RK NEWZ ‘‘বাংলা আর চুপ থাকবে না। খেলা বন্ধ হবে আর বিকাশ শুরু হবে। এবার খেলা শেষ,শুরু উন্নয়ন।’’ আদিত্যনাথ দাবি করেন, আট-ন’বছর আগে উত্তরপ্রদেশের যে অবস্থা ছিল, এখন পশ্চিমবঙ্গের তাই হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলায় যে অব্যবস্থা এখন চলছে, এক সময়ে সেই অবস্থা ছিল উত্তরপ্রদেশে।’’ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসে বার বার উত্তরপ্রদেশের ‘উন্নয়ন’-এর উদাহরণ টানলেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আশ্বাস দিলেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি, গুন্ডাবাজি, অনাচার, জুলমবাজি এবং লুঠতরাজ বন্ধ হবে। রবিবার বাঁকুড়ার পাত্রসায়রে গরুর হাটতলার জনসভা থেকে যোগী বাংলায় বললেন, ‘‘বাংলা আর চুপ থাকবে না। খেলা বন্ধ হবে আর বিকাশ শুরু হবে। এবার খেলা শেষ, শুরু উন্নয়ন।’’ বাঁকুড়ার সোনামুখী বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী দিবাকর ঘরামি, ইন্দাসের বিজেপি প্রার্থী নির্মল কুমার ধাড়া ও বড়জোড়ার বিজেপি প্রার্থী বিল্লেশ্বর সিংহের সমর্থনে পাত্রসায়রে জনসভা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী। সেখানে উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে যোগী বলেন, ‘‘বাংলায় এ বার ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আর তা হলেই উত্তপ্রদেশের মতো বাংলাতেও বিকাশের কাজ শুরু হবে। বাংলা আর চুপ থাকবে না। বাংলায় এবার খেলা বন্ধ হবে আর বিকাশ শুরু হবে। এ বার খেলা শেষ, শুরু উন্নয়ন।’’ প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের স্লোগান ছিল ‘খেলা হবে’। সেই নিয়ে গান বেঁধেও প্রচার করা হয়েছিল। এ বার সেই স্লোগানকেই কটাক্ষ করলেন যোগী। সভার শুরুতে যোগী রাজ্যের অতীত গরিমা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘‘এই বাংলার মাটি জন্ম দিয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো সাহিত্যিক, সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মহান নেতা, বিবেকানন্দের মতো ঋষিকে। এই মাটি রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং স্বামী প্রণবানন্দের মাটি। এই বাংলা গোটা দেশকে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় স্তোত্র দিয়েছে। এক সময় দেশের জিডিপির একটা বড় অংশ আসত এই বাংলার শিল্প, ব্যবসা ও কৃষি থেকে। গর্বের সেই মাটিকে প্রথমে কংগ্রেস, পরে বামেরা এবং এখন তৃণমূল কলুষিত করেছে। শুধু লুট, গুন্ডাগিরি, অরজাকতা ও তোষণের রাজনীতি চলছে বাংলায়।’’ যোগী দাবি করেন, আট-নয় বছর আগে উত্তরপ্রদেশের যে অবস্থা ছিল, এখন পশ্চিমবঙ্গের তাই হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলার যে অব্যবস্থা এখন চলছে এক সময় সেই অবস্থা ছিল উত্তরপ্রদেশে। আট থেকে নয় বছর আগে দাঙ্গা, গুন্ডাগিরি লেগেই থাকত। মাসের পর মাস কার্ফু জারি থাকত। নতুন প্রজন্মের হাতে কাজ ছিল না।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠার পর সেই পরিস্থিতির বদল ঘটেছে। এখন তোষণের বদলে উত্তরপ্রদেশের মানুষ সন্তুষ্টির স্বাদ পাচ্ছে। যত মাফিয়া ও গুন্ডা ছিল, তারা সকলেই নরকে চলে গিয়েছে। এখন প্রতিটি নাগরিক সুরক্ষিত। বুলেট ট্রেনের গতিতে সেখানে রামমন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’’ যোগী আরও বলেন, ‘‘বাংলার কৃষকেরা আলুর দাম পাচ্ছেন না। উত্তরপ্রদেশে যেখানে ১৫ থেকে ১৬ টাকা কিলো দরে চাষিরা আলুর দাম পাচ্ছে, সেখানে বাংলার কৃষকেরা ১ থেকে ২ টাকা কিলো দরে আলু বিক্রি করছেন।’’ তাঁর কথায়, ‘‘উত্তরপ্রদেশে নতুন নতুন শিল্প তৈরি হয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্য বেড়েছে। আয়ুষ্মান ভারত ও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় লক্ষ লক্ষ মানুষ বাড়ি পেয়েছেন। ভাল স্বাস্থ্য শিক্ষার ব্যবস্থা হয়েছে। শুধু সরকারি ক্ষেত্রে ৯ লক্ষ চাকরি হয়েছে। বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান হয়েছে আরও ৩ কোটি মানুষের।’’

রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর সভা থেকে বাড়ির ফেরার পথে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে উত্তেজনা বাঁকুড়ার সোনামুখীতে। অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় যাত্রিবাহী বাসে হামলা চালিয়েছেন তৃণমূলের লোকজন। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল। বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের গরু হাটতলা মাঠে সোনামুখী বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী দিবাকর ঘরামি এবং ইন্দাস বিধানসভার প্রার্থী নির্মল ধাড়ার সমর্থনে সভা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। সভায় যোগ দিতে বাস এবং ছোট গাড়ি চড়ে সোনামুখী এবং ইন্দাস বিধানসভার প্রচুর বিজেপি কর্মী পাত্রসায়েরে যান। সভা শেষে বিজেপি কর্মীদের নিয়ে বেশ কয়েকটি বাস সোনামুখীর দিকে ফিরছিল। অভিযোগ সোনামুখী থানার ধানসিমলা এলাকার কাছাকাছি ‘রিজ়ার্ভ’ করা বাসটিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন কয়েক জন। ইটের ঘায়ে জখম হন একাধিক বিজেপি কর্মী। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেফতারির দাবিতে বাস থেকে নেমে রাস্তা অবরোধ করেন পদ্মশিবিরের কর্মীরা। আরও কয়েকটি বাস থেকে নেমে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। তাঁরাও প্রতিবাদ জানাতে জড়ো হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিল পুলিশ। তাদের আশ্বাসে শেষমেশ অবরোধ ওঠে। কিন্তু দুই রাজনৈতিক দলের তরজা অব্যাহত। অবরোধস্থলে গিয়েছিলেন সোনামুখীর বিজেপি প্রার্থী দিবাকর ঘরামী। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বিজেপি কর্মীদের অবরোধ চলার পর পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ ওঠার পর দিবাকর বলেন, ‘‘ভোটের লড়াইয়ে এঁটে উঠতে পারবে না বুঝতে পেরে এই সব কাণ্ড করছে তৃণমূল। আমাদের একজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় আমরা অবরোধ তুলে নিয়েছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘হামলাকারী তৃণমূল কর্মীরা বুঝতে পারছেন না যাদের কথায় তাঁরা এভাবে আক্রমণ করছেন, আগামী ৪ এপ্রিলের পর তাঁদের আর পাশে পাবেন না।’’





