Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

রাজ্য বিজেপিতে বড়সড় রদবদল!‌ বিজেপির তৃণমূলীকরণ ‘সবটা আটকানো সম্ভব না’!‌

RK NEWZ তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়েননি শমীক। তৃণমূলের লোকজনকে তাঁদের ভাষায় উত্তর দিতে পারতেন। কিন্তু সেটা তাঁরা চাননি বলে দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। রাজ্য বিজেপির খোলনলচে বদলেছে। সংগঠনের মহিলা, যুব, ওবিসি মোর্চা থেকে শুরু করে সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, রাজ্য সম্পাদক সর্বত্র নতুন মুখ। পুরভোটের আগে ব্যাপক রদবদল। কিন্তু রাজ্য বিজেপির তৃণমূলীকরণের কী হবে? পানিহাটিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উত্তর, “সবটা আটকানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।” তাহলে কি বঙ্গ বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবেই? সেক্ষেত্রে তাঁর সাফ জবাব, “না”। বলছেন, “বিজেপি বিজেপিতেই থাকবে। যে দল ২ থেকে ৩০৩-এ পৌঁছেছে। ২০টির বেশি রাজ্যে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।৭০ বছরেরও বেশি সময় পর শ্যামাপ্রসাদের মাটিতে শ্যামাপ্রসাদের সরকার তৈরি করেছে। সেই দলের তৃণমূলীকরণ সম্ভব নয়।” তাহলে কোনটা আটকানো সম্ভব নয়? ‘৪ মে দুপুর দু’টোর পর বিজেপি হয়েছে।’ বাংলার রাজনৈতিক মহলে এই বাক্য এখন বহুল প্রচলিত। দেখাও গিয়েছে ৩ তারিখ তৃণমূলের পতাকায় ছেয়ে থাকা পাড়া রাতারাতি পদ্মফুলে ভরে গিয়েছে। অনেকেই বিজেপির পতাকা হাতে রাস্তায় নেমেছে। তাঁদের আটকানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন শমীক। তিনি বলেন, “কিছু লোক বিজেপির পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। সবটা আটকানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কিছু লোক বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু বিজেপিতে কোনও যোগদান হয়নি। কিছু মানুষ নিজেকে স্বঘোষিত কাউন্সিলর মনে করে ফেলেছেন। ওঁরা থাকবেন না। বিজেপি-বিজেপিতেই থাকবে।”
পাশাপাশি তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়েননি শমীক। তৃণমূলের লোকজনকে তাঁদের ভাষায় উত্তর দিতে পারতেন। কিন্তু সেটা তাঁরা চাননি বলে দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, “আমরা তৃণমূলের পথে হাঁটিনি। চার তারিখ রাতে একুশ সালের ২ মে-র কথা মনে করতে পারতাম। তৃণমূল যে ভাষা বোঝে, সেই ভাষায় উত্তর দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা সে পথে হাঁটিনি। আমরা চাই এ রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক। যাঁরা অসহায় প্রান্তিক মানুষকে লুঠ করেছে। সরকারি ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হবে।”

সর্বভারতীয় সভাপতি পশ্চিমবঙ্গে আসার দু’দিন আগে রাজ্য বিজেপিতে বড়সড় রদবদল। বদলে গেল মহিলা মোর্চা, যুব মোর্চার মাথা। সাত সাংগঠনিক জেলায় বদলে দেওয়া হল সভাপতি। ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি মেনে মন্ত্রীদের সরানো হল সহ-সভাপতি বা সম্পাদক পদ থেকে। শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরে দফায় দফায় নতুন কমিটি ঘোষণা শুরু হয়েছিল। প্রথমে রাজ্য সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদক-সহ বিভিন্ন পদাধিকারীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। ভোটের কয়েক মাস পরে রাজ্য কার্যকারিণী ঘোষিত হয়েছে। তার পরে ঘোষিত হয়েছে মিডিয়া বিভাগ, সমাজমাধ্যম বিভাগ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়দায়িত্ব। ঘোষিত হয়েছে মুখপাত্রদের নতুন তালিকা। বৃহস্পতিবার ঘোষিত হয়েছে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে অমিতাভ চক্রবর্তীর পুনর্নিযুক্তির সিদ্ধান্তও। শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ শাখা সংগঠনগুলির শীর্ষপদেও রদবদল ঘটানো হল। ভোটের আগে ঘোষিত কমিটিতে যাঁরা পদাধিকারী হিসাবে স্থান পেয়েছিলেন, কিন্তু পরে মন্ত্রী হয়ে গিয়েছেন, তাঁদের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হল। জেলা স্তরে রদবদলের যে সম্ভাবনা নিয়ে অনেক দিন ধরেই চর্চা চলছিল, তা-ও অনেকটা সেরে ফেলা হয়েছে। বিজেপি মহিলা মোর্চার নতুন রাজ্য সভানেত্রী হলেন অঞ্জনা বসু। বাংলা টেলিভিশনে তিনি পরিচিত মুখ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে এসেছিলেন। ২০২১-এ বিজেপির পরাজয়ের পরে দলের সঙ্গে তাঁর ‘দূরত্ব বৃদ্ধি’ সংক্রান্ত জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরে আবার বিজেপির বৃত্তে তাঁর যাতায়াত বাড়ে। কয়েক মাস আগে তাঁকে কেন্দ্রীয় ফিল্‌ম সেন্সর বোর্ডের পরামর্শক সদস্য করা হয়। সম্প্রতি তাঁকে কলকাতার একটি কলেজে পরিচালন সমিতির সভাপতিপদও দেওয়া হয়। বিজেপিতে অঞ্জনার গুরুত্ব যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট হচ্ছিল। অবশেষে ফাল্গুনী পাত্রকে সরিয়ে অঞ্জনাকে মহিলা মোর্চার সভানেত্রীও করা হল। মহিলা মোর্চার ক্ষেত্রে বিজেপি নেতৃত্ব আবার ‘খ্যাতনামী মুখ’-এ আস্থা রাখার নীতিতেই ফিরে গেলেন। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে মহিলা মোর্চার মাথায় বসিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। রূপার পরে সে জায়গায় আসেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। দু’জনেই অভিনেত্রী তথা খ্যাতনামী। লকেটের উত্তরসূরি হন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি অভিনেত্রী না হলেও গ্ল্যামার জগৎ থেকেই রাজনীতিতে এসেছিলেন। ছিলেন খ্যাতনামী ফ্যাশন ডিজ়াইনার। অগ্নিমিত্রার পরে মহিলা মোর্চার দু’জন সভানেত্রী হয়েছিলেন তনুজা চক্রবর্তী এবং ফাল্গুনী। তাঁরা সে অর্থে খ্যাতনামী হিসাবে রাজনীতিতে আসেননি। দলের পুরনো কর্মী হিসাবে উঠে এসেছিলেন। এ বার ফাল্গুনীর উত্তরসূরি বাছতে গিয়ে বিজেপি আবার খ্যাতনামী মুখেই ফিরে গেল।

যুব মোর্চা সভাপতিপদে ইন্দ্রনীল খাঁ অনেক দিন ধরেই ছিলেন। তিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছেন। রাজ্যের মন্ত্রীও হয়েছেন। তাই ইন্দ্রনীল যে আর যুব মোর্চার শীর্ষ পদে থাকবেন না, তা নিশ্চিতই ছিল। তাঁর জায়গায় আনা হল অমিত সামন্তকে। ইন্দ্রনীলের কমিটিতে অমিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি আমতা আসনে বিজেপির টিকিট পান। জিতে বিধায়কও হন। এ বার ইন্দ্রনীলকে অব্যাহতি দিয়ে অমিতকে যুব মোর্চার শীর্ষ পদে তুলে আনা হল।

