‘‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করি। দিদিও আমায় স্নেহ করেন। অবশ্যই আমি ওঁর ঘনিষ্ঠ। তার মানে এই নয়, আমি সুযোগ নেব।’’ হাসতে হাসতেই তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘‘যাঁরা কটাক্ষ করবেন তাঁদের বলব, আমার শিরদাঁড়া আছে। তাই আমি আমার দুনিয়াতেই রইলাম। আমি চাইলেই হয়তো রাজনীতির আঙিনায় আসার সুযোগ তৈরি হত। কিন্তু আমার মা-বাবা অনেক কষ্ট করে মানুষ করেছেন, আমায় গানের দুনিয়ায় দেখবেন বলে। ওটাই আমার দুনিয়া।’’ দাবি ইমনের। প্রার্থীতালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সমাজমাধ্যমে একটি বার্তাও দিয়েছেন। এত দিন ভুল খবর ছড়ানো হচ্ছিল। এ বার সেটা প্রমাণিত। কথায় কথায় তিনি এ-ও জানিয়েছেন, তিনি কখনও রাজনীতিতে আসার স্বপ্ন দেখেননি। লোকে যে বলে, ইমনের নাকি বিতর্ক লগ্নে জন্ম! এই যে গায়িকা প্রার্থী হতে পারলেন না, এটা নিয়েও তো অনেক কাটাছেঁড়া হবে? ‘‘হবে তো! লোকে বলবে, এত চটি চেটেও কিছু হল না?’ প্রার্থিতালিকা প্রকাশ হওয়ার পর দেখা গেল, ইমনের নাম কোথাও নেই। পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা প্রকাশিত। সেই তালিকায় ইমন চক্রবর্তী নেই। যদিও নির্বাচনের কথা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই টলিউডের অন্দরের গুঞ্জন, গায়িকা নাকি প্রার্থী!
২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২৯১টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী দিল তৃণমূল। বাকি তিনটি আসন তারা ছেড়ে দিয়েছে অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম)-কে। ‘মমতাপন্থী’ বলে পরিচিত অনীতের দল পাহাড়ে দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াং থেকে একক ভাবেই লড়াই করছে। তাদের সমর্থন করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। মঙ্গলবার ২৯১টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল তৃণমূল। এর মধ্যে ৫২ জন মহিলা প্রার্থী। প্রার্থিতালিকায় এমন কয়েক জন রয়েছেন যাঁরা কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরও। যেমন, দেবাশিস কুমার, রত্না চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, বিজয় উপাধ্যায়, অতীন ঘোষ প্রমুখ। আবার অনেক বিদায়ী বিধায়ক আছেন, যাঁরা এ বার টিকিট পাননি। তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে পেশাগত বিন্যাস করলে দেখা যাচ্ছে ১১ জন আইনজীবী, ১০ জন চিকিৎসক, ৬৪ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্যে ২৮ জন যুক্ত শিক্ষাজগতের সঙ্গে। রয়েছেন এক ক্রিকেটার এবং দুই সঙ্গীতশিল্পী। মমতা-অভিষেকের ঘোষিত প্রার্থিতালিকায় ১০৩টি নতুন মুখ ঠাঁই পেয়েছে। তৃণমূলের ইতিহাসে যা বেনজির। ২০০৬ সালের বিধানসভা ভোটে বামফ্রন্ট তাদের প্রার্থিতালিকায় মোট ৯৪টি নতুন মুখ এনেছিল। সে বার বামফ্রন্টের ফলাফল অতীতের সমস্ত সাফল্যকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। মোট ২৩৫টি আসন পেয়েছিল বামেরা! ক্রীড়াক্ষেত্র থেকে এ বার তৃণমূল নতুন প্রার্থী করেছে প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল এবং প্রাক্তন অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণকে। কিন্তু সেই দুই মনোয়নের সঙ্গে যতটা না খেলার যোগ, তার চেয়ে অনেক বেশি যোগ স্থানীয় সমীকরণের। দুই সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন এবং অদিতি মুন্সি এ বারেও টিকিট পেয়েছেন। টিকিট পেয়েছেন এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টও। রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সকলেই একবাক্যে প্রার্থিতালিকার যে বিষয়টির কথা উল্লেখ করছেন, তা হল তালিকায় টলিউডের প্রতিনিধি মাত্রই চার জন। যাঁদের ‘তারকা’ বলে চিহ্নিত করা যায়। তৃণমূলের ইতিহাস বলে, ভোটে তাদের ‘তারকা’ দাঁড় করানোর প্রবণতা দীর্ঘ দিনের। যে নামগুলিকে এত দিন ‘চমক’ বলে অভিহিত করা হত। এই প্রথম তার ব্যতিক্রম ঘটল। বস্তুত, নতুন ‘তারকা’ দাঁড় করানো তো দূরস্থান, বরং গত বারের দুই জয়ী ‘তারকা’ এ বার টিকিট পাননি। অর্থাৎ, সে অর্থে ‘চমক’ নেই। কিন্তু ব্যাপক অর্থে সেটিই ‘চমক’!




