এআই এর যুগ। এরপর চেপে বসেছে ঘিবলি। ধুম উড়ে গেছে সকলের। মোদি-ট্রাম্প-শচীনের নতুন লুক! ঘিবলি-তে মুগ্ধ নেটদুনিয়া। ইন্টারনেটেই কীভাবে বানাবেন ছবি? কিছু ভাইরালও হয়ে যায়! নেট নাগরিকরা মাতলেন ঘিবলি স্টাইলে। ঘিবলি জ্বরে কাবু আপামর জনগণ! নিজেদের ছবি নিয়ে ঘিবলি স্টাইলে ছবি বানাতে মত্ত। তারকাদের ছবি ঘিবলি স্টাইলে। সোশাল মিডিয়া জুড়ে ছবির ঘিবলি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে শচীন তেণ্ডুলকর। ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে সাইনা নেহওয়াল। নয়া স্টাইলে মুগ্ধ নেটিজেনরা। ঘিবলি স্টাইল। ঘিবলি ইনকর্পোরেশন। জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি বিশ্বখ্যাত অ্যানিমেশন স্টুডিও।
বিশ্বখ্যাত অ্যানিমেশন স্টুডিওটি তৈরি হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। বিশ্ববিখ্যাত অ্যানিমেশনগুলি এই স্টুডিওতেই তৈরি হয়। ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’, ‘গ্রেভ অফ দ্য ফায়ারফ্লাইস’ থেকে শুরু করে ‘দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হেরন’। স্টুডিও ঘিবলির ছবিগুলি বানানো হয়। হাতে আঁকা হয় প্রত্যেকটা ফ্রেম। জলরং ও অ্যাক্রিলিকে রং করে সাজানো হয়। কম্পিউটার অ্যানিমেশন প্রযুক্তি ব্যবহার হল মূলত হাতেই ছবি আঁকা হয় এই স্টুডিওতে। নেট দুনিয়ায় ভাইরাল ঘিবলি স্টাইলে ছবি তৈরি। ঘিবলি স্টাইলে বিভিন্ন ছবি যেমন ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’র কিছু আইকনিক দৃশ্য, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিরাটের শতরানের মুহূর্ত। নিজেরাও এই ছবি বানিয়ে শেয়ার চলছে।
প্রথমে openai.com-এ লগ ইন করতে হবে। তারপরেই কনভারসেশন। ক্লিক করুন ‘নিউ চ্যাট’-এ। সেখানে একটি ইমেজ প্রম্পট লিখতে হবে। স্টুডিও ঘিবলি স্টাইলে যেভাবে ছবি তৈরি করতে চাইলেই বিস্তারিত লিখে এন্টার টিপলেই চলে আসবে নিজের ছবি। ছবিটি নিজের ডিভাইসে সেভ। ব্যাস! এই ধরনের ছবি বানানো যেতে পারে গ্রকের মতো এআই টুল ব্যবহার করেও। স্ন্যাপচ্যাটেও রয়েছে ঘিবলি ফিল্টার।
ঘিবলি জ্বরে ভুগছে গোটা বিশ্ব। সোশাল মিডিয়া কার্টুন স্টাইলের মজার মজার ছবি। তারকা থেকে সাধারণ নেটিজেন। নিজেকে কার্টুন চরিত্রে দেখার লোভ সামলাতে পারছেন না কেউই। বিশ্বজুড়ে ঘিবলি স্টাইলের এই জনপ্রিয়তায় নাজেহাল অবস্থা প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘চ্যাটজিটিপি’র। কাজের চাপে রাতের ঘুম ওড়ার জোগাড় হয়েছে সংস্থার কর্মীদের। সংস্থার প্রধান স্যাম অল্টম্যান বেশ চিন্তিত। বিশ্বব্যাপী ঘিবলির বিপুল জনপ্রিয়তার জেরে সংস্থার সার্ভারে বিরাট চাপ পড়েছে। ‘চ্যাটজিটিপি’র সিইও অল্টম্যান জানান, ‘চ্যাটজিপিটি’র ইমেজ জেনারেটরের বিপুল চাহিদার কারণে ওপেনএআই-এর জিপিইউগুলি ‘গলে’ যাচ্ছে। এই অবস্থায় ছবি তৈরির সীমা নির্ধারণ করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছি আমরা। গ্রাহক প্রতিদিন তিনটি করে ছবি তৈরি করতে পারবেন।’
কোটি কোটি মানুষের ছবি বানানোর আগ্রহ। ইন্টারনেট স্লো হয়ে গিয়েছে সংস্থার। সার্ভার ডাউন। নেটিজেনদের ধৈর্য ধরার আবেদন। এক্স হ্যান্ডেলে স্যাম অল্টম্যান লেখেন, ‘ছবি তৈরির সময় একটু ধৈর্য ধরুন। যা চলছে এটা পাগলামি। আমাদের টিমেরও ঘুম দরকার।’ অর্থাৎ অল্টম্যানের বার্তায় স্পষ্ট যে ঘিবলির জনপ্রিয়তা ঘুম ছুটিয়েছে ‘চ্যাটজিটিপি’র কর্মীদের। ঘিবলির জেরে ওভারটাইম কাজ কর্মীদের। চাপ সামলাতে ও পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে ছবি তৈরির পরিমাণ কমিয়েও দেওয়া হয়েছে।
১৯৮৫ সালে স্থাপিত জাপানের রাজধানী টোকিওয় অবস্থিত এক বিশ্বখ্যাত অ্যানিমেশন স্টুডিওর নাম স্টুডিও ঘিবলি ইনকর্পোরেশন। কম্পিউটার অ্যানিমেশন প্রযুক্তি। এআই-এর মাধ্যমে মুহূর্তে সেই ছবি তৈরি করে দিচ্ছে চ্যাটজিপিটির ‘ওপেন এআই’। ‘জিবলি’র মতো কার্টুন ছবি বানাতে গেলে গ্যাঁটের কড়ি খরচ করতে হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা। ডোনাল্ড ট্রাম্প, লিয়োলেন মেসি, ইলন মাস্ক, নরেন্দ্র মোদী বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেউই বাদ যাচ্ছেন না। তাঁদের ছবিও ‘জিবলি’ কার্টুনের মতো চাই। সংস্থার কর্ণধার স্যাম অল্টম্যানের কাতর আবেদন, ‘‘ওঁদের (সংস্থার কর্মীদের) ঘুমোতে দিন।’’
ওসাকার এক গবেষণাগারে তিন বছরের পরিশ্রমে ফুটবলের দেড়গুণ আয়তনের গোলকাকৃতি এক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার ‘কম্পু’ তৈরি করেছিলেন প্রফেসর শঙ্কু-সহ বিশ্ববিখ্যাত সাত বিজ্ঞানী। ১৯৭৮ সালে সত্যজিৎ রায়ের লেখনীতে সেই প্রাক্-আন্তর্জালের দুনিয়ায়, গুগলহীন পৃথিবীতে, ‘কম্পু’ ছিল বিশ্বকোষের প্রতিস্থাপক। পঞ্চাশ কোটি প্রশ্নের জবাব দিতে পারার পাশাপাশি ছিল বিবেচনার ক্ষমতা, খেলতে পারত ব্রিজ কিংবা দাবা, বিচার করতে পারত সঙ্গীতের সুরের। ঘটনাচক্রে এক সময় কম্পুর মধ্যে সঞ্চারিত হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ। সাম্প্রতিক কালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘চ্যাটজিপিটি’ গোটা বিশ্ব জুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। যন্ত্রেরই নবতম দক্ষতা যে কোনও ছবিকে ‘জিবলি’র কায়দায় কার্টুন বানানো। ‘জিবলি’র মতো কার্টুন ছবি বানাতে টাকা খরচ করে ‘চ্যাটজিপিটি’ প্রিমিয়াম ভার্সন কিনলেই ‘জিবলি’র মতো ছবি বানাতে পারবেন দিনে তিনটের বেশি নয়।