট পরবর্তী সময়ে কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেন মমতা। সেখান থেকেও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের উদ্দেশে জোটবার্তা দেন তিনি। বাম এবং অতিবাম দলগুলিকে তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধার ডাক দিয়েছিলেন। এ বার সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মমতার আলোচনা ফের জাতীয় রাজনীতির পরিসরে দুই প্রতিপক্ষকে কাছাকাছি নিয়ে এল বলে মনে করছেন অনেকে। পূর্বের জোট-আহ্বানের কথা স্মরণ করিয়ে এ দিন মমতা বলেন, “আমি তো প্রথমেই বলেছিলাম, আসুন সবাই জোট বাঁধি। আসুন সবাই তৈরি হই। সে দিন অনেকেই অনেক কিছু বলেছিলেন।” রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাকে মিস্টার বেবি চিঠি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন— আমরা মনে করি এটা বড় ইস্যু। আসুন আমরা একসঙ্গে বসি।” তাঁর সংযোজন, “আমি সঙ্গে সঙ্গে বলেছিলাম— হ্যাঁ, আমি আপনার সঙ্গে একমত। চলুন একসঙ্গে আলোচনায় বসি।”

গত লোকসভা ভোটের আগে ২০২৩ সালে বিজেপি-বিরোধী দলগুলিকে এক ছাতার তলায় আনতে তৈরি হয়েছিল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। ওই বছরের জুনে পটনায় প্রথম বৈঠক বসেছিল। তার পরের মাসে বেঙ্গালুরু বৈঠকে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করে ‘ইন্ডিয়া’। দৃশ্যত দুর্বল হয়ে পড়া কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে ঘোষিত হয় ২৬টি বিরোধী দলের জোট। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট পরবর্তী পর্বে গত জুনে দিল্লিতে বৈঠকে বসেছিল ‘ইন্ডিয়া’। ওই সময়ে ২৩টি দল যোগ দিয়েছিল বৈঠকে। তৃণমূলের তরফে মমতা এবং অভিষেক উভয়েই ছিলেন গত জুনের জোট-বৈঠকে। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের সঙ্গে শরিকদের দ্বন্দ্ব ক্রমশ প্রকট হয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে বনিবনা না-হওয়ার কারণে ‘ইন্ডিয়া’র থেকে দূরত্ব বৃদ্ধি করতে শুরু করে কেজরীবালের দল। সিপিএম এবং ডিএমকে-র সঙ্গে, অতিসম্প্রতি ওমর আবদুল্লার ন্যাশনাল কনফারেন্সের সঙ্গেও কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। এ অবস্থায় জ্ঞানেশ-বিতর্ককে ‘হাতিয়ার’ করে বিরোধী দলগুলিকে ফের এককাট্টা করার চেষ্টা চালাচ্ছে ‘ইন্ডিয়া’। শনিবার শ্রীরামপুরের সভায় সেই চেষ্টাই ধ্বনিত হল মমতার গলায়।

‘ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো’
এসআইআর পর্ব থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকে নিশানা করে এসেছেন মমতা। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের প্রচারের সময়েও বার বার তোপ দেগেছেন জ্ঞানেশকে। এ বার নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর কলকাতার বাইরে প্রথম জনসভা থেকে ফের জ্ঞানেশকে বিঁধলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে সরব হন তিনি। বলেন, “ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো। যত দিন না যাবেন, আমাদের আন্দোলন চলবে।” পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও এ দিন ফের কমিশনকে নিশানা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তোপ দাগেন সীমা খন্নার বিরুদ্ধেও। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে মমতার দাবি, তাঁর দলই প্রথম সীমা খন্নার কথা প্রকাশ্যে এনেছিল।

‘আমরা হারিনি, জোর করে হারিয়েছে’
নির্বাচনে পর্যুদস্ত হওয়ার পর থেকেই মমতা বলে আসছেন, তাঁর দল হারেনি। এ দিন কমিশন এবং বিজেপি-কে বিঁধে ফের সেই একই দাবি করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আমরা হারিনি। আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে।” মমতার দাবি, নির্বাচনের সময়ে ইভিএম মেশিন, গণনাকেন্দ্র ‘হাইজ্যাক’ করা হয়েছে। “আস্তে আস্তে সবই বেরিয়ে আসবে। সত্য চাপা দিয়ে রাখা যায় না,” বলেন তিনি।

‘দিল্লি টলমল’! তোপ মমতার
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত হলেও জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-কে কোনঠাসা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মমতা। শনিবার শ্রীরামপুরের সভা থেকে ফের কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন তিনি। মমতার কথায়, “দিল্লি টলমল”। ২০২৯ সাল পর্যন্ত বিজেপি টিকবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। “ঝড় উঠেছে ঝড়। চার দিকে ঝড়। ঝড়ে খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে,” বলেন মমতা।

পুলিশকে হুঁশিয়ারি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যেতে গিয়ে ‘আক্রান্ত’ হলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম-পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন হয় যে গাড়ি ঘুরিয়ে কলকাতায় ফিরে আসতে হয় তাঁকে। মমতাকেও ঘুরপথে পৌঁছোতে হয় সভাস্থলে। পরে সভামঞ্চ থেকেও কুণালের উপরে হামলা নিয়ে সুর চড়ান তৃণমূল নেত্রী। শুধু তা-ই নয়, কালীঘাট তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদেরও পুলিশ হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। “আমি আসার আগে খবর পেয়েছিলাম, উত্তরপাড়া, জিটি রোড জ্যাম করে রেখে দেওয়া হয়েছে। যারা আসছিল, কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আমাদের বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। শ্রীরামপুরেও কাল রাতে সবার বাড়ি বাড়ি গিয়েছে পুলিশ,” বলেন মমতা।

বাহিনীকে নিশানা করে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “পুলিশ কিন্তু আমার শত্রু নয়। আমি মনে করি আপনারাও আমার পরিবারের অংশ। কিন্তু বিজেপি আপনাদের দিয়ে যে কাজটা করাচ্ছে— এক বার নিজের পরিবারকে, নিজের বিবেককে জিজ্ঞেস করে দেখবেন… আপনারা মানুষের পাহারাদান হোন। কিন্তু আপনারা আজ কী করছেন! আমাদের তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি গিয়ে গিয়ে সারারাত থ্রেট করেছেন।”

রাজ্য সরকারকে খোঁচা
এ দিনের সভা থেকে রাজ্যের বিজেপি সরকারকেও একহাত নেন মমতা। সরব হন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না-পাওয়াকে কেন্দ্র করে মহিলাদের একাংশের ক্ষোভ নিয়েও। যোজনার সব শর্ত কেন ভোটের আগে বলা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তৃণমূলনেত্রীর। তাঁর অভিযোগ, “মা-বোনেদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।” সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “এই ক’মাসে যা অত্যাচার দেখলাম, যমরাজও এত অত্যাচার করে না। এই চার মাসে কত লক্ষ কোটি টাকা লুট হয়েছে! মিষ্টির দোকান, বিরিয়ানির দোকানে গিয়ে বলছে টাকা চাই! কয়লা, জমি, বালির টাকা চাই।”

রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে পুলিশ সংখ্যালঘুদের ভোটার কার্ড ‘কেড়ে নিচ্ছে’ বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূলনেত্রী। বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আগেও বার বার সরব হয়েছেন তিনি। এ বার পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে মমতার দাবি, “যোগীরাজ্যেও এত অত্যাচার হয়নি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles