Tuesday, July 7, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‌‌মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্মী ভান্ডারে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ !‌ ১৫ বছরের কাজের নিরিখে রাজ্যবাসীর কাছে সরকারের দায়বদ্ধতার ছবি?‌

২০২৬ সালের ভোটের আগে ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান পেশের সরকারি কর্মসূচিতে মমতা জুড়ে দিলেন ‘পাঁচালি’ও। নবান্নে তিন মেয়াদের কাজের খতিয়ান বা রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। যার পোশাকি নাম ‘উন্নয়নের পাঁচালি’। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে চতুর্থ বার ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া শাসকদল তৃণমূল। নবান্নের সভাঘর থেকে গত তিনটি দফায় অর্থাৎ ১৫ বছরে রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ান বা ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দফতরের সচিব এবং মন্ত্রীরা। দুপুর দেড়টার কিছু পরে শুরু বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা ভিডিওর মাধ্যমে উন্নয়নের পাঁচালি পেশ করেন। এরপরেই ছ’টি ভাষায় রিপোর্ট কার্ডের উদ্বোধন করেন মমতা জানান, রিপোর্ট কার্ডের তথ্য এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এক সপ্তাহের মধ্যে তা সকলের কাছে পৌঁছে যাবে। মমতা বলেন, “২০১১ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম, তখনের তুলনায় অর্থনৈতিক সাফল্য জিএসডিপি বেড়ে এখন প্রায় ২০ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।” তিনি জানান, রাজ্যের কর এবং রাজস্ব বেড়েছে ৫.৩৩ গুণ বেড়েছে। এ ছাড়াও, ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার বেড়েছে ১৭.৬৭ শতাংশ। এ ছাড়াও, ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার বেড়ছে ১৭.৬৭ শতাংশ। সোশ্যাল সেক্টর এক্সপেন্ডিচার বেড়েছে ১৪.৪৬ শতাংশের বেশি। কৃষি ক্ষেত্রে বেড়েছে ৯.১৬ গুণ বেশি। ফিজ়িক্যাল সেক্টর এক্সপেন্ডিচার বেড়েছে ৬.৯৩ গুণ বেশি। ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল অর্থাৎ ১০ বছরে ১০ বছরে এক কোটি ৭২ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রসীমার বাইরে আনা হয়েছে।

বেকারত্ব এবং কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান তত্বে মমতা বলেন, “রাজ্যে দু’কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। সারা দেশে আমরা বেকারত্ব হার আমরা ৪০ শতাংশ কমিয়েছে। এখানে আরও এক লক্ষ কর্মসংস্থান হবে।’’ দেউচা পাচামিতেও এক লক্ষ কর্মসংস্থান হবে, আশাবাদী মমতা। তিনি আরও জানান, রাজ্যে মেট্রোর কোচ, লোকাল কোচ, ভারী যন্ত্রপাতি, জাহাজ তৈরি হচ্ছে। সিমেন্ট, ইস্পাত কারখানার কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘‘ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পে রাজ্যে এক কোটি ৩০ লক্ষের বেশি মানুষ কাজ করছেন। ৪২ লক্ষ ছেলেমেয়েকে স্কিল ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। আমরা ১২ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করেছি, যা গোটা ভারতের মধ্যে বাংলা মডেল। অনেক রাজ্যে বিজেপি দেখানোর জন্য করছে। বিহারে ভোটের আগেও করেছে। আমরা তো প্রতি বছরই ১২ হাজার করে দিই। পাঁচ বছরে ৬০ হাজার। সবুজশ্রী প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা। আনন্দধারা প্রকল্পে খরচের পরিমাণ এক কোটি ২১ লক্ষ। স্বাস্থ্যখাতে আমাদের বাজেট ১৪ বছরে ছ’গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হয় দু’কোটি ৪৫ লক্ষ পরিবারকে। খরচ ১৩ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। এছাড়াও জয় বাংলা প্রকল্পে বিধবা ভাতা পাচ্ছেন ২০ লক্ষ ৫৭ হাজার, বার্ধক্য ভাতা ৫৫ লক্ষ ৬১ হাজার, মানবিক ভাতা সাত লক্ষ ৫৯ হাজার, জয় জোহার দু’লক্ষ ৯৮ হাজার, তপশিলি বন্ধু ১১ লক্ষ ৪৫ হাজার, সমব্যথী ২৮ লক্ষ মানুষ পাচ্ছেন। মোট খরচ ১০ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।’’ দু’কোটি ২১ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়াও, কন্যাশ্রী পায় এক কোটি জন। রূপশ্রী প্রকল্পের অধীনে ২২.০২ লক্ষ মেয়েকে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান মমতা।

প্রশাসনের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন, নির্বাচনের কাজের মধ্যেও সাধারণ মানুষের কাজ গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে। জেলায় জেলায় আবাস, সড়ক, জলসংযোগ, স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিকাঠামো-সহ অন্যান্য চলমান কাজের গতি যাতে শ্লথ না-হয়, তার জন্য ১০ জন আধিকারিকের একটি পর্যবেক্ষক বাহিনী গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে নির্দেশ দিয়েছেন, সেই পর্যবেক্ষণের কাজ কেন্দ্রীয় ভাবে তদারকি করার জন্য একটি ‘মনিটরিং টিম’ গঠন করতে হবে। সেখানে কাকে কাকে রাখা হবে, তা মুখ্যসচিবের অগ্রাধিকারের উপর ছেড়ে দিয়েছেন মমতা। সরকারকে বুথস্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পুজোর আগে থেকে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচি শুরু করেছিল নবান্ন। সেই কর্মসূচির মূল ভাবনা ছিল, সাধারণ মানুষ নিজের পাড়ায় দাঁড়িয়ে একেবারে বুথস্তরের সমস্যার কথা বলবেন। তার পর সেই সমস্যা সমাধানে রাজ্য সরকার ভূমিকা গ্রহণ করবে। যার জন্য বুথপিছু ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল রাজ্য সরকার। রাস্তা, আলো, পানীয় জল, ছোট সেতুর মতো ছোট-ছোট সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যেই অর্থ দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। মাস দুয়েকের মধ্যে তার বাস্তবায়ন চান মমতা। সে কারণেই ১০ পর্যবেক্ষকের বাহিনী গড়ে দিলেন তিনি। যে যে জেলা আবাস, রাস্তা, পানীয় জল সংযোগের কাজ দ্রুত ভাল ভাবে করতে পারবে, তাদের রাজ্য সরকারের তরফে পুরষ্কৃত করা হবে বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

২০১১ সালে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে রাজ্যে নানা জনকল্যাণ মূলক কর্মসূচি চালু হয়েছে। ২০১১ থেকে ২০২৫ এই ১৫ বছরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, গ্রামোন্নয়ন ও নারী কল্যাণ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী অগ্রগতি হয়েছে, তার পরিসংখ্যান পেশ করা হবে। প্রতিটি দপ্তর ইতিমধ্যেই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে লাভবান মানুষের সংখ্যা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে ধাপে ধাপে ৯৪টি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করেছে তৃণমূল সরকার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, কৃষক বন্ধুর মতো প্রকল্প আম জনতাকে নগদের জোগান সুনিশ্চিত করেছে। কেন্দ্র প্রাপ্য আটকে দেওয়ার পরও কর্মশ্রী, বাংলার বাড়ি প্রকল্প চালু রাখা হয়েছে। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্প আজ গোটা দেশের কাছে মডেল মহিলা ভোট আকৃষ্ট করার জন্য। কর্মসূচির শুরুতেই একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়। তাতে মমতার সরকারের অজস্র সামাজিক প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য দিক, খরচের হিসাব তুলে ধরা হয়। তার পরই মমতা মঞ্চে ডেকে নেন সঙ্গীত শিল্পী ইমন চক্রবর্তীকে। ইমন কীর্তনের আঙ্গিকে খোল-খঞ্জনির সঙ্গে ‘পাঁচালি’ পাঠ করেন। সেই পাঁচালির কথাতেও আবার সরকারি প্রকল্প, সরকারের অভিমুখ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছিল স্পষ্ট। মঙ্গলেই মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন মমতা। রাতে থাকবেন বহরমপুরেই। বুধবার তাঁর সভা রয়েছে মালদহের গাজলে। বৃহস্পতিতে সভা বহরমপুর স্টেডিয়ামে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles