বিজয় হাজারে ট্রফিতে জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে ছেলেখেলা করল বাংলা। একতরফা ম্যাচে উড়িয়ে দিল তাদের। দলের জয়ের ভিত গড়ে দিলেন তিন পেসার মহম্মদ শামি, আকাশদীপ ও মুকেশ কুমার। তাঁদের দাপটে মাত্র ৬৩ রান অল আউট হয়ে যায় জম্মু-কাশ্মীর। ১০ ওভারের আগেই সেই রান তাড়া করে ৯ উইকেটে জিতে যায় বাংলা। অর্থাৎ, ১০০ ওভারের ম্যাচ শেষ হয়ে যায় মাত্র ৩০ ওভারে। জম্মু-কাশ্মীর দুর্বল দল নয়। চলতি বিজয় হজারেতে এর আগে তিন ম্যাচের মধ্যে দু’টি জিতেছিল তারা। পয়েন্ট তালিকায় বাংলার উপরেও ছিল। কিন্তু বুধবার সব হিসাব বদলে গেল। রাজকোটের মাঠে টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরন। তাঁর সিদ্ধান্ত যে ঠিক, তা বোঝা যায় ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই। কামরান ইকবালকে শূন্য রান ফেরান শামি। পরের ওভারে মুরুগান অশ্বিনকে শুন্য রানে আউট করেন আকাশদীপ। পঞ্চম ওভারে আবার ধাক্কা দেন শামি। এ বার তিনি আউট করেন ইয়াওয়ের হাসানকে। জম্মু-কাশ্মীরে ব্যাটারদের মধ্যে শুভম খাজুরিয়া (১২) ও অধিনায়ক পারশ ডোগরা (১৯) দুই অঙ্কে পৌঁছন। বাকি কেউ ১০ রানও করতে পারেননি। শামি ও আকাশদীপের পর নজর কাড়েন মুকেশও। আগের ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এই ম্যাচে নেন ৪ উইকেট। ৪ উইকেট পান আকাশদীপও। শামির ঝুলিতে ২ উইকেট। তিন পেসারের দাপটে ২০.৪ ওভারে ৬৩ রানে অল আউট হয়ে যায় জম্মু-কাশ্মীর। ৬৪ রান তাড়া করতে যে বেশি সময় লাগবে না তা নিশ্চিত ছিল। কিন্তু বাংলা চেয়েছিল, যত দ্রুত সম্ভব খেলা শেষ করতে। অধিনায়ক ঈশ্বরন (৪) রান না পেলেও আগের ম্যাচে শতরান করা অভিষেক পোড়েল ও তিন নম্বরে নামা সুদীপ ঘরামি দ্রুত রান করেন। ৯.৩ ওভারে জিতে যায় বাংলা। অভিষেক ৩০ ও সুদীপ ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় পাঁচ থেকে এক লাফে দু’নম্বরে উঠল বাংলা। তাদের নেট রানরেট ১.০৭৮। শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। দু’দলের পয়েন্ট সমান হলেও উত্তরপ্রদেশের ম্যাচ এখনও চলছে। সেটা জিতলে তারা শীর্ষেই থাকবে। বিদর্ভ ও বরোদাও তাদের ম্যাচ খেলছে। জিতলে নেট রেনরেটে তারাও বাংলাকে টপকে জেতে পারে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলে নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন মহম্মদ সামি। অজিত আগরকরদের বাধ্য করেছেন তাঁকে নিয়ে ভাবতে। আবার ভারতের জার্সি গায়ে খেলতে দেখা যেতে পারে মহম্মদ সামিকে। শেষ বার ৯ মার্চ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে খেলেছিলেন মহম্মদ সামি। তার পর থেকে আর ভারতীয় জার্সিতে দেখা যায়নি তাঁকে। আবার সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ে শামির প্রত্যাবর্তন হতে পারে। ভারতীয় বোর্ডের এক সূত্র জানিয়েছে, ঘরোয়া ক্রিকেটে শামির পারফরম্যান্সের দিকে নজর ছিল নির্বাচকদের। সামি নজর কেড়েছেন। ওই সূত্র বলেছে, “সামির কথা প্রায়ই আলোচনা হত। ওর ফিটনেস নিয়ে চিন্তা ছিল। সামির মতো বোলারের মান নিয়ে সন্দেহ করার কিছু নেই। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ে শামি ফিরতে পারে। ওর উইকেট নেওয়ার দক্ষতা রয়েছে। এমনকি, ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপেও ও খেলতে পারে।”২০২৩ সালের এক দিনের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৩ উইকেট নিয়েছিলেন সামি। তা-ও শুরুর চারটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি তিনি। তার পরেই চোট পান। দীর্ঘ দিন ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন। ফিরে এসে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে খেলেন। কিন্তু শামির পারফরম্যান্স পছন্দ হয়নি নির্বাচকদের। ফলে তার পর থেকে আর জাতীয় দলে সুযোগ পাননি তিনি। সেই সুযোগ এ বার পেতে পারেন বাংলার পেসার। নির্বাচক প্রধান আগরকর জানিয়েছিলেন, সামির চোট নিয়ে কোনও তথ্য তাঁদের কাছে নেই। তাই অভিজ্ঞ পেসার দলের সুযোগ পাচ্ছেন না। জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ায় অভিমান হয়েছিল শামির। তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তাঁর চোট কেমন আছে সেটা বোর্ডকে জানানো তাঁর কাজ নয়। তাঁর সঙ্গে বোর্ডের কোনও কর্তা যোগাযোগ করেননি। তার পর থেকে অবশ্য রঞ্জি ট্রফি, মুস্তাক আলি ট্রফির কিছু ম্যাচে শামির খেলা দেখতে এসেছিলেন জাতীয় নির্বাচকেরা। তাঁদের নজর কেড়েছেন সামি।বাংলার হয়ে রঞ্জিতে চার ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়েছেন সামি। সৈয়দ মুস্তাক আলিতে নিয়েছে ১৬ উইকেট। বিজয় হাজারের চার ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছেন। বুধবার জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে ৬ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন সামি। তাঁর পারফরম্যান্স ভাল লেগেছে নির্বাচকদের। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ে জসপ্রীত বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়া হবে। সেই জায়গায় সামিকে নেওয়া হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, অর্শদীপ সিংহ ও হর্ষিত রানাকে খেলানো হয়েছিল। প্রসিদ্ধের পারফরম্যান্স খুশি করতে পারেনি নির্বাচকদের। নিউজিল্যান্ড সিরিজে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন, তা হলে আরও এক বার জাতীয় দলে খেলার দৌড়ে এগিয়ে যাবেন।





