Thursday, April 3, 2025
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

হাঁসফাঁস গরম সুস্থ থাকতেই হবে!‌ হাজির গ্রীষ্মকাল, গরমের দাবদাহে মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম?

গরমে চড়চড় করে বাড়ছে পারদ। হাঁসফাঁস গরমের তীব্রতা। আরও বাড়বে বই কম নয়। কাঠফাটা গরম। স্বস্তি নেই। এসি কিংবা কুলারের হাওয়া সাময়িক আরাম। কাজের প্রয়োজনে বাইরে বেরতেই হবে। গলদঘর্ম হয়ে বাড়ি ফিরেই ফ্রিজের ঠান্ডা জল। স্নান করলেও শরীরের অবস্থা খারাপ। শরীরকে ভিতর থেকে ঠান্ডা রাখেত গরমকালে বেশ কিছু বিষয় মেনে চললেই সুস্থ থাকা যায়। গরমের সময়ে ঝাল, তেল, মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে খাদ্যতালিকায় ফল বা সবজি রাখতে হবে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার জন্য। তরমুজ, শসা, জামরুল, পটল, ঝিঙের মতো ফল অথবা সবজিতে জলের পরিমাণ বেশি থাকে। বেশি করে খাওয়ার চেষ্টা করা দরকার। ঘরোয়া টক দই। দারুণ স্বাস্থ্যকর। দই শরীরও ঠান্ডা রাখে। দইয়ের শরবত থেকে শুরু করে দই ভাত, দইয়ের রায়তা যে ভাবে হোক দই খাওয়া চাই-ই চাই। দই চিড়ে, খই দইয়ের মতো খাবার। গরমে শরীরে জলশূন্যতার সমস্যা দেখা যায়। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস জল পান করা উচিত। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে ক্লান্তি কম অনুভূত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাল থাকে। কালীন খাবার হিসেবে শসার চাহিদা সবসময় বেশি। শসার মধ্যে জলের পরিমাণ বেশি। এই ফল খেলে শরীর হাইড্রেট রাখে এবং দেহে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। দিনের যে কোনও সময়, যে কোনও উপায়ে আপনি শসা খেতে পারেন।

তরমুজ, খরমুজার মতো ফলের মধ্যে জলের পরিমাণ বেশি। এই ধরনের ফল খেলে শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হয় না। ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও ফাইবারের মতো উপাদান রয়েছে এই ফলের মধ্যে। গরমের দুপুরে গন্ধরাজ ঘোল, লস্যি প্রোবায়োটিক, প্রোটিন, ক্যালশিয়ামে ভরপুর এই পানীয় শরীরে পুষ্টি জোগায় এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। ঘোল, লস্যি না খেলেও টক দই। টক দইয়ের মধ্যে ভরপুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম, প্রোটিন ও প্রোবায়োটিক রয়েছে। গরমকালে শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখে টক দই। গরমে শারীরিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা কাটাতে লেবুর জল। লেবুর জলের মধ্যে ভিটামিন সি রয়েছে। এই পুষ্টি সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। লেবুর রস ভাতে মেখেও খেতে পারেন। গরমকালে রেড মিট একদম না। মাছ খান। মাছের ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা শারীরিক প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। মাছের পাতলা ঝোল শরীরকে হাইড্রেটও রাখবে। গরমে শরীরকে চাঙ্গা রাখতে অবশ্যই ডাবের জল। ডাবের জলের মধ্যে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন রয়েছে, যা দেহে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীরকে হাইড্রেট রাখার পাশাপাশি ডাবের জল হজমের সমস্যাও দূর করে।

গরমের সময় হালকা, সুতির আর আরামদায়ক পোশাক। খুব আঁটোসাঁটো পোশাক না পরাই ভাল। গাঢ় রঙের বদলে হালকা রঙের পোশাক শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময় বাইরে গেলে ছাতা, সানগ্লাস, টুপি ব্যবহার। বাড়িতে থাকলেও সকাল ১০ টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দরজা-জানলা বন্ধ রাখা দরকার। রোদে বেরোনোর কমপক্ষে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও জরুরি। ত্বক স্বাভাবিক হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার। তৈলাক্ত ও স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য জেল, স্প্রে, স্টিক সানস্ক্রিন ভাল। গরমে ত্বক ঠান্ডা রাখার জন্য বরফের টুকরো ঘষা যেতে পারে। শশার স্লাইস চোখের পাতায় লাগিয়ে বিশ্রাম। শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। গরমের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, ঘরকে যতটা সম্ভব ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখার চেষ্টা করা দরকার। শরীরচর্চা। গরমের কারণে অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করেন না যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সকালে বা সন্ধ্যায় হালকা ব্যায়াম, হাঁটা বা যোগব্যায়াম। শরীর চাঙ্গা থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

