Wednesday, July 1, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ধোনি নেতৃত্বে ফিরলেন, জয় করতে পারলেন না!‌ প্রত্যাবর্তনেও পরাজিত চেন্নাই, অলরাউন্ডার নারিন তাণ্ডবে জিতল কেকেআর

চেন্নাই সুপার কিংস: ১০৩/৯ (শিবম ৩১, বিজয় ২৯, নারিন ১৩/৩)
কলকাতা নাইট রাইডার্স: ১০৭/২ (নারিন ৪৪, ডি’কক ২৩, নুর ৮/১)
৮ উইকেটে জয়ী কেকেআর।

অধিনায়ক ধোনি ফিরলেন। খেললেন। জয় জুটল না কপালে। মহেন্দ্র সিং ধোনি। চেন্নাই সুপার কিংস নেতা। নাইট রাইডার্সের সামনে নাজেহাল অবস্থা চেন্নাই সুপার কিংসের। ৯ ওভার বাকি থাকতে রাহানেদের কাছে ৮ উইকেটে হার সিএসকের। প্রথমে চিপকের মাঠে সবচেয়ে কম রান করার লজ্জার নজির ধোনির দলের। দুই ইনিংসেই নায়ক সুনীল নারিন। লখনউ ম্যাচের হারের ধাক্কা সামলে জয়ের সরণিতে ফিরল নাইটরা। লিগ টেবিলে আপাতত তিন নম্বরে। হারের আগে জনগর্জনে অধিনায়ক ধোনিকে বরণ চিপকের। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ৫৯ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নিয়ে আইপিএলের পয়েন্ট টেবলে তিন নম্বরে কলকাতা নাইট রাইডার্স। চেন্নাইকে ৮ উইকেটে হারিয়ে অজিঙ্ক রাহানেরা ষষ্ঠ স্থান থেকে উঠে এলেন তৃতীয় স্থানে।

চিপকে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন নাইট অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। প্রথম একাদশে মইন আলি। মাস্টারস্ট্রোক নাইটদের। মইন ফেরালেন ডেভন কনওয়েকে ১২। পরের ওভারে হর্ষিত রানা আউট করেন রাচীন রবীন্দ্রকে ৪। বরুণ চক্রবর্তীর স্পিনে কাত বিজয় শঙ্কর ২৯। নারিনের শিকার প্রথমে ফেরালেন রাহুল ত্রিপাঠী ১৬, জাদেজা ০। অশ্বিনকে ১ রানে ফেরালেন হর্ষিত রানা। দীপক হুডা ফিরলেন ০ রানে। নয় নম্বরে আসা অধিনায়ক ধোনি ৪ বলে ১ রান করে নারিনের ঘূর্ণিতে আউট। ৬৫ রানে ৪ উইকেট থেকে আচমকাই ৭৫ রানে ৮ উইকেট চেন্নাই। শিবম দুবের ৩১ রানের সুবাদে ১০৩ রান করে চেন্নাই। নাইটদের হয়ে ৩ উইকেট সুনীল নারিনের। দুটি করে উইকেট নেন বরুণ চক্রবর্তী ও হর্ষিত রানা।

চিপকে নারিন-বরুণরা ভেলকি দেখালেও, পারলেন না নুর-জাদেজা-অশ্বিনরা। প্রথম ওভারের খলিল আহমেদের শেষ বলে ছক্কা দিয়ে শুরু। অশ্বিনের এক ওভারেও দুটি ছয় হাঁকালেন। নারিনের তাণ্ডবে যোগ্য সঙ্গ দিলেন কুইন্টন ডি’ককও। ১৬ বলে ২৩ রানে প্রোটিয়া ক্রিকেটারের ইনিংসে তিনটি ছক্কা। নারিনের খাতায় ৫টি ছয়ে ১৮ বলে ৪৪ রান। জিততে প্রয়োজন ১৯ রান করলেন রাহানে ২০ ও রিঙ্কু ১৫। ৯ ওভার বাকি থাকতে ৮ উইকেট হাতে রেখে সহজেই ম্যাচ জিতল কেকেআর। ৬ ম্যাচ খেলে ৬ পয়েন্ট রাহানেদের।

আইপিএল ২০২৫-এর ২৫তম ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে হারের পরে একাধিক লজ্জার নজির গড়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস। আইপিএলে প্রথমবার চেন্নাই টানা পাঁচ ম্যাচে হার।
চিপকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ৫০ রানে হারে চেন্নাই সুপার কিংস। চলতি আইপিএল-এ চেন্নাইয়ের প্রথম হার। গুয়াহাটিতে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে ৬ রানে হারে চেন্নাই সুপার কিংস। চিপকে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে ২৫ রানে হেরে হারের হ্যাটট্রিক করে চেন্নাই। চণ্ডীগড়ে পাঞ্জাব কিংস ১৮ রানে হারায়। চিপকে ঘরের মাঠে ফিরে এবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে ৮ উইকেটে হার মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংসের। চলতি মরশুমে প্রথে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে চিপকে চার উইকেটে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করে চেন্নাই সুপার কিংস। ১৭ বছর পরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে চিপকে পরাজিত চেন্নাই সুপার কিংস। দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে ২৫ রানে পরাজিত চেন্নাই সুপার কিংস। কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছেও চেন্নাই পরাজিত আট উইকেটে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে ৫৯ বল বাকি থাকতেই হেরে এই লজ্জার রেকর্ড গড়ল চেন্নাই সুপার কিংস। এর আগে চেন্নাইয়ের সবচেয়ে বড় হার চেন্নাই সুপার কিংস বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ২০২০ সালে ১০ উইকেটে হার, ৪৬ বল বাকি থাকতে। চেন্নাই সুপার কিংস বনাম পাঞ্জাব কিংস ২০২১ সালে ৪২ বল বাকি থাকতে। চেন্নাই সুপার কিংস বনাম দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ২০১২ সালে ৪০ বল বাকি থাকতে। চেন্নাই সুপার কিংস বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ২০০৮ সালে ৩৭ বল বাকি থাকতে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে পরাজয়ের পরে নজিরবিহীন লজ্জার রেকর্ড চেন্নাই সুপার কিংসের।

চেন্নাইয়ের ক্রিকেটারদেপ প্রতি সন্তুষ্ট নন মাহি। ম্যাচের পরেই তাই কড়া সমালোচনা মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মুখে। সাফ জানান, কাউকে নকল করতে গেলে বিপদে পড়তে হবে। দলের ক্রিকেটারদের ধোনি বলেন, “পরিবেশের কথা মাথায় রাখা সবার আগে দরকার। দু’-একটা ম্যাচে আমরা ভাল খেলেছি। কিন্তু নিজে যে শটটা খেলতে পারো, সেটার উপরে বিশ্বাস রাখলে ভাল। কোনও ব্যক্তি বা দলের দিকে তাকিয়ে সেটা অনুকরণ করতে যাওয়া উচিত নয়। আমাদের দলে দু’জন ভাল ওপেনার রয়েছে। কিন্তু স্কোরবোর্ডের দিকে তাকিয়ে দ্রুততার সঙ্গে রান তোলার চেষ্টা না করাই ভাল। কয়েকটা বাউন্ডারি মারলে এমনিই রান বাড়তে থাকবে। যদি ৬০ রান তুলব এটা মাথায় রেখে নামি তা হলে মুশকিল। শুরুর দিকে পর পর উইকেট হারালে মিডল অর্ডারের কাজ কঠিন হয়ে যায়। তখন দ্রুতগতিতে রান তোলা যায় না। বেশ কয়েকটা ম্যাচ আমাদের পক্ষে গেল না। অনেক গভীরে গিয়ে বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে। এই পিচে কাজটা কঠিন ছিল। কিন্তু সেটা সামলানো উচিত ছিল আমাদের। আজ তো সে রকম রানই তুলতে পারিনি। আমাদের ব্যাটিংয়ের সময় বল থেমে থেমে আসছিল। দ্বিতীয় ইনিংসেও তাই হয়েছে। বিপক্ষ দলে ভাল স্পিনার থাকলে খেলা কঠিন হয়ে যায়। তার উপর আমরা লম্বা জুটিও গড়তে পারিনি।”

চেন্নাই সুপার কিংসকে তাদের ঘরের মাঠে হারিয়েছে কেকেআরের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানের দল। ম্যাচ শেষে রাহানে বলেন, “আমি গত দু’বছর চেন্নাইয়ের হয়ে খেলেছি। মইনও (আলি) খেলেছে। ডোয়েন ব্র্যাভো দীর্ঘ দিন চেন্নাইয়ে খেলেছে। এখানকার উইকেট আমরা তিন জনই ভাল ভাবে চিনি। সেই জন্য পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়েছে। কী পরিকল্পনা করেছিলাম তা এখনই বলব না। কারণ, সামনে আরও অনেক ম্যাচ খেলতে হবে। স্পিনারেরা যে ভাবে বল করেছে তা এক কথায় অসাধারণ। মইনকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যে সঠিক তা প্রমাণিত হয়েছে। সুনীল ও বরুণও দুর্দান্ত বল করেছে। আগের ম্যাচে সুনীল রান দিয়েছিল। কিন্তু এই ম্যাচে ও ফিরেছে। বৈভব ও হর্ষিতও ভাল বল করেছে। সব মিলিয়ে দলের বোলারদের নিয়ে আমি খুব খুশি। আমরা শুরুতে শুধু জয়ের কথা ভাবছিলাম। কত তাড়াতাড়ি জিতব তা ভাবিনি। কিন্তু পাওয়ার প্লে-তে সুনীল ও ডি’কক দুর্দান্ত শুরু করেছে। পাওয়ার প্লে-র পরে আমাদের মনে হয়েছিল, এ বার দ্রুত খেলা শেষ করতে পারি। তা হলে নেট রানরেট ভাল হবে। সেটা হয়েছে। এ বারের প্রতিযোগিতায় আমরা খারাপ খেলিনি। দু’একটা ভুল করেছি। তাই হেরেছি। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আগামী দিনে আর সেই ভুল করতে চাই না। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে পরের ম্যাচে নামব।”

আইপিএলের পয়েন্ট টেবলের শীর্ষে গুজরাত টাইটান্স। শুভমন গিলের দল পাঁচটি ম্যাচ খেলে চারটিতে জয় পেয়েছে। পয়েন্ট ৮। নেট রান রেট ১.৪১৩। দ্বিতীয় স্থানে দিল্লি ক্যাপিটালস। অক্ষর পটেলের দলের চার ম্যাচে চার জয়। পয়েন্ট ৮। দিল্লির নেট রান রেট ১.২৭৮। পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে কলকাতা। ছ’টি ম্যাচ খেলে তৃতীয় জয় রাহানেদের পয়েন্ট ৬। কেকেআরের নেট রান রেট ০.৮০৩। পয়েন্ট টেবলের চতুর্থ স্থানে রয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। পাঁচ ম্যাচে তিনটি জয়ে আরসিবির পয়েন্ট ৬। নেট রান রেট ০.৫৩৯। পঞ্চম স্থানে পাঞ্জাব কিংস। শ্রেয়স আয়ারের দলের চার ম্যাচ খেলে তিনটি জয়ে পয়েন্ট ৬। নেট রান রেট ০.২৮৯। ষষ্ঠ স্থানে লখনউ সুপার জায়ান্টস। ঋষভ পন্থেরা পাঁচ ম্যাচ খেলে তিনটি জয়ে পয়েন্ট ৬। লখনউয়ের নেট রান রেট ০.০৭৮। সপ্তম স্থানে রাজস্থান রয়্যালস। সঞ্জু স্যামসনের দল পাঁচটি ম্যাচ খেলে দু’টি জিতে পয়েন্ট ৪। রাজস্থানের নেট রান রেট -০.৭৩৩। পয়েন্ট তালিকায় শেষ তিনটি জায়গায় রয়েছে যথাক্রমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, চেন্নাই সুপার কিংস এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। অষ্টম স্থানে থাকা মুম্বই পাঁচটি ম্যাচ খেলে একটিতে জয়, পয়েন্ট ২। নেট রান রেট -০.০১০। নবম স্থানে থাকা চেন্নাই ছ’টি ম্যাচ খেলে একটি জিতেছে। ধোনিদের পয়েন্ট ২। নেট রান রেট -১.৫৫৪। দশম স্থানে থাকা হায়দরাবাদ পাঁচটি ম্যাচ খেলে একটিতে জয়। প্যাট কামিন্সের দলের পয়েন্ট ২। তাঁদের নেট রান রেট -১.৬২৯।

কেকেআরের পরের ম্যাচ ১৫ এপ্রিল, মঙ্গলবার। চণ্ডীগড়ের মাঠে পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে খেলবে। গত বার কেকেআরকে চ্যাম্পিয়ন করা শ্রেয়স আয়ারের দলের সামনে রাহানেরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles