টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খাতায় কলমে নিঃসন্দেহে ভারতীয় ক্রিকেট দলই হট ফেভারিট। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়া শিবির ব্যাটিং, বোলিং দুটো বিভাগেই বেশ শক্তিশালী, এমনটাই মনে করেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্য়ায়। ২০২৪ সালে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আসন্ন টুর্নামেন্টে খেলতে নামবে ভারতীয় ক্রিকেট দল। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের পরকাশিত ভিডিও বার্তায় সৌরভ বলেন, ”ভারত খুবই শক্তিশালী দল। আমি নিশ্চিত টুর্নামেন্টের সেরা দল তারাই। বোলিং ডিপার্টমেন্টে বুমরা নেতৃত্ব দেবেন। এছাড়াও দলে প্রত্যেকটি বিভাগে ভারসাম্য রয়েছে। টুর্নামেন্টে সঠিক সময়ে প্লেয়ারদের জ্বলে উঠতে হবে। আমি আশা করি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতই খেতাব জিতবে।” আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে আয়োজিত হবে। টুর্নামেন্টের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। গ্রুপ পর্বে যদিও ভারত কোনও ম্যাচই খেলবে না ইডেনে। তবে সৌরভ আশাবাদী যে দর্শকরা অন্য ম্যাচগুলো দেখতেও ইডেনে আসবেন। সৌরভ আরও বলেন, ”আমার মনে হয় শুধুমাত্র সিএবি নয়, গোটা শহর মুখিয়ে আছে এই মেগা টুর্নামেন্টের জন্য। এখানে সাতটি ম্যাচ রয়েছে। ১ মার্চে ভারতের ম্যাচ রয়েছে। এছাড়া সেমিফাইনালও রয়েছে। ২০১৬ সালে যখন আমি সভাপতি ছিলাম, তখন প্রথমবার ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিলাম আমরা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ও ফাইনাল হয়েছিল এই টুর্নামেন্টে।”

যাদবপুর ক্যাম্পাসের মাঠে বোলিং করলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি
ছোটবেলায় রেডিওতে পুষ্পেন সরকারের ধারাভাষ্য “বাবুঘাটের দিক থেকে একটা সুন্দর ফুরফুরে বাতাস ইডেন উদ্যানের উপর দিয়ে বইছে, এখন দেখা যাক ভারতীয় বোলাররা এই বাতাস কে কতটা কাজে লাগতে পাড়বে! আমরা দেখতে পাচ্ছি হাইকোর্ট প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন কপিল দেব, অফ্ স্টাম্পের বাইরের বল পা বারিয়ে ছেড়েদিলেন ডেসমন্স হেনস্| পরের বল মিডিল স্টাম্প থেকে ছোট্ট সুইং করে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে সোজা কিরমানির হাতে, আআআআউট|” একটা সময় ছিল যখন জোড়ে বোলারদের কাছে সুইং বোলিংটা অবশ্যই একটা শিল্প ছিল| ভারতের কপিল দেব, ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথাম, পাকিস্থানের ইমরান খান, নিউজিল্যান্ডের রিচার্ড হেডলি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জুয়েল গার্ণার সবার উপরে সুইং অফ্ সুলতান ওসায়িম আক্রাম| বিশাল গতি না থাকলেও এঁদের সুইংয়ের সামনে পৃথিবীর বড় বড় ব্যাটারদের ধরাশায়ী হতে হয়েছিল| বর্তমান যুগের ক্রিকেটে সুইংয়ের থেকে গতিকে অনেক বেশী গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে| ছোট ছোট ক্রিকেটারদেরকেও গতির দিকে মনোনিবেশ করতে বলা হচ্ছে| তাই হয়তো সুইং বোলিংয়ের শিল্পটা ক্রমশ নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে| আজ থেকে ১৫ বছর আগেও বাংলা দলে বেশ কয়েকজন দারুন সুইং বোলার ছিল| শিবশংকর পাল, রণদেব বোস, সঞ্জীব সান্যাল, লক্ষীরতন শুক্লা তাঁদের মধ্যে অন্যতম সেরা| পরবর্তীকালে অশোক ডিন্ডা, মহঃ সামি, আকাশদ্বীপ, মুকেশ কুমারও সুইংয়ের জাদুতে মানুষের মন জয় করেছিল| শুধু বাংলা দলে নয় কলকাতা ক্লাব ক্রিকেটেও একাধিক ভাল সুইং বোলারের দেখা মিলতো বেশ কয়েক বছর আগেও| বছর দুয়েক আগের কথা ময়দানে হাইকোর্ট মাঠে দাঁড়িয়ে প্রথম ডিভিসনের একটা ক্লাব ক্রিকেট ম্যাচ দেখছিলাম| কারোর বল আর সুইং করতে দেখা যায় না| কিছুক্ষণ পর সঞ্জীব সান্যালের সঙ্গে দেখা হল| ও বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ম্যাচটা দেখছিল| সুইং বোলিং প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করছিলাম কারণ ও একটা সময় দারুন আউট সুইংটা করতো| প্রশ্ন “বাংলায় তোমার দেখা সেরা সুইং বোলার কে? এককথায় উত্তর , দাদি| অনেক কিছু শিখেছি দাদির থেকে| ব্যাটার তো ছেড়েই দাও এত ভাল সুইং বোলারও বাংলায় পূর্বে ছিল কিনা জানা নেই”| সৌরভ গাঙ্গুলীকে শুধু ব্যাটার হিসাবেই বেশী দেখা গেছে স্টেপ আউট করে বলকে মাঠের বাইরে পাঠাতে কিন্তু ভুলে গেছি তাঁর বোলিংয়ের দক্ষতাকে| ভারত যখনই বিপদে পড়তো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দাদা নিজে ছুটে আসতেন বল করতে| শুধু তাই নয় তাঁর সুইংয়ের জাদুতে পরাস্ত হতে দেখেছি বিশ্বের সব দিকপাল ব্যাটারদের| সৌরভ গাঙ্গুলী আজ বহুবছর পর হাত ঘোরালেন একটা প্রদর্শনী ম্যাচে| সেই ম্যাচের ছবি দেখে চোখে পড়লো তাঁর টপ আর্ম অ্যাকশন, অসাধারণ রিস্ট পজিশন এবং হ্যান্ড সুইংয়টা| যেটা আজকের তরুন প্রজন্মের কাছে সত্যিই শিক্ষনীয়|

জার্সি লঞ্চ অনুষ্ঠান বাতিল করল পাকিস্তান
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে জার্সি লঞ্চ অনুষ্ঠান বাতিল করল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। এরইমধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড শনিবার পাক দলের বিশ্বকাপ জার্সির লঞ্চ অনুষ্ঠান বাতিল করে দিয়েছে । উল্লেখ্য, এই জার্সি লঞ্চ ইভেন্ট পাকিস্তান বনাম অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচের ঠিক আগে হওয়ার কথা ছিল। জানা গিয়েছে, পাকিস্তান সরকারের বিদেশ মন্ত্রক থেকে অনুমোদন না পাওয়ার কারণে জার্সি লঞ্চ ইভেন্ট বাতিল করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সোমবার পাকিস্তান সরকার টি-২০ বিশ্বকাপ নিয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। এখনও পর্যন্ত পিসিবি-ও কিছু স্পষ্ট করেনি। পাকিস্তান অবশ্য টি-২০ বিশ্বকাপের দল আগেই ঘোষণা করে দিয়েছে। বিশ্বকাপ ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা, তবে এই দলের বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। তবে ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডানাতে হবে আদৌ পাকিস্তান খেলবে কি না টুর্নামেন্টে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে খেলবে না, পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানাল আইসিসি। যতক্ষণ না পাকিস্তান নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা সরকারি ভাবে তাদের জানাচ্ছে, মুখ খুলবে না বললেও আর অপেক্ষা করতে পারল না আইসিসি। পাকিস্তানকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েই বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা বলেছে, জাতীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের ভূমিকাকে আইসিসি সম্মান করে। কিন্তু পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থের পরিপন্থী। গোটা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ক্রিকেটপ্রেমী, যাঁদের মধ্যে পাকিস্তানের সমর্থকেরাও রয়েছেন, তাঁদের ভালর কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নয়। আইসিসি জানিয়েছে, তারা প্রত্যাশা করে পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি লিখেছে, “পিসিবি তাদের দেশের ক্রিকেটের উপর এর সুদূরপ্রসারী এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবের কথা বিবেচনা করবে। কারণ এটি বিশ্ব ক্রিকেটের বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে, যার অন্যতম সদস্য এবং সুবিধাভোগী পিসিবি নিজেই। পাকিস্তানের ‘বাছাই করা ম্যাচ খেলার’ অবস্থান বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মূল ভিত্তির সঙ্গে মেলানো কঠিন। কারণ, এ ধরণের প্রতিযোগিতায় যোগ্যতা অর্জন করা সকল দলের কাছে প্রত্যাশা থাকে যে, তারা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। আইসিসির অগ্রাধিকার হল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফল ভাবে আয়োজন করা। পিসিবি-সহ এর সকল সদস্যেরও এটা দায়িত্ব হওয়া উচিত। আইসিসি আশা করে পিসিবি একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করবে যা বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত সকলের স্বার্থ রক্ষা করবে।





