RK NEWZ লোহার বিমে লেগে রক্তমাংস! তারাতলায় ভেঙে পড়া গুদাম থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধার ১৪, কত জন এখনও আটকে স্পষ্ট নয়। লোহার বিম ভেদ করে উদ্ধারের চেষ্টায় সেনা, এনডিআরএফ। ৫০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে পারে, এমন হাইড্রোলিক ক্রেনও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই ক্রেনের সাহায্যে ভেঙে পড়া কাঠামোটিকে আটকে রাখা হয়েছে, যাতে সেটি নতুন করে আর ধসে যেতে না পারে। তারাতলায় ভেঙে পড়া গুদামের ভিতর আটকে রয়েছেন এখনও বেশ কয়েক জন। তাঁরা সংখ্যায় কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গুদামের লোহা এবং কংক্রিটের কাঠামোর নীচ থেকে এখনও মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে সেনা। উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে তারা। আগে থেকেই ঘটনাস্থলে রয়েছেন দমকল এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল বা এনডিআরএফ-এর সদস্যেরা। উদ্ধারকাজে গতি আনতে একাধিক ক্রেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঘটনাস্থলে। ৫০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে পারে, এমন হাইড্রোলিক ক্রেনও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই ক্রেনের সাহায্যে ভেঙে পড়া কাঠামোটিকে আটকে রাখা হয়েছে, যাতে সেটি নতুন করে আর ধসে যেতে না পারে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, গুদামটি প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট এলাকার উপর ছিল। মূল কাঠামোটির ভিতর কোনও দেওয়াল বা আলাদা কক্ষ না-থাকায় গোটা অংশটাই এক সঙ্গে ভেঙে পড়ে। অতিরিক্ত ভার সামলাতে না-পেরে লোহার বিমগুলিও জায়গায় জায়গায় বেঁকে গিয়েছে। প্রথমে ভেঙে পড়া কাঠামোর পিছন দিকে একটি জায়গা দিয়ে মাটি কেটে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। হাইড্রলিক মই বেয়ে উপরে উঠেও ভিতরে আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ঢালাইয়ের পুরু স্তর এবং লোহার বিম ভেদ করতে গিয়ে বেগ পেতে হয়। তবে কিছু অংশ ছিদ্র করে ভিতরে হাওয়া চলাচলের বন্দোবস্ত করা হয়। ভিতরে আটকদের চিহ্নিত করতেও কিছুটা সুবিধা হয়। এখনও পর্যন্ত ভেঙে পড়া গুদামের ভিতর থেকে ১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের গুরুতর জখম অবস্থায় পাঠানো হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। বাকিদের সন্ধানে স্নিফার ডগ নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। ওই গুদামে কাজ করা অনেকেরই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এক মহিলা দাবি করেছেন, তাঁর মাসিকে তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। ঘটনাস্থলে বড় জেনারেটর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাতেও উদ্ধারকাজ চলতে পারে, এমনটা ধরে নিয়েই বিদ্যুতের জোগানের বন্দোবস্ত করে রাখছেন উদ্ধারকারীরা। ঘটনাস্থলে তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। কলকাতা পুরসভার পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, পুলিশের ডিসি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ঘটনাস্থলে রয়েছেন। রয়েছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স। আহতদের উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই যাতে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া যায়, সময় যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত। তারাতলার গুদামটিতে নির্মাণের কাজ চলছিল গত দেড় বছর ধরে। গুদামের কয়েক তলা উঁচু ছাদ বুধবার বেলার দিকে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। অনেক শ্রমিক সেখানে কর্মরত ছিলেন। সূত্রের দাবি, লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের স্তর চাপানো হয়েছিল। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, সকাল থেকেই কাঠামোটি নড়ছিল। তা পরখ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। তখনই আচমকা ছাদ ধসে পড়ে। নীচে সকলে চাপা পড়ে যান। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি। তা একটি চা সংস্থাকে লিজ়ে দেওয়া হয়েছিল। তারাই গত দেড় বছর ধরে গুদামে নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল। গুদামের ঠিকাদারও ভিতরে আটকে পড়েছেন বলে খবর। দমকল কর্তৃপক্ষের কাছে তারাতলার বিপর্যয়ের খবর যায় বেলা ১২টার পর। একাধিক গাড়ি সেখানে পাঠানো হয়েছে। কলকাতা পুরসভার পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, পুলিশের ডিসি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ঘটনাস্থলে রয়েছেন। রয়েছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স। আহতদের উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই যাতে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া যায়, সময় যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত। সমগ্র পরিস্থিতির ওপর সরাসরি নবান্ন থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং রাজ্য সরকারের তরফে একটি বিশেষ আপৎকালীন কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের সুবিধার্থে নবান্ন যে ৪টি হেল্পলাইন নম্বর জারি করেছে, সেগুলি হল – ১০৭০, ৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩ ২২১৪৩৫২৬ এবং ০৩৩ ২২৫৩৫১৮৫।

স্থানীয় সূত্রে খবর, তারাতলার গুদামটিতে নির্মাণের কাজ চলছিল গত দেড় বছর ধরে। গুদামের কয়েক তলা উঁচু ছাদ বুধবার বেলার দিকে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। অনেক শ্রমিক সেখানে কর্মরত ছিলেন। সূত্রের দাবি, লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের স্তর চাপানো হয়েছিল। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, সকাল থেকেই কাঠামোটি নড়ছিল। তা পরখ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। তখনই আচমকা ছাদ ধসে পড়ে। নীচে সকলে চাপা পড়ে যান। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি। মুন্সিগঞ্জের সংস্থা বেহরা ব্রাদার্স বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জমিটি ৩০ বছরের জন্য লিজ় নিয়েছিল। তারা অয়ন ট্রেডার্স নামের আর একটি সংস্থাকে গুদামটি তৈরির বরাত দেয়। তারাই গত দেড় বছর ধরে গুদামে নির্মাণকাজ চালাচ্ছিল। গুদামের ঠিকাদারও ভিতরে আটকে পড়েছেন বলে খবর। বেহরা ব্রাদার্সের প্রতিনিধিদের থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। কয়েক হাজার বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত এই গুদামের ভিতরে একটি জায়গায় ছিল শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা। কে কোথায় থাকতে পারেন, ছাদ ভেঙে পড়ার আগের মুহূর্তে কোন দিকে শ্রমিকেরা ছিলেন, তা বোঝার জন্য স্থানীয় নিরাপত্তারক্ষীদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। লোহার বিম সরানোর জন্য ক্রেনের সঙ্গে তা বাঁধা হয়েছে। ভিতরে কোথায় কে আটকে আছেন, কী অবস্থায় আছেন, জানার জন্য উদ্ধারকারীরা টর্চ হাতে ঘুরছেন। হ্যান্ড মাইকের সাহায্যে তাঁরা চিৎকার করছেন। ভিতরে কেউ আটকে আছেন কি না, জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। ৩০ থেকে ৫০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে স্থানীয়দের দাবি। অনেকেই প্রিয়জনকে খুঁজতে ঘটনাস্থলে এসেছেন। গুদাম চত্বর জুড়ে হাহাকার।





