বাংলায় প্রথম। অনূর্ধ্ব ১০ ‘কিডস অন জি ফাইভ’। বেবি ক্রিকেট লিগ। দেশের বহু রাজ্যে চালু অনূর্ধ্ব ১২ বেবি ক্রিকেট লিগ। কিন্তু ৮-১০ বছরের জন্য টুর্নামেন্ট ? বাংলায় শুরু। এনসিসি অনূর্ধ্ব-১০ বেবি ক্রিকেট লিগ। কোচিং সেন্টারে কচি-কাচাদের ভিড় দেখে ভাবনার জন্ম। প্রচুর ভিডিও আজকাল ভাইরাল হয় লিলিপুটদের ব্যাটিং নিয়ে। কোচিং সেন্টারে, ঘেরা নেটে এর কেউ কেউ এখনই ওস্তাদ। রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা অনূর্ধ্ব ১৩ দের নানান টুর্নামেন্ট আয়োজন করে। তা কখনও স্কুল পর্যায়ের। কখনও জেলা ভিত্তিক। আবার হয়, ক্রিকেট কোচিং সেন্টারের মধ্যে। সেখান থেকে দারুন সম্ভাবনা দেখিয়ে ছাড়পত্র পায় রাজ্যের অনূর্ধ্ব ১৬ দলে। সেটা বিসিসিআইয়ের টুর্নামেন্ট। এবার বাংলায় এই প্রথমবার অনূর্ধ্ব-১০ বাচ্চাদের ক্রিকেট! খেলার নিয়মে আরও অভিনব ব্যাপার আছে। মাঠ ছোটো করা হলেও, ১১ গজের একটি ‘ইনার সার্কেল’ আছে – যার মধ্যে উইকেটকিপার এবং স্লিপ ছাড়া অন্য কোনো ফিল্ডারকে ক্যাচিং পজিশনে রাখা যাচ্ছে না। এই নিয়মটি প্রয়োগ কেন ? যাতে, ক্লোজ-ইন ফিল্ডারদের আঘাতের ঝুঁকি কমে যায়। AI এর সাহায্যে এই বেবি লিগ ক্রিকেট নিয়ে খোঁজ করতে গিয়ে যা মিলল তাতে একদিন এই টুর্নামেন্ট বাংলায় শুরু হয়েছিল বলে লেখা থাকবে। অনূর্ধ্ব ১২ দের ক্রিকেটে বেবি লিগ আছে দেশ জুড়ে। অনূর্ধ্ব ১০ এক অভিনব চমক। কোথায় কোথায় চলে বেবি লিগ? দিল্লি, কানপুর, মুম্বই অনূর্দ্ধ লিগ এখন নিয়মিত কীভাবে শুরু? ২০০৮ সালে Indian Premier League শুরু হওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেটে “লিগ কালচার” প্রবল হয়ে ওঠে। এরপর ২০১০-এর দশকে Delhi-based junior leagues academy-driven tournaments ধীরে ধীরে অনূর্দ্ধ ১২ থেকে আজ অনূর্দ্ধ ১০-এ। কোথায় হচ্ছে এই লিগ? দিল্লি–NCR, উত্তরপ্রদেশের কানপুর, মুম্বইয়ে স্কুল-একাডেমি ভিত্তিক, রাজস্থান, পাঞ্জাবের লোকাল উদ্যোগে, কলকাতা আনঅফিশিয়াল, একাডেমি-ভিত্তিক ম্যাচ।

প্রয়াত ক্রিকেট প্রশাসক কিংবদন্তি জগমোহন ডালমিয়ার একমাত্র পুত্র প্রাক্তন সিএবি সচিব সভাপতি এবং আইপিএল কমিটির সদস্য অভিষেক ডালমিয়া বলেন, “ ছোটরা কোচিংয়ে অনেক সময় খরচ করে কিন্তু ম্যাচ খেলার সুযোগ তেমন পায় না। ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেখানে মানসিক দৃঢ়তা, সচেতনতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র ম্যাচ খেলাতে খেলতেই গড়ে ওঠে। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাইছি, যেখানে এই বয়সের শিশুরা প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট উপভোগ করতে পারবে, ম্যাচের চাপ সামলাতে শিখবে, খেলার মাঝেই কোচদের কাছ থেকে শিখবে। সবচেয়ে বড় কথা, খেলাটাকে আরও ভালোবাসাবে।”

ন্যাশনাল ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি পবন ভালোটিয়া প্রশাসক জগমোহন ডালমিয়ার ছায়া সঙ্গী এই অভিনব টুর্নামেন্ট প্রসঙ্গে বলেছেন, “অভিষেক ডালমিয়ার দূরদর্শিতা এবং উদ্যোগকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি জানাই, যার ভাবনা ও আবেগ এই টুর্নামেন্টকে বাস্তব রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।” মেনল্যান্ড সম্বরণ ক্রিকেট অ্যাকাডেমির কর্ণধার এবং রনজি জয়ী অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, অল্প বয়সে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা একজন ক্রিকেটারের জন্য আদর্শ। এনসিসি বেবি লিগ খুদে ক্রিকেটারদের উন্নতি এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে যে ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সেটি প্রশংসনীয়। আমরা সুযোগ বুঝে দুই মাঠে এই কচিদের ক্রিকেট দেখে চলেছি। এই ছোটদের ক্রিকেটারদের জন্য একটি ফেসবুক পেজ চালু করা হয়েছে। যেখান প্রতিদিন, এই খুদেদের খেলার স্কোর যেমন রাখা হচ্ছে, তেমনি খেলার বিশেষ বিশেষ মুহুর্তের ছবি আপলোড করা হচ্ছে। ভিডিও ক্লিপ থাকছে। মাঠে হাজির হলে বোঝা যায়, এই খুদেরা টিভি দেখো কত কী নকল করে নিয়েছে। আদব কায়দা তো আছেই, আছে ব্যাটিং স্টাইল এর বোলিং ফিল্ডিং কেতাও।