শমীক সভাপতি হওয়ার পরে যে পদাধিকারী তালিকা ঘোষিত হয়েছিল, তাতে সহ-সভাপতি পদে ছিলেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল, দীপক বর্মন। রাজ্য সম্পাদকদের তালিকায় ছিলেন শঙ্কর ঘোষ। এঁরা প্রত্যেকেই এখন মন্ত্রী। তাই সাংগঠনিক পদ থেকে তাঁদের সরানো হয়েছে। তবে রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে সরানো হয়েছে শর্বরী মুখোপাধ্যায়কেও। তিনি মন্ত্রী নন। তিনি শুধু বিধায়ক। বিজেপিতে বিধায়ক বা সাংসদ থাকা অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলানোয় কোনও বাধা নেই। অগ্নিমিত্রা, দীপক বিধায়ক থাকা অবস্থায় দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শঙ্করও রাজ্য সম্পাদক হয়েছিলেন বিধায়ক থাকাকালীনই। তাই শর্বরীর অপসারণ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। নিজের নির্বাচনীক্ষেত্র যাদবপুরে শর্বরীর কার্যকলাপ নিয়ে দলেরই একাংশ বার বার আপত্তি তুলছিল বলে বিজেপি সূত্রের খবর। তার জেরেই শর্বরীকে রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে সরতে হল কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজ্য বিজেপির এই পদাধিকারী তালিকায় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের প্রভাব বিশেষ ভাবে লক্ষণীয়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ দেখভালের দায়িত্ব পাওয়ার পরে বনসল এ রাজ্যে ‘বুথ সশক্তিকরণ অভিযান’ শুরু করিয়েছিলেন। বুথ স্তর পর্যন্ত আক্ষরিক অর্থেই দলের শক্তি তথা লোকবল বাড়িয়ে তোলার সেই অভিযানে যাঁরা বনসলের ‘টিম’ হিসাবে কাজ করেছিলেন, রাজ্য বিজেপিতে তাঁরা প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়ে গিয়েছেন। বনসলের সেই ‘টিম’-এর প্রধান ছিলেন প্রবাল রাহা। তিনি আগেই রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি হয়েছেন। বুথ সশক্তিকরণ অভিযানের আর এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ শশী অগ্নিহোত্রী হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক। বাকিদের মধ্যে শাখারভ সরকারকে রাজ্য সম্পাদক করা হয়েছিল। নতুন তালিকাতেও তিনি রয়েছেন। অনুপম ঘোষকে রাজ্য বিজেপির মিডিয়া বিভাগের মাথায় বসানো হয়েছে। শুক্রবার যে তালিকা প্রকাশিত হল, তাতে ‘টিম বনসল’-এর বাকিরাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়ে গেলেন। রামপদ দাসকে করা হল সহ-সভাপতি। নীলাঞ্জন অধিকারী, শঙ্কর চক্রবর্তীকে করা হল রাজ্য সম্পাদক। যুব মোর্চার নতুন সভাপতি অমিত সামন্তও বনসলের বিশেষ আস্থাভজন। মহিলা মোর্চার সদ্য প্রাক্তন সভানেত্রী ফাল্গুনীকে রাজ্য দলের সহ-সভানেত্রী করা হয়েছে। শমীকের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ অনল বিশ্বাসকে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সম্পাদকপদ। রাজ্য সম্পাদক করা হয়েছে মিঠুন চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত সঞ্জয় বর্মাকেও। যে সাতটি জেলায় শুক্রবার সভাপতি বদল করা হয়েছে, সেগুলি হল বনগাঁ, বারাসত, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, মেদিনীপুর, বর্ধমান ও কাটোয়া। বনগাঁয় নতুন সভাপতি হয়েছে নৃপেন বিশ্বাস। বারাসতে দীপঙ্কর চক্রবর্তী। শ্রীরামপুর ও আরামবাগে নতুন সভাপতি হলেন যথাক্রমে শশী সিংহ এবং প্রশান্ত দিগার। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে সৌমেন তিওয়ারিকে। বর্ধমানের সভাপতি করা হয়েছে আশিস পালকে। কাটোয়ায় মানিক রায়কে।

দলীয় অনুষ্ঠানেই উপেক্ষিত রত্না দেবনাথ! ‘মনে রাখতে হবে…’, হুঁশিয়ারি বিধায়কের স্বামীর। দলের কর্মসূচিতে উপেক্ষিত খোদ বিধায়ক! পানিহাটিরক বিধায়ক রত্না দেবনাথকে ‘পাত্তা’ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁকে অপমানিত হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে, এমনই অভিযোগ তুলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিলেন রত্নার স্বামী শেখর দেবনাথ। যদিও স্বামীর সঙ্গে একমত নন রত্না। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “কোনও অপমানিত হতে হয়নি।” তাহলে কেন এমন অভিযোগ করলেন স্বামী? তার বিশেষ কারণ জানা যায়নি। তবে শেখরবাবুর এই মন্তব্যের জেরে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। পানিহাটি স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠে বিজেপির উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্টের সূচনা অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন বিধায়ক রত্না দেবনাথ। অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। সেখানেই রত্নাদেবীর স্বামী শেখর দেবনাথের অভিযোগ, “একজন এমএলএ এখানে এসেছেন, অথচ তাঁকে কোনও পাত্তাই দেওয়া হচ্ছে না। যাঁরা এখানে এসেছেন, তাঁরা হয়তো মনে করছেন এমএলএকে তাঁদের প্রয়োজন নেই, তাঁরা নিজেদের মতো করে চলবেন। কিন্তু তাঁরা বোঝেন না, এমএলএর দরজাটাই আসল দরজা। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles