RK NEWZ প্রথমে ঘুষ নেওয়ার কথা অস্বীকার। জল দিয়ে হাত ধুতে বলেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা। হাত ধুতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ সুব্রতের। পুলিশকর্মী হাতে জল দিতেই দেখেন গোলাপি রং! ঘুষ হিসাবে যে টাকা নিয়েছেন, সেই নোটে রাসায়নিক ছিল। তারই রং এসআই-এর হাতে। অতঃপর গ্রেফতার। বধূ নির্যাতনের মামলা চাপা দিতে অভিযুক্তের কাছ থেকে টাকা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেন হাওড়া জেলার ব্যাঁটরা থানার সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) সুব্রত সরকার। অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (এসিবি)-র আধিকারিকেরা তাঁকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর নাম সুব্রত সরকার। তিনি ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় ধরা পড়েন।
১ আগস্ট হাওড়ার কৈলাস দাস লেনের বাসিন্দা পূজা রুইদাস ব্যাঁটরা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত তাঁর স্বামী অভিজিৎ রুইদাস। গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ এনেছিলেন ওই মহিলা। তাঁর দাবি, শ্বশুরবাড়িতে স্বামীর কাছে দিনের পর দিন শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। অভিজিতের বাড়ি হুগলির জাঙ্গিপাড়ায়। মামলার তদন্তকারী অফিসার সুব্রত তাঁকে থানায় ডেকে পাঠান। অভিজিতের অভিযোগ, থানায় ডেকে ওই এসআই তাঁর কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ঘুষ চান। তিনি অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোর টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে ওই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তার প্রেক্ষিতে দুর্নীতিদমন দফতরের আধিকারিকেরা টোপ ফেলেন। তাঁরা অভিজিৎকে বলেন, পুলিশকর্মীর দাবি মতো টাকা দিতে। আরও কী কী করতে হবে সংক্ষেপে বলে দেওয়া হয় তাঁকে। রাজ্য পুলিশের দুর্নীতিদমন শাখার আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, দুর্নীতিগ্রস্তদের ধরতে এমন নানা অভিযান জারি রাখা হবে। ঘটনাক্রমে বিশেষ রাসায়নিক লাগানো টাকা নিয়ে সোমবার থানায় হাজির হন অভিজিৎ। মামলা চেপে দেওয়ার নাম করে এসআই ওই টাকা নিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পারেননি যে টাকায় রাসায়নিক লাগানো রয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ওই থানায় পৌঁছে যান দুর্নীতিদমন শাখার আধিকারিকেরা। অভিজিৎ প্রথমে ঘুষ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন বলে খবর। তখন তাঁকে জল দিয়ে হাত ধুতে বলেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা। হাত ধুতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ সুব্রতের। পুলিশকর্মী হাতে জল দিতেই দেখেন গোলাপি রং! তদন্তকারীরা জানান, ঘুষ হিসাবে যে টাকা তিনি নিয়েছেন, সেই নোটে রাসায়নিক ছিল। তারই রং এসআই-এর হাতে। অতঃপর গ্রেফতার হন। রাজ্য পুলিশের দুর্নীতিদমন শাখার আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, দুর্নীতিগ্রস্তদের ধরতে এমন নানা অভিযান জারি রাখা হবে।
হাতেনাতে গ্রেপ্তার ব্যাঁটরা থানার এসআই। ‘খপ করে ধরেছি’, ‘ঘুষখোর’দের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। মানবাজার থেকে ‘ঘুষখোর’দের কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, শুধু সাসপেন্ড নয়, দুর্নীতিগ্রস্তদের জেলে ঢোকানো হবে।পালাবদলের পর রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখাকে আরও শক্তিশালী করেছে নতুন সরকার। ফলে একের পর এক ধরা পড়ছেন দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি আধিকারিকরা। ঝাড়গ্রামের পর এবার হাওড়া থেকে ধরা পড়লেন এক সরকারি আধিকারিক। সোমবার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে রাজ্য পুলিশের এক সাব ইন্সপেক্টরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে দুর্নীতি দমন শাখা। ধৃত ব্যক্তি হলেন হাওড়ার ব্যাঁটরা থানার এসআই সুব্রত সরকার। জানা গিয়েছে, সুব্রত ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। সেই টাকা উদ্ধার হয়েছে। সোমবার পুরুলিয়ার মানবাজার থেকে ‘ঘুষখোর’দের কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “খপ করে ধরেছি, আর জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছি।” তিনি জানান, শুধু সাসপেন্ড করে খান্ত থাকবে না রাজ্য। ঘুষ নিলে জেলে ঢোকানো হবে বলে কড়া বার্তা দেন তিনি।
সম্প্রতি জামবনিতে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার জালে ধরা পড়ে গিধনি বিডিও অফিসের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিমল সাহা। গিধনিতে একটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরির বরাদ পেয়েছিলেন এলাকার ঠিকাদার পিন্টু মল্লিক। সেই কাজের টাকার বিল চাইতে গিয়েছিলেন বিমল সাহার কাছে। তখন পিন্টুর কাছে তিনি ২ লক্ষ টাকা ঘুষ চান। এরপর পিন্টু বিষয়টি দুর্নীতি দমন শাখার টোল ফ্রি নম্বরে জানান। সেই টাকা বিমলকে দিতে আসেন পিন্টু। জানা গিয়েছে, সেই সময় সেখানে আগে থেকে ফাঁদ পেতে ছিলেন এসিবির লোকজনেরা। টাকা নেওয়ার সময়ই হাতেনাতে ধরা পড়েন বিমল সাহা। এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী পুরুলিয়া থেকে বলেন, “খপ করে ধরেছি, আর জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছি।” এছাড়াও মোটরভেহিক্যালের দু’জন ‘ঘুষখোর’ ইন্সপেক্টরের কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “শুধু সাসপেন্ড করলেই মুখ্যমন্ত্রী সন্তুষ্ট নয়। জেলে ঢুকিয়েছি। করতে দেব না। অনেক আশা স্বপ্ন নিয়ে আপনারা আমাদের জিতিয়েছেন।”




