মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরছেন শুভাংশু! মহাকাশ জয় করে এবার ঘরে ফেরার পালা। রবিবারই মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করেন ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা। অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানের অন্য তিন মহাকাশচারীও রওনা দেবেন পৃথিবীর উদ্দেশে। স্পেস স্টেশনে ফেয়ারওয়েল এবং সেখান থেকে আনডকিং-পুরোটাই সরাসরি সম্প্রচার করবে নাসা। ভারতীয় সময় সন্ধে সাড়ে সাতটায় শুরু ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠান। নাসার এক্সপিডিশন ৭৩র সাতজন সদস্য বিদায় সংবর্ধনা দেবেন শুভাংশু-সহ চার মহাকাশচারীকে। সংবর্ধনা সরাসরি সম্প্রচার করবে নাসা। ফেয়ারওয়েলের পর ভারতীয় সময় সোম দুপুর দু’টো নাগাদ শুরু হবে শুভাংশুদের আনডকিং প্রক্রিয়া। আনডকিং শেষ হওয়ার পর পৃথিবীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন শুভাংশুরা। সরাসরি দেখা যাবে নাসার ওয়েবসাইট এবং সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে। শুভাংশুদের মহাকাশযান অবতরণ করবে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে। সেই স্প্ল্যাশডাউনের মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারবেন আমজনতা, নাসার সোশাল মিডিয়ার দৌলতে। ২৬ জুন ইতিহাস তৈরি করেন ভারতীয় নভশ্চর শুভাংশু শুক্লা। অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানের অংশ হিসাবে অন্য তিন মহাকাশচারীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পৌঁছান শুভাংশু। মহাকাশ থেকে একাধিক বিষয়ে গবেষণা করে এবার ঘরে ফিরবেন। ১৪ জুলাই ভারতীয় সময়ানুসারে বিকেল ৪টে ৩৫ মিনিটে আমেরিকার সময় ভোর ৭টা বেজে ৫ মিনিটে ড্রাগন স্টেশন থেকে বিচ্ছিন্ন হবে। তারপর পৃথিবীর অভিমুখে যাত্রা করবে ড্রাগন। প্রায় ৩০ মিনিট এই যাত্রার সরাসরি সম্প্রচার করবে নাসা।

তারপর নাসার সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে। শুভাংশুদের মহাকাশযান পৃথিবীতে প্রবেশের পর সমুদ্রে অবতরণের সময় ফের শুরু হবে লাইভ টেলিকাস্ট। ভারতীয় সময় মঙ্গল ভোর তিনটের সময় পৃথিবীতে ফিরবেন শুভাংশুরা। সেই দৃশ্যও সম্প্রচারিত হবে নাসার ওয়েবসাইটে। মহাকাশ থেকে ভারতকে আত্মবিশ্বাসী, ভয়ডরহীন, গর্বিত এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষায় পরিপূর্ণ লাগছেস মন্তব্য মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লার। ১৯৮৪ সালে প্রথম ভারতীয় মহাকাশচারী রাকেশ শর্মা যে অবিস্মরণীয় মন্তব্য করেছিলেন, সেটার রেশ ধরেই ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু বলেন, ‘আজও এখান থেকে ভারতকে দেখে মনে হচ্ছে, সারে জাঁহা যে আচ্ছা….।’ আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র থেকে পৃথিবীর দিকে রওনা দিতে চলেছেন ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন। তার আগে অ্যাক্সিওম-৪ মিশনের মহাকাশচারীদের জন্য বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছেন। আর তিনি যা শিখেছেন, সেই অভিজ্ঞতা দেশবাসীর সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। তাঁর কথায়, ‘এটা আমার কাছে মায়াবী মনে হচ্ছিল। আমার এই যাত্রাটা দুর্দান্ত কাটছে।’ পৃথিবীতে ফিরেই মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন। ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে অবতরণের পরে বিশেষ নজরদারির মধ্যে তাঁকে থাকতে হবে। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে মোটামুটি সাতদিন নজরদারিতে রাখা হবে। যেমন হয়েছিল সুনীতা উইলিয়ামসের ক্ষেত্রেও। ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশুকে যে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে, সেটার জন্য ইসরোর প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আসলে কয়েক মাস পরেই ভারতের গগনযান মহাকাশে পাড়ি দেবে। নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করতে পারে ইসরো এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু মহাকাশের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারার জন্যই তাঁকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল।

গত কয়েক বছর বিদেশে থাকার কারণে মায়ের হাতের রান্না খাওয়া হয়নি শুভাংশুর। মায়ের কাছে আবদার করেছেন, এ বার দেশে ফিরে তাঁর হাতের রান্না খাবেন। জানিয়েছেন আশা শুক্লা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে আইএসএস শুরু প্রস্তুতি। সাত দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবেন মহাকাশচারীরা। লখনউয়ের শুভাংশুর পৃথিবীতে ফেরার সময় গুনছেন মা আশা শুক্লা। অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানে গত ২৬ জুন আইএসএস-এ পা রাখেন শুভাংশু এবং তাঁর তিন সঙ্গী। নাসা একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সোমবার বিকেল ৪টে ৩৫ মিনিটে ভারতীয় সময় আইএসএস থেকে রওনা হবেন চার মহাকাশচারী। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো জানিয়েছে, আনডক প্রক্রিয়ার পরে মঙ্গলবার বিকেল ৩টের ভারতীয় সময় ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে পৌঁছোবে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেস এক্সের তৈরি ড্রাগন মহাকাশযান। ইসরোর তরফে বলা হয়েছে, ‘‘অবতরণ (স্প্ল্যাশডাউন)-এর পরে শুভাংশুকে থাকতে হবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে। ফ্লাইট সার্জেনের তত্ত্বাবধানে সাত দিন চলবে সেই প্রক্রিয়া, যাতে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন তাঁরা।’’ ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, যে ক’দিন শুভাংশু আইএসএস-এ রয়েছেন, সেই দিনগুলিতে তাঁর শরীর এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নজর রেখেছেন ইসরোর ফ্লাইট সার্জেন। ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে পরামর্শ দিয়েছেন। পৃথিবীতে ফেরার পরে সেই সার্জেনের অধীনেই কিছু দিন থাকবেন শুভাংশু। পৃথিবীর পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
শুভাংশুর আইএসএস-যাত্রার জন্য ইসরো প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে। ২০২৭ সালে মহাকাশে মানুষ পাঠাবে ভারত। গগনযান প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করতেই শুভাংশুকে আইএসএস-এ পাঠানো হয়েছে। রাকেশ শর্মার প্রায় চার দশক পরে কোনও ভারতীয় মহাকাশে গেলেন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার এই অভিযানে শুভাংশু ছাড়াও আরও তিন নভশ্চর হলেন ক্রু-কমান্ডার পেগি হুইটসন, মিশন বিশেষজ্ঞ স্লাওস উজানস্কি-উইজনিউস্কি এবং টিবর কাপু। নাসার অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানের গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, মঙ্গলবার এই চার মহাকাশচারীর সঙ্গে ড্রাগন মহাকাশযানে পৃথিবীতে ফিরবে প্রায় ৫৮০ পাউন্ড প্রায় ২৬৩ কেজি জিনিশপত্র। তার মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতি এবং আইএসএস-এ বসে গবেষণার নমুনা। সেখানে বসে প্রায় ৬০টি গবেষণা করেছেন শুভাংশুরা। সেই সব জিনিসপত্র রবিবারই গোছগাছ করতে শুরু করেছেন মহাকাশচারীরা। লখনউয়ে বসে পুত্র শুভাংশুর মহাকাশ অভিযান দেখেছেন মা আশা। পুত্রের ফেরার দিন গুনছেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রার্থনা করছি, ছেলে যাতে সফল অভিযান করে ফিরে আসতে পারে। ও ফিরলে দারুণ ভাবে অভ্যর্থনা জানাব ওকে।’’
মহাকাশচারীর শুভাংশুদের পাতে ছিল চিংড়ি থেকে কেক সবই। মহাশূন্যে ভেসে ভেসে গল্প আর খাওয়ার ছবিও দেখিয়েছেন মহাকাশচারীরা। নাসার নভচর জনি কিমের এক পোস্টে দেখা যায় আইএসএসে এএক্স-৪-এর মহাকাশচারীরা গল্পগুজব করতে করতে ভোজ সারছেন। কিম লিখেছিলেন, ‘‘এই অভিযানে এসে একটা স্মরণীয় সন্ধ্যা কাটালাম। নতুন বন্ধুদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খেলাম আইএসএসে। আমরা একে অপরের গল্প শোনালাম। বিভিন্ন দেশের মানুষ এই মহাকাশে এসে মনুষ্যত্বেরই প্রতিনিধিত্ব করেন।’’ কিমের ভিডিয়োতে শুভাংশু-সহ মহাকাশচারীদের ভেসে ভেসে হাসি-গল্প করতে দেখা গিয়েছিল। শুরুতে ছিল বিশেষ প্রক্রিয়াকরণ করা চিংড়ির ককটেল, বিস্কুট। তার পরে ছিল চিকেন এবং বিফের ফাহিতা। শেষপাতে ছিল আখরোট, মিস্টি পাউরুটি এবং কনডেনস্ড দুধ দিয়ে তৈরি কেক।
অন্ধকারের মাঝে ঘন নীল রঙের একটি গোলক। উপরে ভাসছে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের জানলা থেকে এমনই দৃশ্যের ছবি পাঠিয়েছিলেন ভারতীয় নভশ্চর শুভাংশু শুক্লা। এটাই নাকি পৃথিবী! ছবিতে অবশ্য দেশবিদেশের সীমারেখা, স্থল, সমুদ্র কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। মহাকাশ থেকে এমনই দেখতে লাগে আমাদের গ্রহকে। নাসার অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানের গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা ভারতের ভবিষ্যতের ‘গগনযাত্রী’! তাঁর তোলা দু’টি ছবিতে মহাকাশ স্টেশনের কুপোলা থেকে পৃথিবীকে দেখাচ্ছে একটি ঘন নীল রঙের গোলকের মতো। উপরে সাদা মেঘের স্তর। ২৮ জুন নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও কথা হয়েছিল শুভাংশুর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছিলেন, মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে কেমন দেখতে লাগে? সে বারেও শুভাংশু উত্তর দিয়েছিলেন, মহাকাশ থেকে দেশবিদেশের সীমানা দেখা যায় না। দেখা যায় না কাঁটাতার। কোনও ভেদাভেদ নয়, বরং মহাকাশ জাগিয়ে তোলে ঐক্য এবং মানবতার অনুভূতি! ইসরোর সাতটি এবং নাসার পাঁচটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করেন শুভাংশু। এর মধ্যে অন্যতম হল মায়োজেনেসিস। মাধ্যাকর্ষণের অনুপস্থিতি কী ভাবে পেশিক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে, তা খতিয়ে দেখাই এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য। এ ছাড়াও, টার্ডিগ্রেড্স নিয়েও গবেষণা করছেন তাঁরা। পৃথিবীর এই আনুবীক্ষণিক সামুদ্রিক জীব গভীর সমুদ্রের প্রতিকূল অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে। মহাকাশের মাধ্যাকর্ষণশূন্য পরিবেশেও এরা বেঁচে থাকবে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখছেন শুভাংশুরা। এ ছাড়া, মাইক্রোঅ্যালগি ও সায়ানোব্যাক্টিরিয়া মহাকাশে কেমন আচরণ করে, তা-ও দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, সুদীর্ঘ মহাকাশ অভিযানে নভশ্চরদের খাবারের জোগান এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি সুনিশ্চিত করতে সাহায্য করবে এই গবেষণা।
মহাকাশে ১৬ বার সূর্য ওঠে। ১৬ বার সূর্য অস্ত যায়। সূর্য ধরে মহাকাশচারীরা চলেন না। চলেন গ্রিনিচ সময় ধরে। ইসরোর উত্তর পূর্ব স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার এনইএসএসি একটি কর্মসূচিতে আইএসএস থেকে শুভাংশু জানিয়েছিলেন কী ভাবে তিনি মহাকাশে খাচ্ছেন, ঘুমোচ্ছেন, সে সব প্রশ্নেরও উত্তর দেন। এত বার সূর্যোদয় হয়, তার মধ্যে কী ভাবে ঘুমোন। শুভাংশু বলেন, ‘‘আইএসএসে আমরা এক দিনে ১৬ বার সূর্যোদয় এবং ১৬ বার সূর্যাস্ত দেখি। কারণ, আমরা প্রতি ৯০ মিনিটে পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণ করি। সূর্যের আলো অনুসরণ করে আমরা কাজ করি না, গ্রিনিচ সময়, ভারতীয় সময় থেকে সাড়ে ৫ ঘণ্টা পিছিয়ে ধরে করি।’’ মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ নেই। সেই পরিস্থিতিতে কী ভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা, তা-ও জানিয়ে শুভাংশুর কথায়, ‘‘পৃথিবীতে মাধ্যাকর্ষণের মধ্যে আমরা বড় হয়েছি। কিন্তু মহাকাশে তা নেই। শরীরে অনেক রকমের পরিবর্তন হয় এখানে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। প্রথমে অস্বস্তি স্পেস সিকনেস হয়। ওষুধ রয়েছে। আমরা দ্রুত মানিয়ে নিয়েছি।’’ এই নিয়ে যে পৃথিবীতেই তাঁদের প্রশিক্ষণ হয়েছিল, সে কথাও জানিয়েছেন শুভাংশু। মহাকাশে শরীরকে সুস্থ রাখার বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেন মহাকাশচারীরা। শুভাংশু কথায়, ‘‘শূন্য মাধ্যাকর্ষণের পেশী এবং হাড় ক্ষয় হয়। আমরা রোজ ট্রেডমিল, সাইকেল, স্টেংথ প্রশিক্ষণ যন্ত্রে শরীরচর্চা করি। এই অভিযানে এবং পৃথিবীতে ফেরা পর্যন্ত সুস্থ থাকা খুব দরকার।’’ কিছু কাজের ক্ষেত্রে মহাকাশে রোবোট-বাহু ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন লখনউয়ের শুভাংশু।
মহাকাশের আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন আইএসএস থেকে সোমবারই পৃথিবীর দিকে ফিরতি যাত্রা শুরু করবেন ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্ল এবং তাঁর সঙ্গীরা। তাঁদের অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানের ‘আনডকিং’ প্রক্রিয়া শুরু হবে ঠিক বিকেল ৪টে ৩৫ মিনিটে ভারতীয় সময়। সব কিছু ঠিক থাকলে শুভাংশুরা পৃথিবীতে পৌঁছোবেন পরের দিন, মঙ্গলবার। প্রায় ২৩ ঘণ্টার যাত্রা শেষে শুভাংশুদের নিয়ে ক্যালিফর্নিয়ার উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে নামবে ক্যাপসুল। ভারতের ঘড়িতে তখন বিকেল ৩টে ১ মিনিট (১৫ জুলাই)। সমুদ্রে মহাকাশযান অবতরণের প্রক্রিয়াকে ‘স্প্ল্যাশডাউন’ বলা হয়। এই সমগ্র প্রক্রিয়াটি আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের ওয়েবসাইটে সরাসরি সম্প্রচার করবে। যে ‘ড্র্যাগন’ মহাকাশযানে চড়ে শুভাংশুরা আইএসএস-এ গিয়েছিলেন, তাতে চড়েই পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। সোমবার বিকেলে শুরু হবে ‘আনডকিং’। শুভাংশুদের নিয়ে মহাকাশযানটি মহাকাশ স্টেশন থেকে আলাদা হবে। একেই ‘আনডকিং’ বলা হয়। এই প্রক্রিয়া স্বংয়ক্রিয়। তবে ভিতর থেকে নভশ্চরেরা প্রক্রিয়াটির দিকে নজর রাখেন। আইএসএস থেকে আলাদা হওয়ার পরেই শুভাংশুদের ক্যাপসুল পৃথিবীর দিকে এগোতে শুরু করবে। এই সময়ে ক্যাপসুলের গতি কমানোর জন্য এক বার রকেট নিক্ষেপ করা হবে। একে বলে ‘রেট্রোগ্রেড বার্ন’। মহাকাশযানটি যাতে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণে প্রবেশ করতে পারে, তা নিশ্চিত করে এই ‘রেট্রোগ্রেড বার্ন’। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে শুভাংশুদের ক্যাপসুল তীব্র তাপ এবং ঘর্ষণের সম্মুখীন হবে। এই সময়ে ক্যাপসুলের গতি থাকবে ঘণ্টায় ২৮ হাজার কিলোমিটার। ধীরে ধীরে যা কমে আসবে ২৪ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর দু’টি প্যারাশুট খুলবে শুভাংশুদের ক্যাপসুল থেকে। প্রথমটি ছোট। তার ফলে গতি সামান্য কমবে। তার পর নির্দিষ্ট দূরত্বে পৌঁছোনোর পরে খুলে যাবে মূল প্যারাশুটটি। নাসা জানিয়েছে, যদি আবহাওয়া অনুকূল থাকে, ক্যালিফর্নিয়ার উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে ধীরে ধীরে নামবে শুভাংশুদের ক্যাপসুল। সমুদ্রে অবতরণের পর স্পেসএক্সের একটি দল দ্রুত পৌঁছে যাবে শুভাংশুদের ক্যাপসুলের কাছে। ক্যাপসুলটিকে তারা তুলে নেবে জাহাজে। তার পর সেখানেই একে একে বেরিয়ে আসবেন নভশ্চরেরা। মহাকাশ থেকে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি নিয়ে আসছেন শুভাংশুরা। ড্র্যাগন মহাকাশযানে থাকছে ২৬৩ কিলোগ্রামের বাড়তি জিনিসপত্র। মহাকাশে নাসার ৬০-এর বেশি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষার তথ্য এবং হার্ডওয়্যার শুভাংশুদের সঙ্গে থাকবে।




