Friday, July 17, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

একটি প্রাণীর ছ’টি চোখ! চমকপ্রদ নতুন বিবর্তনীয় রহস্য উন্মোচন

জাপানের সুশিমা দ্বীপে আবিষ্কৃত এক উজ্জ্বল নীল রঙের, ছয়-চোখওয়ালা স্প্রিংটেইল বিজ্ঞানীদের কাছে এক চমকপ্রদ নতুন বিবর্তনীয় রহস্য উন্মোচন করেছে। গবেষকদের মতে, ক্ষুদ্রাকৃতির এই প্রাণীর দৈর্ঘ্য মাত্র ০.০৬ থেকে ০.০৭ ইঞ্চি, অর্থাৎ চালের দানার চেয়েও ছোট। এর মাথার দুই পাশে তিনটি করে মোট ছয়টি চোখ রয়েছে, যা দুই সারিতে নিখুঁতভাবে সাজানো। গবেষণার নেতৃত্ব দেন জাপানের নারা প্রদেশের কিনদাই ইউনিভার্সিটির হিরো কাসাই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘কলেম্বোলা’ নামে পরিচিত ক্ষুদ্র ছয়-পা প্রাণীদের নিয়ে কাজ করে আসছেন। এরা সাধারণত মাটির পচনশীল স্তরে বাস করে এবং ক্ষুদ্রাকৃতির হলেও শক্তিশালী লাফ দেওয়ার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। কাসাই তাঁর গবেষণাপত্রে লিখেছেন, “এই গবেষণায় আমরা প্যারানুরা গণের চারটি নতুন প্রজাতি বর্ণনা করেছি।” এর মধ্যে অন্যতম হল Paranura tsushimaensis, যেটি সুশিমা দ্বীপে সংগ্রহ করা হয় এবং এর দেহে ছয়টি স্পষ্ট কালো চোখ দেখা যায়। গবেষকেরা পচা ডালের ভেতর থেকে দুইটি স্ত্রী, তিনটি পুরুষ এবং একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক নমুনা সংগ্রহ করেন।

নিগাতা প্রদেশের সাদো দ্বীপে মৃত ডালপালা থেকে ছয়টি স্ত্রী স্প্রিংটেইল পাওয়া যায়, যেগুলো Paranura nakamurai নামে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। হলদে-সাদা রঙের এই প্রজাতির দৈর্ঘ্য ০.০৩ থেকে ০.০৬ ইঞ্চির মধ্যে। গবেষকেরা জানান, এটির নামকরণ করা হয়েছে কাহিতো নাকামুরার সম্মানে, যিনি প্রথম প্রজাতিটি খুঁজে পান। নারা এলাকার মাউন্ট শ্যাকাগাটাকে পাহাড়ি বনে গবেষকেরা পাঁচটি স্ত্রী এবং একটি পুরুষ নমুনা সংগ্রহ করেন Paranura alpicola প্রজাতির। প্রায় ০.০৫ থেকে ০.০৯ ইঞ্চি দীর্ঘ এই প্রজাতির দেহ মোটা ও হলুদ রঙের। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নারার বিভিন্ন স্থানে চালানো সমীক্ষায় আরেকটি নতুন প্রজাতি Paranura convallis এর সন্ধান পাওয়া যায়। কমলা রঙের এই প্রজাতির দেহ তুলনামূলক ছোট এবং এটি ছয়টি চোখযুক্ত। দৈর্ঘ্য প্রায় ০.০৬ থেকে ০.০৯ ইঞ্চি। গবেষকেরা জানান, এই ক্ষুদ্র আর্থ্রোপডদের রঙিন দেহ কেবল শারীরিক বৈশিষ্ট্য নয়। সেটাই পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন। কলেম্বোলার রঞ্জকতা অনেক সময় সূর্যালোকের বিকিরণ থেকে সুরক্ষা দেয় বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে। বনভূমির মাটির গভীর ছায়ায় রঙের এই বৈচিত্র্য তাদের খাদ্যাভ্যাস ও বাসস্থলের ভিন্নতারও নির্দেশক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles