Thursday, April 3, 2025
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশুদ্ধতা, সততা, পবিত্রতা, অনির্বাণ শব্দগুলো আজ মায়ামমতাহীন!‌বিধানসভার চেয়ার ভাঙা থেকে অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজের ভর্ৎসনা?‌

বিধানসভা থেকে অক্সফোর্ড! সেই মমতা বাহিনীর চেয়ার ভাঙার কাণ্ডের ছবি। আজ নিরুপায় অন্য শহরে ভীত সন্ত্রস্থ মমতা। বিদেশীদের ভর্ৎসনা। তাঁরাও ওয়াকিবহাল মমতা সম্পর্কে। তাঁরাও আখ্যা দিয়ে চিৎকার করে বলতে পারেন ভণ্ডামি। বিদেশে থাকলেও চোখ রেখেথেন আরজিকরে প্রহসনে। বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে অসহায় নিরুপায়ভাবে খুন হওয়া ডাক্তারের মায়ের কান্না। বিধানসভার সোনালীকে নিয়ে রনং দেহী মমতা আর অক্সফোর্ডের নিরুপায় ঠান্ডা চিত্তে ব্রাদার ‌ব্রাদার অস্ফূট স্বর ধারী মমতা সম্পূর্ণ আলাদা দুটো মানুষ। বিধানসভার মমতার চেয়ে অক্সফোর্ডের মমতা অনেক বেশি সংযমী। সম্ভবত অনেক বেশি সতর্কও।

চোওপ!‌ বাংলার লোকমুখের কথায়, বাংলায় একটাই পোস্ট। বাকি সব ল্যাম্পপোস্ট। লন্ডনে কিন্তূ চোওপ শব্দের ব্যবহার নেই। অক্সফোর্ডের অধীনস্থ কেলগ কলেজ অনেকটা ক্যালকাটা ইউনিভারসিটির অধীনে থাকা হাওড়ার কানাইলাল ভট্টাচার্য কলেজের মতোই। সেই কেলগ কলেজের একটি কনফারেন্স হল। কোনও অড্‌টোরিয়াম বা বড়সড় হল নয়ই। কেলগের হাবে লোক ধারন ক্ষমতা ১৪০ জন। উপস্থিত ছিলেন ১৩০। একটু বেশী স্তাবকতা করে সবজান্তা জানা সাংঘাতিক তৈল মর্দনে সংখ্যাটি ২০০ ছাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি। ১৩০ লোকের জমায়েতের মাঝেও ক্ষীর না খাওয়া লোকের বিক্ষোভেই মাইক্রোফোন গমগম করছে। চতুষ্পার্শ্বে প্রতিবাদী সত্য বলার প্রচুর মুখ। কিছু তৈলে লেপিত জেলখাটা মুখ ততোধিক উন্মুখ হতবাক। আচমকাই পিছন থেকে আওয়াজ, ‘‘অনেক লাখ লাখ, কোটি কোটির অঙ্ক তো বলছেন। কয়েকটা কোম্পানির নাম বলতে পারবেন?’’ প্রশ্নকর্তার এক্কেবারে ঝামা ঘষে দিলেন। দেহবিভঙ্গে দৃশ‍্যতই একটু সত্য কথা প্রকাশ্যে বলার অভ্যাস। রাজা তুমি উলঙ্গ কেন বলতে তাঁর দ্বিধা নেই। তাঁকে তো কলকাতার পুলিশ দিয়ে হুমকি দিতে পারবেন না, রাজা। তাঁকে রাতের অন্ধকারে ক্যাডার দিয়ে খুনের হুমকি দিতে পারবেন না উলঙ্গ রাজা। গোটা হলঘরের মুন্ডু ঘুরে গেল এক চকিতে পিছন দিকে। ফোকাস তো সেদিকেই হওয়া উচিৎ, বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলতে পেরেছেন, ‘‌রাজা ‌তুমি উলঙ্গ কেন’‌?‌

অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজের খুবই ছোটো প্রেক্ষাগৃহের পোডিয়ামের সামনে দাঁড়ানো কৃশতনু মহিলা ঘাবড়ে গিয়ে ইনছিরির ল্যাজেগোবরে অবস্থা। পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগকারী ভুলভাল সাজানো সংস্থার নাম বলতে লাগলেন। আবার প্রশ্ন ধেয়ে এলো, ‘‘আপনি মিথ‍্যে কথা বলছেন!’’ সুতির শাড়ির মহিলা মেজাজ না হারিয়ে ওনলি ব্রাদার ব্রাদার স্বরে আধো আধো ভাব। তত ক্ষণে পিছনের সারিতে উঠে দাঁড়িয়েছে আরও কিছু প্রতিবাদী চেহারা। তাদের হাতে উঁচু করে ধরা সাদার উপর লাল রঙের হরফে লেখা প্রতিবাদী পোস্টার। বিক্ষোভের স্লোগানও। চোখে মুখে তাঁদেরও ফুটে উঠেছে আরজি করের ক্ষতবিক্ষত হয়ে মৃত্যমুখে ঢলে পরা অসহায় ডাক্তারের ছবি। সামনে বসা রাজার তর্জনীহেলনে পিছু হাঁটা তোষামুদে লিখিয়েরা হতভম্ব। বিদেশীরা রাজার সামনেই বোঝাতে চেষ্টা করলেন, আপনি যতই সন্দীপ ঘোষেদের আড়াল করার চেষ্টা করুন না কেন, সারা জীবন আপনাকে বয়ে বেড়াতে হবে, অসহায় ডাক্তারের মায়ের চোখের জল। সে লন্ডনেই হোক বা বিশ্বের যে কোনও দেশেই।

উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছিল হলঘরে। গুঞ্জন ক্রমশ পরিণত হচ্ছিল বিতণ্ডায়। চাপানউতর ধাবিত হচ্ছিল শব্দশ্লেষে। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছেন দর্শক-শ্রোতাদের কেউ কেউ। বলছেন উনি এখানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ওঁকে এখানে অপমান করা মানে দেশেরও অপমান। আপনারা এ ভাবে বিদেশের মাটিতে দেশের অপমান করতে পারেন না। আচ্ছা তাহলে ব্রিটিশদের ভারত শাসনে উনি কীভাবে সায় দিলেন?‌ তাহলে নেতাজী সুভাষচন্দ্র, মাতঙ্গীনি হাজরা, মাস্টারদা সূর্যসেনের লড়াইয়েক কোনও দাম নেই?‌ সাদা হাতকাটা ‘পাফ জ‍্যাকেট’ এবং পায়ে তথাকথিত ১৭ হাজার টাকার হাওয়াই চটি পরিহিতা তখনও নীরব। কাতর স্বরে বলছেন, ‘‘ইউ আর অল মাই ব্রাদার্স। আপনাদের আমি চকোলেট খাওয়াব। মিষ্টি খাওয়াব। আপনারা বরং কলকাতায় গিয়ে আপনাদের দলকে আরও মজবুত করুন। যাতে আমার সঙ্গে তারা লড়তে পারে।’’ বাংলা হলে স্বরের ঝাঁঝালো ভাব থাকতো, ওরা মাওবাদী, ওরা ওমুক দলের ক্যাডার, ওদের ওমুক দল পাঠিয়েছে। পরদিন রাতেই গ্রেফতার হতেন প্রতিবাদীরা। বিদেশের এক প্ল্যাকার্ডধারী তরুণ গলা চড়িয়ে বললেন, ‘‘আপনি যাদবপুরে যান! গিয়ে দেখুন সেখানে কী অবস্থা!’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথায় পরিস্থাতি সামাল দেওয়ার বুদ্ধি এলো। মঞ্চের ধারে দাঁড়ানো তাঁর নিরাপত্তারক্ষী স্বরূপ গোস্বামীর দিকে ফিরে হাতের ইঙ্গিতে একটা ছবির প্রিন্ট আউট চেয়ে নিলেন। যে ছবি তোলা হয়েছিল হাজরা মোড়ে লালু আলমের হাতে মার খেয়ে ব্যান্ডেজের ঘটনায়। এটা কী এই প্রশ্নের উত্তর?‌ আবার প্রশ্ন?‌ ঘটতে-থাকা বিদেশের মাটিতেও গোটা দৃশ‍্য বেশ উদ্বেগজনক। উনিই পশ্চিমবঙ্গের মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি কলকাতার টাউনহলে একটি ইংরেজি নিউজ চ‍্যানেলের আয়োজিত মঞ্চে দর্শকের সঙ্গে প্রশ্নোত্তরের অনুষ্ঠান শুরু করেও দর্শকের মধ‍্য থেকে ‘অপ্রিয়’ প্রশ্ন শুনে ক্রুদ্ধ হয়ে প্রশ্নকর্ত্রী তরুণীকে ‘মাওবাদী’ আখ‍্যা দিয়ে ল‍্যাপেল মাইক্রোফোন এক টানে খুলে ফেলে সটান হাঁটা লাগিয়েছিলেন। আর ফিরে আসেননি। অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজের ঘটনায় পালিয়ে টাওয়ার কোনও পথ ছিল না। কারন রাজা নিজেই নিজের অক্সফোর্ড ভাষনে নিজের সাবলীল ইংরেজী বলার নমুনা দেখানোর জন্য সকল নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে শোনা গেছে। সবাই তাঁদের প্রিয় নেত্রীর অক্সফোর্ড ভাষন শোনার জন্য তৈরী হয়ে রাত জেগেছিলেন। সুতরাং, পোডিয়াম ছেড়ে চলে যাওয়া বেশ অপমানজনক হতে পারে, ভেবেই নিয়েছিলেন ঠান্ডা মস্তিষ্কে। হু হু ইংরেজী বলার বিষয়টা রাজ্যবাসীর কাছেও পরিস্কার হয়ে যেতেই পারে?‌

রি-‌পোর্টার সমাজে ম্লেচ্ছ। একের পর এক বিদেশ ভ্রমণ কাহানির পর আরও প্রকট। পরম্পরা রূপোর চামচ চুরি করে ধরা পড়া, প্রিজন ভ্যানে রাজার নামে উচ্চস্বরে গোঁসা প্রকাশের পরই আবার আদাজল খেয়ে রাজারই তোষামোদ। গিরগিটির মতো প্রাণীরাও লজ্জা পাবে। এক রবাহূত রি-‌পোর্টার নিজের স্ত্রীকে এতোটা সম্মান দিয়ে নিজের কাছে রাখতে পেরেছেন কিনা, তা নিয়ে কানাঘুঁষো শোনা যায়। বিদেশীরাও রাজাকে প্রতিবাদী ভঙ্গিমায় আঙুল তুলে ‘লায়ার’ বলছেন। কতো বুকের পাটা?‌ দেশের একটি অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে সারা বিশ্বের দরবারে চিৎকার সাহস করে করে বলতে পেরেছেন, ‘‘ইউ কিলড অভয়া! ইউ কিলড আ ইয়ং ডক্টর! ইউ আর আ কিলার!’’ কলকাতার প্রতিবাদী ডাক্তাররা এই অভয়ার জন্য প্রতিবাদ করে, ভাবিষ্যতের চাকরি নিয়ে বেশ শঙ্কায় যাপন করছেন!‌

বিশুদ্ধতা, সততা, পবিত্রতা, অনির্বাণ দীপশিখা, মমতা শব্দগুলো আর বড়ই অসহায়। মেজাজ ধৈর্য হারিয়ে মঞ্চ ছাড়া একদমই এই লন্ডনে মানানসই হবে না। নীরব শান্ত হয়ে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের ‘বাবা-বাছা’ বলে নিবৃত্ত করার চেষ্টা। ‘‘ওই ঘটনাটা (আরজি কর-কাণ্ড) এখনও বিচারাধীন বিষয়। এখনও তদন্ত চলছে।’’ বলা ছাড়া কোনও উপায়ই ছিল না। তাহলে, ২০২১ সালের ‘ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস’ আপনি কি হিন্দু? ‘‘আমি জন্মসূত্রে হিন্দু পরিবারের সন্তান। কিন্তু আমি মানুষ হিসেবে একাধারে সব। আমি হিন্দু, আমি খ্রিস্টান, আমি শিখ, আমি মুসলমান, আমি বৌদ্ধ, আমি জৈন, আমি পার্সি। আমি সবচেয়ে প্রথমে একজন মানুষ!’’ অনেকটা স্বামিজীর ঢঙে অভিব্যক্তি বলেও ব্যঙ্গ করেছেন, কিছুটা লন্ডনের ফুটপাতে পিছু হাঁটার মতোই। কোবরা নামক মদ কোম্পানির মালিক। কেলগ কলেজ। ভোটে জিতে আসা দলীয় কর্মী। সব প্রসঙ্গের উর্দ্ধে অক্সফোর্ডে আমন্ত্রিত বক্তা বিক্ষোভের মুখে। ইংরেজী উচ্চারণের মধ‍্যে তফাত আছে বইকি! প্রায় এক বছরে আরজি করের ঘটনা নিয়ে বেনজির নাগরিক আন্দোলন। আলোচনা, বিতর্ক, প্রতর্ক নিয়ে প্রশ্নোত্তরেও সাবলীল নন বলে মনে করছেন বিদগ্ধরা। কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে প্রশ্নকর্তা কর্ণ বিলিমোরিয়া। মমতার পাশ কাটানো ছাড়া উপায় ছিল না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles