RK NEWZ সরকার ও শাসকদলের মধ্যে সমন্বয়ে যেন কোনও ফাঁকফোকর না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই বৈঠকের ডাক। পাশাপাশি পুজো মিটলেই পুর নির্বাচন। বৈঠকে এই বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে খবর। তাই এই ধরনের বৈঠক যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তা বলাই বাহুল্য। বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতির নিতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠকে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। সরকার ও দলের কাজের সমন্বয় নিয়েই দিল্লিতে এই বৈঠক বলে সূত্রের খবর। বৈঠকে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে চার মাস অতিক্রান্ত। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য হল রাজ্য প্রশাসন এবং বুথ স্তরের কর্মীদের মধ্যে অবাধ যোগাযোগ সুনিশ্চিত করা। রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীক ভট্টাচার্যের কাঁধে রয়েছে দলকে বুথ স্তর থেকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর দায়িত্ব। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান চ্যালেঞ্জ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের সরকারি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে যুক্ত রাখা। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের মাধ্যমে কেন্দ্র, রাজ্য ও দলের মধ্যে গতিশীল সমন্বয় নিশ্চিত করাই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য। দুর্গাপুজোর পর রাজ্যে পুরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বলে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহেই বহু প্রতীক্ষিত কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পুরভোটের কৌশল নির্ধারণ এবং প্রার্থী নির্বাচনের নীতি রূপায়ণে এই দিল্লির বৈঠকের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিশেষ বিমানে চড়েই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কলকাতায় ফিরে আসবেন বলে জানা গিয়েছে, যা শীর্ষ নেতৃত্বের ঐক্যবদ্ধ ভাবমূর্তির এক সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন ও পুরভোটের কথা মাথায় রেখে রাজ্য বিজেপির মিডিয়া বিভাগ ও মুখপাত্রের তালিকায় বড়সড় পরিবর্তন আনা হল। রবিবার প্রকাশিত নতুন তালিকায় ১৪ জন মুখপাত্রের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল সায়ন্তন বসু ও প্রণয় রায়ের প্রত্যাবর্তন। বঙ্গ বিজেপির মুখ্য মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইনজীবী দেবজিৎ সরকারকে। এছাড়া মিডিয়া কনভেনার পদে এসেছেন অনুপম ঘোষ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের প্রথম রাজ্য সফরের প্রাক্কালে এই সাংগঠনিক রদবদল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন ও পুরভোটকে পাখির চোখ করে সংগঠন গোছাতে ব্যস্ত পদ্মশিবির। এর মাঝেই মিডিয়া বিভাগ ও মুখপাত্রদের তালিকায় বড়সড় পরিবর্তন আনল বিজেপি। নতুন এই সাংগঠনিক রদবদলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল প্রাক্তন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু এবং বিজেপি নেতা প্রণয় রায়ের মুখপাত্র হিসেবে প্রত্যাবর্তন। রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও রাজ্য দফতর ইনচার্জ শশী অগ্নিহোত্রী। বিজ্ঞপ্তিতে দেখা গিয়েছে, বঙ্গ বিজেপির মুখ্য মুখপাত্রের দায়িত্ব সামলাবেন আইনজীবী দেবজিৎ সরকার। এছাড়াও ১৪ জনের মুখপাত্রের তালিকায় রয়েছেন রীতেশ তিওয়ারি, সায়ন্তন বসু, কেয়া ঘোষ, প্রণয় রায়, ড. তন্ময় মুখোপাধ্যায়, সপ্তর্ষি চৌধুরী, ওফেলিয়া সিংহ, অঙ্কন দত্ত, মেঘা সেন রায়, ড. নিখিল প্রসূন সিংহ, শমীক দাশগুপ্ত, সুদীপ্ত গুহ এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর ঋত্বিক পাল। সপ্তর্ষি চৌধুরী দলের পত্র-পত্রিকার দায়িত্বও সামলাবেন বলে জানা গিয়েছে। মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের আহ্বায়ক (কনভেনার) পদে আনা হয়েছে অনুপম ঘোষকে। যুগ্ম-আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব সামলাবেন পার্থ সারথী চৌধুরী ও চন্দ্রশেখর বাসুতিয়া। আইটি সেলের কনভেনর নির্বাচিত হয়েছেন জয় মল্লিক এবং সোশাল মিডিয়া বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপমন্যু ভট্টাচার্যকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৫ সেপ্টেম্বর রাজ্যে পা রাখতে চলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তাঁর এই হাই-প্রোফাইল বঙ্গ সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনে। দুই দিনের এই সফরে রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ পরখ করে বিধানসভা উপনির্বাচন ও পুরভোটের ব্লু-প্রিন্টও তৈরি করার কথা অল-ইন্ডিয়া প্রধানের। তার ঠিক আগেই এই রদবদল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। গত সপ্তাহেই বিজেপির ২৭০ সদস্যের এক বিস্তৃত রাজ্য কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, তাপস রায়, অগ্নিমিত্রা পাল ও শঙ্কর ঘোষদের স্থান দেওয়া হয়। তবে নীতিন নবীনের এই সফরের প্রাক্কালে সায়ন্তন বসু ও প্রণয় রায়ের মতো পুরনো মুখদের সংবাদমাধ্যমের সামনে নিয়ে আসা বিজেপি-র সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষার একটি বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।