ত্বক থেকে চুল, সবেতেই দূষণ সহ অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে প্রভাব পড়ছে। স্ট্রেটনিং, স্মুদনিংয়ের মতো হরেক ট্রিটমেন্টের জেরেও চুলের প্রাকৃতিক জেল্লা নষ্ট। নিয়মিত চুলের যত্ন নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে গরমকালে বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। গরমের ঘাম, ধুলোবালি জমে স্ক্যাল্প দ্রুত নোংরা হয়ে যায়। আবার রোদের তাপে বাড়ে চুলের রুক্ষতা। গরমকালে কীভাবে চুলের যত্ন নিতে হবে। গরমে খোলা চুলে না বেরোনোই ভাল। চুল বেঁধে বাইরে দিনের বেলা স্কার্ফ বা টুপি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা দরকার। চুল কালার করতে হলে গরমে অ্যামোনিয়া ফ্রি হেয়ার কালার করলে চুল কালারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পাবে। গরমে চুলে কম তেল মাখাই শ্রেয়। তেল মাখলে বেশি ঘাম হয়। স্ক্যাল্পে ঘাম জমে চুলের ক্ষতি হতে পারে। গরমে একদিন অন্তর শ্যাম্পু করলে ঘাম হওয়ার ফলে স্ক্যাল্পে নোংরা জমলে তা চুলের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলবে না। চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে কন্ডিশনিং বা থেরাপিউটিক হেয়ার অয়েল দিয়ে ম্যাসাজও। হাইড্রেটিং হেয়ার টোনার ব্যবহার করলে চুল রুক্ষ হয়ে যাবে না। অ্যালোভেরা জেলে জল মিশিয়ে ঘরোয়া হেয়ার মিস্ট বানিয়ে করা যেতে পারে। ভিজে চুল ভাল করে শুকিয়ে তবেই বাঁধতে হবে। যতটা সম্ভব হেয়ার ড্রায়ারের ব্যবহার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। সপ্তাহে একদিন হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে চুলের জেল্লা বজায় থাকবে। বাজার চলতি মাস্কের বদলে বাড়িতে টকদই, মধু, ডিম একসঙ্গে ফেটিয়ে চুলে দেওয়া যেতে পারে।

চৈত্রের শুরু থেকেই কাঠফাটা রোদের তেজ, তাপমাত্রার পারদ উর্দ্ধগামী। কাজের প্রয়োজনে বাইরে না বেরিয়ে উপায় নেই। গ্রীষ্মকালে পোশাক পরে স্বস্তি। বিশেষ করে জিনস পরতে অনেকেরই অনীহা। যে কোনও বয়সের পুরুষ-মহিলার মধ্যে জিনসের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ক্লাসি ব্লু ডেনিম থেকে শুরু করে প্যাস্টেল শেড, মিড ওয়েস্ট থেকে হাই রাইস জিন্সই স্বাচ্ছন্দ্যের এই প্যান্টের সঙ্গে কুর্তা বা টি-শার্ট পরে নিলেই মহিলারা অফিস থেকে পার্টি, দিব্যি ঘুরে বেড়াতে পারেন। গরমে এই জিনস পরেই অস্বস্তি বেশি হয়। গ্রীষ্মের জন্য একেবারে পারফেক্ট ফ্যাব্রিক হল লিনেন। গরমে এই পোশাক পরে বেশ আরাম। শার্ট, কুর্তি ও টপের সঙ্গে মানায় লিনেনের ট্রাউজার্স। ফ্যাব্রিক গায়ের সঙ্গে মিশেও যায় না। জিনসের পরিবর্তে লিনেনের টাউজার্সই থাকতে পারে কালেকশনে। গ্রীষ্মকালে রোজকার পরার জন্য সুতির প্যান্ট। জিনসের সঙ্গে যে সব টপ, সেগুলি এই কটন প্যান্ট দিয়েও পরা যাবে। দু’-তিনটে কটন প্যান্ট ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কুর্তায় আরাম। দিব্যি ফর্ম্যাল লুকও থাকবে। গরমে প্রিন্টেড আউটফিটও বেশ চলে। গ্রীষ্মের দাবদাহে ফ্যাশনিস্তা হয়ে উঠতে প্রিন্টের প্যান্ট। সুতির উপর ছোট ছোট প্রিন্টের ট্রাউজার্স বেশ স্টাইলিশ। অফিস ছাড়াও অন্যান্য আউটিংয়ের জন্যও বটমওয়্যার ভাল। গরমকালে আঁটোসাঁটো পোশাক পরলে অস্বস্তি বাড়ে। জিনসের চাহিদা থাকে তলানিতে। এই সময়ে ঢিলেঢালা পালাজো, টপ, কুর্তা, শার্ট- সব কিছুর সঙ্গেই এখন পালাজো মানিয়ে যায়। রোদে এই বটমওয়্যার পরলে আরাম। অফিসে জগার প্যান্ট পরা চলেই না। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা হোক কিংবা সাধারন প্রয়োজনে বাইরে বেরোলে সুতির জগার প্যান্ট আরামদায়ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles