কলকাতার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা রয়েছে। রাজনৈতিক জনসভা ছাড়াও প্রশাসনিক সভা হবে। সেই সভাকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরে উঠেছে সাজো সাজো রব। গোটা কলকাতায়া ছেয়ে গিয়েছে মোদীর সভার হোর্ডিং। সভাবেশের ঠিক আগের রাতে পাল্টা হোর্ডিং দিতে ছাড়েনি শাসকদলও। কলকাতা সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ‘গো ব্যাক মোদী’ হোর্ডিংয়ে ছেয়ে গিয়েছে। মা উড়ালপুল থেকেও ওই হোর্ডিং দেখা যাচ্ছে। এই হোর্ডিংয়ের মাধ্যমে রাজ্যের কত টাকা বকেয়া রয়েছে সেটাকেই অস্ত্র করে মোদীর ব্রিগেড সভার আগে তুলে ধরতে চাইল তৃণমূল। আসন্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাবেশ ঘিরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় হোর্ডিং-এ ছেয়ে দিয়েছে বিজেপি। এ বার ঠিক মোদীর সভার আগের রাতে শহর জুড়ে তৃণমূল পাল্টা হোর্ডিং ফেলল। স্লোগান তুলল, ‘গো ব্যাক মোদী’। তার সঙ্গে সংখ্যা (১ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি) লিখে উল্লেখ করল বাংলায় বিজেপির কত টাকা বকেয়া আছে। কলকাতার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা রয়েছে। রাজনৈতিক জনসভা ছাড়াও প্রশাসনিক সভা হবে। সেই সভাকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরে উঠেছে সাজো সাজো রব। গোটা কলকাতায়া ছেয়ে গিয়েছে মোদীর সভার হোর্ডিং। সভাবেশের ঠিক আগের রাতে পাল্টা হোর্ডিং দিতে ছাড়েনি শাসকদলও। কলকাতা সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ‘গো ব্যাক মোদী’ হোর্ডিংয়ে ছেয়ে গিয়েছে। মা উড়ালপুল থেকেও ওই হোর্ডিং দেখা যাচ্ছে। এই হোর্ডিংয়ের মাধ্যমে রাজ্যের কত টাকা বকেয়া রয়েছে সেটাকেই অস্ত্র করে মোদীর ব্রিগেড সভার আগে তুলে ধরতে চাইল তৃণমূল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গে বকেয়া দিচ্ছে না তার বদলে রাজ্য সরকার সীমিত সামর্থের মধ্যে যা করবার সেগুলি করছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্লোগান দিয়ে বলেছিলেন, ‘মোদী নিচ্ছে, দিদি দিচ্ছে’। তৃণমূল হিসাব নিয়ে দাবি করেছে, ২০২১ সালে বিজেপি বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে হেরে যাওয়ার পর থেকে রাজ্যের সব ক্ষেত্রে বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে। তালিকায় রয়েছে, গ্রাম সড়ক যোজনা, ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, জল-জীবন মিশন- এ সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। তৃণমূলের পাল্টা রাজনৈতিক আখ্যান তৈরির অস্ত্র ছিল যে কেন্দ্রীয় সরকার না-দিলেও রাজ্য সরকার সেগুলি দিচ্ছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে বেশ ক’এক লক্ষ মানুষকে আবাস যোজনার বাড়ি দেওয়ার টাকা দেওয়া হয়েছিল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগেও প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষকে আবাস যোজনার বাড়ির প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার গ্রাম সড়ক যোজনার টাকা না-দিলেও, রাজ্য সরকার নিজেদের মতো করে পথশ্রী প্রকল্প চালু করেছে। এখানে ২০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা হচ্ছে। এ ছাড়াও ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান প্রকল্পে’ রাজ্যে বহু রাস্তা, গ্রাম, মফস্সল, শহরে সংস্কার বা নতুন করে রাস্তা নির্মাণের কাজ হচ্ছে। তৃণমূল দেখাতে চাইল ধারণা তৈরির রাজনীতি। বিজেপি যখন হোর্ডিং দিয়ে বলছে ‘পাল্টানো দরকার’, তখন তৃণমূল পাল্টা বকেয়ার হিসাব দিয়ে বোঝাতে চাইল রাজ্যের উন্নয়নে বিজেপি টাকা না-দিলেও তৃণমূল দিয়েছে।

তৃণমূলের বাঁধা রাজনৈতিক ভাষ্য হল, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতির বিরোধী। তাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করতে সাম্প্রতিক অতীতে নানা কর্মসূচি নিতে দেখা গিয়েছে রাজ্য বিজেপিকে।ব্রিগেডের মঞ্চ দেখে মনে হচ্ছে, সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি ‘বাঙালিয়ানা’। মঞ্চের সর্বত্রই বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। বাঙালি গরিমায় শান দিতে মঞ্চের পটভূমিতে যেমন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের প্রতিকৃতি আছে, তেমনই মঞ্চের প্রতিটি কোণায় থাকছে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা উপাদান। বিষ্ণপুরের ‘ঐতিহ্যবাহী’ টেরাকোটা থেকে পট, কীর্তন, বাউল-সহ নানা শিল্পকর্ম থিমের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে মঞ্চের দু’ধারে। ঘটনাচক্রে, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সফরে আগত বিজেপির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতার গলায় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের চেয়ে বেশি ধ্বনিত হচ্ছে ‘জয় মা কালী’। সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে ‘মা দুর্গা’কেও স্মরণ করছেন তাঁরা। খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদী পশ্চিমবঙ্গবাসীর উদ্দেশে লেখা খোলা চিঠি শুরুই করেছিলেন ‘জয় মা কালী’ দিয়ে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেডের মঞ্চে যা দেখা যাবে, তেমন উদ্যোগ শমীক ভট্টাচার্য জমানার আগে দেখা যায়নি। মোদীর ব্রিগেডের মঞ্চ তৈরি হয়েছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে। ১২০ ফুট বাই ৭০ ফুট মঞ্চের মধ্যভাগে ভবতারিণী মন্দিরের অবিকল প্রতিরূপ। শুধু তা-ই নয়, মঞ্চের ডান এবং বাঁ’দিক জুড়ে তুলে ধরা হয়েছে বাঙালির কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং শিল্পের টুকরো টুকরো ছবি। মঞ্চের ঠিক সামনে ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপির সরকার’ লেখা বিশাল কাটআউট। মঞ্চ দেখে অবশ্য খোঁচা দিতে ছাড়েনি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। তাদের কটাক্ষ, রাজনৈতিক সভাকে ‘থিম পুজো’র মণ্ডপ করে ফেলেছে বিজেপি। যুগপৎ সরকারি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কলকাতায় আসছেন মোদী। ব্রিগেডেই সরকারি মঞ্চ থেকে ১৮,৮৬০ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাস এবং উদ্বোধন করবেন তিনি। তার পরে সেখানেই পৃথক মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক সভা করবেন। বিধানসভা ভোটের আগে কলকাতা শহরে মোদীর ব্রিগেড সমাবেশ নিয়ে স্বভাবতই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রথমত, মোদীর সভায় ভিড় কেমন হবে। দ্বিতীয়ত, কোন পথে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন। তৃতীয়ত, সম্প্রতি অমিত শাহ যখন রায়দিঘির সভা থেকে স্পষ্ট তিনটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছিলেন, তেমন কোনও প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর তরফে দেওয়া হয় কি না। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীকের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে প্রথম কোনও রাজনৈতিক দল হিসাবে ব্রিগেডে সভা করছে বিজেপি। বস্তুত, শনিবার বিজেপির ব্রিগেডের সভা একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিসমাপ্তি। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ন’টি ‘পরিবর্তন যাত্রা’ বের করেছিল পদ্মশিবির। প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সেই যাত্রাগুলি গত মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। তার পরে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ব্রিগেড সমাবেশের মাধ্যমে ওই কর্মসূচিরই আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি। শুক্রবার ব্রিগেডের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় সভাস্থল পরিদর্শন করেছেন শমীক, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদারেরা। স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দলের নেতা ভূপেন্দ্র যাদব এবং সুনীল বনসলরা। আলিপুরদুয়ার, দুর্গাপুর, মালদহে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জানুয়ারি মাসে সভা করেছেন সিঙ্গুরে। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে ডিসেম্বরে নদিয়ার তাহেরপুরে যেতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। কলাকাতা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে ‘ভার্চুয়ালি’ ভাষণ দিতে হয়েছিল। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৭ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ব্রিগেডে শেষ বার জনসভা করেছিলেন মোদী। পাঁচ বছর পরে আবার ব্রিগেডে সভা তাঁর। ঘটনাচক্রে, তাঁর সভার তারিখটি পশ্চিমঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে আর একটি ‘মোড় ঘোরানো’ দিন। ২০০৭ সালে জমি আন্দোলনের ভূমি নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বাঙালি-বিরোধী’ স্লোগান জোরদার করেছে তৃণমূল। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও ‘বহিরাগত’ বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সুর বেঁধেছিল পশ্চিমবঙ্গের শাসক শিবির। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের মুখে কি তার ‘জবাব দিতে’ হিন্দুত্বের পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উপর বেশি জোর দিচ্ছে বিজেপি? শমীক অবশ্য সেই প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘‘বাঙালি তো আকাশ থেকে পেড়ে আনা কোনও জিনিস নয়। আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা ভারতীয়, তার পরে বাঙালি।’’





