Tuesday, June 9, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কোলাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!‌ ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের দেব-জুন-শিউলিরা হাজির!‌ একদা ‘বামমনস্কা’ সায়নীও

RK NEWZ কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বেসুরো বিধায়ক, সাংসদরা। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলাকে নিয়ে এই প্রশাসনিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এই বৈঠকে ডাক পেয়েছেন এই তিন জেলার বিরোধী দলের বিধায়ক ও সাংসদরাও। মঙ্গলবার সকালে দেখা যায়, বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা, মেদিনীপুরের তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়া ও ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী তথা দেব। তাঁরা তিনজনেই তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকে হাজির হওয়ার পরে দেব বৈঠকে আসেন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন তিন জেলার জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক (এসডিও), ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও), জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক কাজের পর্যালোচনার লক্ষ্যে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন তিন জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসডিপিও, আইসি ও ওসিরাও। মুখ্যমন্ত্রী এই বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন, জনমুখী পরিষেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারেন। তিন জেলার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিরিখে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ। তিন জেলার উন্নয়ন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এই বৈঠক থেকে উঠে আসতে পারে বলেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। শিউলি সাহা বলেন, “বৈঠকে ডাক পেয়ে ভালো লাগছে।তৃণমূল সরকারের আমলে প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধীদের ডাকা হত না। বিরোধী দলের বিধায়কদেরও মানুষই নির্বাচিত করেছেন। এই সিদ্ধান্তগুলি বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হত না। বর্তমান সরকার যা করছে তা প্রশংসার যোগ্য।”

বিদ্রোহী দলে নাম লেখাচ্ছেন অভিষেকের ‘সেনাপতি’ সায়নী! পরিষদীয় দলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলেও ভাঙন। এনডিএ’র শরিক হতে চেয়ে সোমবারই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। এই পরিস্থিতিতে সুর বদল যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষেরও! সূত্রের খবর, ‘বিদ্রোহী ব্লকে’ নাম লেখাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সেনাপতিও। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সদ্য মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় যে দলীয় কমিটি ঘোষণা করেছিলেন তাতে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রীর পদ পেয়েছিলেন এই সায়নীই। একদা ‘বামমনস্কা’ সায়নী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোর সমালোচক ছিলেন। পরে তাঁর হাত ধরেই রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলে তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্ব বৃদ্ধি পায়। তারপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে মমতাকেই অনুসরণ করতে শুরু করেন সায়নী। পরনে সাদা শাড়ি, পায়ে হাওয়াই চটি – সায়নী যেন মমতারই ‘রেপ্লিকা’ হয়ে ওঠেন। একইসঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তিনি। তবে সায়নীকে ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। সমাজমাধ্যমে তাঁর শেয়ার করা ‘শিবলিঙ্গে কন্ডোম’ পোস্ট আজও বঙ্গ রাজনীতিতে চর্চার বিষয়। যদিও সেই সময় দল তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সেই তৃণমূল সাংসদ সায়নী এবার ‘বেসুরো’। বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। এরপরই স্পিকারকে চিঠি দেন তাঁরা। বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ-তে যোগ দিতে চেয়ে এই চিঠি দেন ২০ জন ‘বিক্ষুব্ধ’ সাংসদ। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্য়া ২৮। তার মধ্যে ২০ জনই ‘বিদ্রোহী’। অর্থাৎ এবার বিধানসভার পর লোকসভার রাশও ‘আসল তৃণমূলে’র হাতে। দিনের শেষে ফের একপ্রস্থ বৈঠক করেন ‘বিদ্রোহী’রা। বীরভূমের চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাসভবনে হয় এই বৈঠক। যেখানে উপস্থিত ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এই বৈঠকের পরই তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। লোকসভার কায়দায় রাজ্যসভাতেও কি এবার ‘অপারেশন লোটাস’? তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা দাবি করেছেন, বৈঠকটি শুধুই সান্ধ্য আড্ডা তথা চা-চক্র।

তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে লক্ষ্য করে ডিম, পচা টমেটো ও গোবর ছুড়ল উত্তেজিত জনতা। আজ তাঁকে আদালতে পেশ করার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় বিধাননগর নর্থ থাকার সামনে এই ঘটনা ঘটে। আদালত চত্বরেও তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান। রাজারহাটের ২১১ রোড লাগোয়া রাইগাছি এলাকার একটি অভিজাত আবাসন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ দিনের পর দিন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময় সব্যসাচী দত্ত অভিযোগকারীকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। এরপরেই সোমবার গভীর রাতে রাইগাছি এলাকার একটি অভিজাত আবাসনে হানা দিয়ে সব্যসাচীকে গ্রেপ্তার করা হয়।বিধাননগর উত্তর থানার বাইরে ভিড় জমাতে থাকেন স্থানীয়রা। তাঁদের হাতে ছিল গোবর, পচা টমেটো এবং ডিম। সব্যসাচীকে আদালতে পেশের জন্য থানা থেকে বের করা হলেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন উত্তেজিত জনতা। এই তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম, পচা টমেটো ও গোবর। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তাঁর জামাকাপড় অপরিষ্কার হয়ে যায়। ওঠে ‘চোর’, ‘তোলাবাজ’ স্লোগান। সেই অবস্থায় তাঁকে আদালতে পেশ করে পুলিশ। আদালত চত্বরেও তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সব্যসাচীর দাবি, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।

লোকসভায় ‘অপারেশন লোটাস’। রাজ্যে বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খানখান হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘আসল তৃণমূল’ তৈরি হয়েছে। এবার লোকসভাতেও ভাঙন। আজ, সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিলেন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। পরিষদীয় দলের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলেও ভাঙন। আপাতত ২৮ জনের মধ্যে ২০ সাংসদের সই করা চিঠি জমা পড়েছে। এক্ষেত্রে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে বলে খবর। কিন্তু এই লোকসভায় ‘অপারেশন লোটাসের’ নেপথ্যে কে? সেই চর্চা জোর শুরু হয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানিয়েছেন, ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাহলে কি এই ঘটনার নেতৃত্বে এখন তিনিই? সেই বিষয়ে সাংসদ জানান, তিনি কর্মী হিসেবেই কাজ করতে চান। তাঁর কথায়, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই। অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই। অনুন্নয়নের বিরুদ্ধে লড়াই। খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থে লড়াই। সেই লড়াই করতে করতে এই জায়গায় এসেছি।” তিনি আরও বলেন, “মানুষের স্বার্থে, মানুষের কাজ করব এসেছি। মানুষের কাজ করতে পারছি না দেখে আমরা সবাই আলাদা বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পেশায় চিকিৎসক দুই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শর্মিলা সরকারে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন, “আর জি করে ঠিক কী হয়েছিল? পারলে সিবিআইকে সত্যি বলুন।” আর জি কর কাণ্ডে তৎকালীন তৃণমূল সরকার তথ্য গোপন করেছে, এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এদিনের কল্যাণের মন্তব্য সেই অভিযোগই উসকে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। পালাবদল হতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৮ বছরের লড়াইয়ের ফসল তৃণমূল। কিছুদিন আগেই ঋতব্রত-পন্থীদের বিদ্রোহে পরিষদীয় দলের রাশ হারিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সোমবার দিল্লিতে বিস্তর জল্পনা শেষে সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণও খুইয়েছেন তিনি। ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ শিবিরে যোগ দিতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। একইদিনে ‘ছোট লালবাড়ি’ও হাতছাড়া হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। বিদ্রোহীরা প্রকাশ্যে নেত্রীর বিরুদ্ধে বিশেষ কিছু না বললেও দলের নীতি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সরব হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিদ্রোহীদের ‘সুখের পায়রা’ বলে আক্রমণ শানালেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ। কল্যাণ বলেন, “১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। তাই এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পাশে ঘুরছে। পাওয়ার ছাড়া এড়া থাকতে পারবে না। মোদি আপনাদের নেতা। তবে বিজেপি এদের নেবে না। ওরা এদের ভালো করে চেনে। সব রিপোর্ট ওদের কাছে আছে, কে নারদায় ঘুস খেয়েছে, কে কী করেছে। বিজেপি কলঙ্কিত লোকেদের নেবে না।” ‘বিদ্রোহী’দের ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘সুখের পায়রা’ বলে বিঁধে সাংসদ বলেন, “কাকলি ঘোষ ছাড়া এরা সকলে ২০১১ সালের পর দলে এসেছে। কোনও লড়াই করেনি। আর তারকারা ভিনদেশি তারা। কেষ্ট না থাকলে শতাব্দী রায় কোনওদিন জিততে পারত না। এরা তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে অন্যায় করেছে।” এরপরই আর জি কর প্রসঙ্গ তুলে দুই ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শর্মিলা সরকার ও অভয়ার মাকে নিশানা করেন তিনি। বলেন, “আর জি কর ইস্যুতে কাকলি আর শর্মিলা দুই ডাক্তার কবে রাস্তায় নেমেছিল? আমি হেঁটেছি। বেচারা অভয়া, মা রাজনীতি করল ওকে নিয়ে, এখন এরাও করছে। কাকলি আর শর্মিলাকে চ্যালেঞ্জ করছি, পারলে আর জি করে কী হয়েছে সিবিআইকে গিয়ে বলুন ওনারা।” তাঁর এহেন মন্তব্য কিছুটা পরস্পরবিরোধী বলেও মনে করা হচ্ছে। ‘আর জি করে কী হয়েছে ‘ বলতে গিয়ে তিনি কি আসলে বিগত সরকার ওই বিষয়ে তথ্য গোপন করেছিল, এমন কথাই বলতে চাইছেন? এই প্রশ্ন উঠছে। সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে শত অভিযোগ সত্ত্বেও কোন অঙ্কে অভয়ার মা বিজেপিতে যোগ দিলেন সেই প্রশ্নও তোলেন কল্যাণ। উল্লেখ্য, বর্তমানে তৃণমূলের যা পরিস্থিতি, তাতে এই মুহূর্তে যাঁরা নেত্রীর সঙ্গে রয়েছেন, তাঁরাও কতক্ষণ থাকবেন, সেটা লাখ টাকার প্রশ্ন। এসবের মাঝে অবস্থান স্পষ্ট করে কল্যাণ বললেন, তিনি নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন, আছেন, থাকবেন। বললেন, “আপনাদের কাছে টাকা, ক্ষমতা, মুখ্যমন্ত্রী, এজেন্সি আছে, আমার কাছে আছে মা-মাটি-মানুষ।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles