কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার বিড়ি-সিগারেট তথা অন্যান্য তামাকজাত পণ্যকে ‘পাপ পণ্য’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। রাষ্ট্র তো নেশাড়ুদের খানিক বিষনজরেই দেখে। তাদের বাগে আনতে ফি বছর বাজেটে দাম বাড়িয়ে দেয় মদ, সিগারেট, পান, গুটখার। এ বছরও সেই ধারা বজায় থেকেছে। তবে তার পাশাপাশি আরও কিছু ‘নেশা’র দ্রব্য দামী। নেশা বড় বিষম বস্তু! তা মনের কোণে এমন এক ভাল লাগার অনুভূতি তৈরি করে, যার আকর্ষণ এড়ানো মুশকিল। তার টানে কে যে, কোথায় গিয়ে পড়বে, তা একমাত্র নেশাড়ুরাই বলতে পারে। মুশকিল হল, সে আবেগ বোঝার সমঝদার কম। সমানুভূতি মিললেও সহানুভূতি মেলে না। রাষ্ট্র তো নেশাড়ুদের খানিক বিষনজরেই দেখে। তাদের বাগে আনতে ফি বছর বাজেটে দাম বাড়িয়ে দেয় মদ, সিগারেট, পান, গুটখার। শরীরের ক্ষতির পাশাপাশি পকেটের ক্ষতি হলে যদি টনক নড়ে। এ বছরও সেই ধারা বজায় থেকেছে। তবে তার পাশাপাশি আরও কিছু ‘নেশা’র দ্রব্য দামী হতে চলেছে, যা সেই অর্থে তেমন ক্ষতিকর নয়।
জিএসটি-র নতুন কাঠামোয় এগুলিই সবথেকে দামি পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে, তামাক, গুটখা, পান মশলা, মদ এবং কোল্ডড্রিঙ্কের মতো সামগ্রী। গত ডিসেম্বরেই সংসদে দুটি পৃথক বিল পাশ হয়েছিল। সেই বিলের মাধ্যমেই পানমশলা উৎপাদনে নতুন সেস এবং তামাকজাত পণ্যের উপর অতিরিক্ত এক্সাইজ ডিউটি আরোপের পথ প্রশস্ত হয়।
সিগারেট (৪০ শতাংশ জিএসটি) মূল্যবৃদ্ধি:
ছোট নন ফিল্টারড (৬৫ মিমি পর্যন্ত) ২.০৫ টাকা
ছোট ফিল্টারড (৬৫ মিমি পর্যন্ত) ২.১০ টাকা
মাঝারি (৬৫-৭০ মিমি) ৩.৬-৪ টাকা
বড় (৭০ মিমির উপর) ৫.৪ টাকা পর্যন্ত
কিং সাইজ ও অন্যান্য বিশেষ ডিজাইন ৮.৫ টাকা পর্যন্ত
মূল্যবৃদ্ধির আওতায়:
গুটকা (৯১ শতাংশ), পানমশলা (৮৮ শতাংশ) ও অন্য তামাকজাত পণ্য
বিড়িতে জিএসটি কমে ১৮ শতাংশ।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ওই ধরনের পণ্যের উপর ৪০ শতাংশ জিএসটি। সঙ্গে অতিরিক্ত সেসও বসানো হচ্ছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হেলথ অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি সেস’। এর সঙ্গে জারি হবে অতিরিক্ত এক্সাইজ ডিউটি। আগে ২৮ শতাংশ করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ সেস ধার্য করা হত। এর ফলে মোট ট্যাক্সের পরিমাণ হত ৫৩ শতাংশ। এবার পর পর তিন ধরনের শুল্ক আরোপের পাশাপাশি জিএসটি বাড়ায় করের পরিমাণটা অনেকটা বাড়ছে। যার ফলে সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের দাম অনেকটাই বাড়ল। এছাড়া ক্ষতিকারক কিছু দ্রব্যের দামও বাড়ল।
কফি না খেলে দিন শুরু হয় না, এমন অনেককেই। আবার অনেকে এমনও আছেন, যাঁদের আড্ডা দেওয়ার জন্য হাতে কফির কাপ লাগে। কফির টানে একা ক্যাফেতে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া মানুষও কম নেই। হয়তো সে জন্যই দিনে দিনে ক্যাফের সংখ্যা রেস্তরাঁকেও টেক্কা দিচ্ছে। সেরামিকের কাপে ফোম উথলে পড়া কফিতে চুমুক দেওয়ার আরাম নেশাগ্রস্ত করছে তার একান্ত ভক্তদের। আর এই নেশার জিনিসটিই দামি হতে চলেছে। সরকার ভর্তুকি তুলে নিচ্ছে বিদেশ থেকে আনানো কফি রোস্ট করা, কফি গুঁড়িয়ে তা থেকে পানীয় তৈরি করা এবং ফোম বানানোর মেশিন থেকে। ফলে এই সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলতে পারে মেশিনে বানানো কফির দামেও। ঘাড়ে ক্যামেরা নিয়ে অ্যাডভেঞ্চারে বেরিয়ে পড়লেন। কেউ তুললেন পাখির ছবি, পাখির ডাক, পাখির ভিডিয়ো, কেউ বা প্রকৃতি অথবা মানুষের দৈনন্দিন যাপনের ঝকঝকে চলচ্ছবি ধরে রাখলেন বিদেশ থেকে আনা শখের ক্যামেরার লেন্সে। এই শখ বা এই নেশার টানে কত মানুষ ছুটে চলেছেন পৃথিবীর উত্তর থেকে দক্ষিণে। এ বছরের বাজেটে সেই নেশার সঙ্গী ঝকঝকে ছবি-ভিডিয়ো তোলা বিদেশি ক্যামেরার খরচ বাড়তে চলেছে। বাড়তে চলেছে সাউন্ড রেকর্ডিংয়ের যন্ত্রের দামও। ফলে বাড়তে চলেছে চলচ্ছবির নেশাড়ুদের শখের দাম। ভিডিয়ো গেমের নেশা শুধু ছোটদের নয়। সে নেশায় বুঁদ হয়ে থাকেন প্রাপ্তবয়স্কেরাও। ২০২৫-২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের পরে সেই নেশারও দর বাড়ছে। কারণ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, ভিডিয়ো গেম তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি বন্ধ করতে চলেছে সরকার। দামি ঘড়ি কেনাও এক এক জনের নেশা। অবশ্যই এ নেশার নেশাড়ুদের পকেটের চিন্তা বেশি করতে হয় না। তা বলে এমন লোক নেই, তা নয়, যাঁরা সাজের শখের নেশা মেটাতে সাধ্যের বাইরে যান না। বিদেশ থেকে আনানো দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ির নেশায় পকেটে সামান্য ভারী হবে।





