Thursday, March 12, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘বিজেপির ক্যাডার’ রবিকে মমতা বললেন,‘বউদির সঙ্গে আলাপ হয়ে গিয়েছে’!‌লোকভবনে মমতার আতিথেয়তায় আপ্লুত আর এন রবি!‌ খুশি তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মীও

রাজ্যের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে শপথবাক্য পাঠ করালেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। কলকাতার লোকভবন সাবেক রাজভবন-এ শপথ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করালেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রমুখ। নির্ধারিত সময় মেনেই সকাল সাড়ে ১১টায় শপথগ্রহণ শুরু হয়। শপথগ্রহণের আগে এবং পরে জাতীয় গান বন্দে মাতরম্ এবং জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন গাওয়া হয়। শপথ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী-সহ অতিথিদের সঙ্গে আলাপ করেন নতুন রাজ্যপাল। সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফার পরে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী রাজ্যপাল হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় রবিকে। এত দিন তিনি ছিলেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল। বুধবারই কলকাতায় পৌঁছোন বোসের উত্তরসূরি। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকাকালীন ডিএমকে সরকারের সঙ্গে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছেন রবি। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন বিল ঘিরে এমকে স্ট্যালিনের সরকারের সঙ্গে রবির সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি, রাজ্যপালকে সরানোর জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও আর্জি জানিয়েছিলেন স্ট্যালিনেরা। এ বার আনন্দ বোসের উত্তরসূরি হিসাবে সেই রবিকেই পশ্চিমবঙ্গের লোকভবনের দায়িত্ব দেওয়া হল।

রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিয়েছেন আরএন রবি। লোকভবনের সেই শপথ অনুষ্ঠানে নিয়মমাফিক আমন্ত্রিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা। সেখানে আসন বিন্যাসও ঠিক করা ছিল। শপথমঞ্চের প্রথম সারিতে আসন ছিল মুখ্যমন্ত্রী, বিধানসভার স্পিকার, কলকাতার মেয়রের জন্য বরাদ্দ। দ্বিতীয় সারিতে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীদের আসন এবং তৃতীয় সারিতে ছিল অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের জন্য বরাদ্দ আসন। সেইমতো বামফ্রন্ট চেয়ানম্যান বিমান বসু বসেছিলেন তৃতীয় সারিতে, তাঁর নিজের আসনে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে দেখে এগিয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় আপ্লুত অশীতিপর বিমান বসু। আবেগপ্রবণ হয়ে মমতাকে কাঁপা কাঁপা গলায় তিনি ‘ধন্যবাদ’ বললেন।

রাজ্যপালের পদ থেকে বোসের আচমকা ইস্তফা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল পদে থাকা রবির নাম পরবর্তী রাজ্যপাল হিসাবে ঘোষিত হওয়ার পর পরই সমাজমাধ্যমে মমতা লিখেছিলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী সিভি আনন্দ বোসের আচমকা পদত্যাগের খবরে আমি স্তম্ভিত এবং গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন’। এর পরে তিনি লেখেন, “এই মুহূর্তে তাঁর(বোস)পদত্যাগের কারণ আমার জানা নেই। তবে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার জন্য রাজ্যপাল যদি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চাপের মুখে পড়েন তবে আমি অবাক হব না।” বর্তমান রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছিলেন। ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে নবনিযুক্ত রাজ্যপালকে ‘বিজেপির ক্যাডার’ বলে তোপ দেগেছিলেন। রাজ্যপালের স্ত্রীর পিঠে হাত রেখে আর এন রবিকে বলেন, “আমার সঙ্গে বউদির আগেই আলাপ হয়ে গিয়েছে।” শপথ নিয়েছেন রাজ্যের ২২ তম রাজ্যপাল আর এন রবি। বৃহস্পতিবার লোকভবনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিজেপি কিংবা কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে রাজ্যপাল বদল হয়েছে বাংলায়। তবে তা সত্ত্বেও রাজ্যের ২২তম রাজ্যপাল হিসাবে আর এন রবির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সৌজন্যের নজির। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহারে আপ্লুত নতুন রাজ্যপাল। খুশি তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী রবিও। নির্ধারিত সময়মতো বৃহস্পতিবার লোকভবনে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় শপথ গ্রহণ স্থলে পৌঁছননি রাজ্যপাল। কিছুটা আগে চলে আসেন স্ত্রী লক্ষ্মী রবি। মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপালে স্ত্রীর পরিচয় পাওয়ামাত্র তাঁর কাছে এগিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। সঙ্গে সঙ্গে গোটা পরিবার এগিয়ে আসেন। বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর শুরু হয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। প্রথা মেনে চা চক্রের আয়োজন করা হয়। ওই চা চক্রের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীকে নিজে ডেকে নিয়ে যান রাজ্যপাল। দু’জনের আলাপচারিতার মাঝে মমতা রাজ্যপালকে বলেন, “বাংলাকে যাঁরা ভালোবাসেন, বাংলাও তাঁদের ভালোবাসে।” এরপর বিশ্ববাংলা স্টল থেকে আনা উত্তরীয় রাজ্যপালকে পরিয়ে দেন মমতা। তাঁর স্ত্রীকেও উত্তরীয় পরান। রাজ্যপালের স্ত্রীর পিঠে হাত রেখে আর এন রবিকে বলেন, “আমার সঙ্গে বউদির আগেই আলাপ হয়ে গিয়েছে।” একসঙ্গে ছবিও তোলেন তাঁরা।

রাজভবন-নবান্ন সংঘাত নতুন নয়। একসময় জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে নবান্নের সম্পর্ক তেমন মধুর ছিল না। পরবর্তীকালে সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গেও রাজ্যের সংঘাত কম হয়নি। ৫ মার্চ, আচমকা প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের ইস্তফায় স্তম্ভিত মুখ্যমন্ত্রী। আনন্দ বোসের আচমকা সরে যাওয়ার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। বর্তমান রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছিলেন। ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে নবনিযুক্ত রাজ্যপালকে ‘বিজেপির ক্যাডার’ বলে তোপ দেগেছিলেন। আগামিদিনে ফের রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত তৈরি হবে কিনা, তা এখনই হলফ করে বলা যায় না। শপথ গ্রহণের দিনে মমতার সৌজন্যে মুগ্ধ রবি। আদৌ সৌজন্য?‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles