Thursday, March 12, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বুকিংয়ের আড়াই দিনের মধ্যেই মিলবে সিলিন্ডার! অযথা আতঙ্ক করার কোনও কারণ নেই, বলল মোদি সরকার

আতঙ্ক নয়!‌ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে দেশ। তেল সরবরাহ নিয়ে এখনও সমস্যা না হলেও বাংলা-সহ গোটা দেশেই রান্নার গ্যাস সরবরাহে ইতিমধ্যেই ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। গ্যাস বুকিং করতে গিয়ে রীতিমতো হয়রানির মধ্যে পড়তে পড়তে হচ্ছে আমআদমিকে। এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হতে বলল কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, গ্যাস বুকিং করার আড়াই দিনের মধ্যেই সিলিন্ডার পাওয়া যাবে বলেও জানিয়েছে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। গ্যাস নিয়ে দেশজুড়ে চলা আতঙ্ক এবং উদ্বেগের মধ্যেই বুধবার পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করেন যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা। তিনি বলেন, ”সঙ্কটের আঁচ করে কেউ যাতে অতিরিক্ত গ্যাস বুকিং না করেন এবং বর্ধিত চাহিদা সামাল দেওয়ার জন্য বুকিং-এর ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। সিলিন্ডার বুকিংয়ের আড়াইদিনের মধ্যেই মিলবে গ্যাস।” শুধু তাই নয়, ক্রুড ওয়েলের জোগানও ঠিকঠাক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা। তাঁর কথায়, ”গোটা বিশ্ব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভারতের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ক্রুড ওয়েলের জোগানও ঠিক রয়েছে।” মোদি সরকার আগেই জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইচ্ছামতো গ্যাস বুকিং করা যাবে না। প্রথমে বলা হয়, ২১ দিন অন্তর অন্তর গ্যাস বুক করা যাবে। গত মঙ্গলবার সেই নিয়মও বদলে বলা হয়, গ্যাস বুকিং করতে হবে অন্তত ২৫ দিনের ব্যবধানে। কেন্দ্রের দাবি, এলপিজি গ্যাসের বাড়তি মজুত এবং কালোবাজারি রুখতেই বুকিং-সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। এর মধ্যেই সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় অতি প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ আইন অর্থাৎ এসমা জারি করেছে কেন্দ্র। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সরকার। বিজ্ঞপ্তি জারি করে সাফ বলে দেওয়া হয়েছে, এবার থেকে গ্যাসের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটে বিরাট স্বস্তি। মোদি সরকারের কূটনৈতিক ‘কৌশলে’ মন গলল ইরানের। হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দল ইরান। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই পুস্পক এবং পরিমল নামের দুই পণ্যবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলেও খবর। জ্বালানি সংকটের পরিস্থিতি যা বিরাট স্বস্তি। মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ংকর যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে বিশ্ব। ইরানের হামলার আতঙ্কে থমকে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তৈল বাণিজ্য। কার্যত গোটা বিশ্বের জন্য হরমুজ বন্ধ করে দেয় ইরান। ব্যতিক্রম ছিল রাশিয়া এবং চিন। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ে গেল ভারতের। সূত্রের খবর, ইরানের বিদেশমন্ত্রক মৌখিকভাবে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলি যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। তবে ইজরায়েল, আমেরিকা, এবং ইউরোপের সব জাহাজে এখনও নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে ইরানের ইরানের ইসলামিক রেভেলুশনারি গার্ড ফোর্স। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাগাছির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। জানা যাচ্ছে, এই ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। হরমুজে ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিয়েও আলোচনা হয় আরাগাছি এবং জয়শংকরের মধ্যে। এর আগেও বার দু’য়েক ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন জয়শংকর। বস্তুত গত দুসপ্তাহ ধরে লাগাতার ব্যাক চ্যানেলে আলোচনা চলছে দু’দেশের। তাতেই মিলল সাফল্য। আপাতত অন্তত হরমুজের ওপারে আটকে থাকা জাহাজগুলি নিরাপদে ফেরানোর অনুমতি পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। ইরান যুদ্ধে শুরু থেকেই ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান নিয়েছে। অন্তত প্রকাশ্যে। কিন্তু ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমার অদূরে ইরানের রণতরীতে মার্কিন হামলার পর ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে আবার হরমুজেই আক্রান্ত হয় ভারতীয় পণ্যবাহী একটি থাই জাহাজ। তাতে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুও হয়। তারপরই মোদি সরকার ইরানের সঙ্গে আলোচনায় তৎপরতা বাড়ায়। সেটারই সুফল মিলল। এর ফলে দ্রুত দেশের জ্বালানি সমস্যা মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ধুন্ধুমার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট সর্বত্র। ভারতে এই সংকটের নেপথ্যে অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে দায়ী করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার বিরোধিতা করে আগামী সপ্তাহে পথে নামছেন তিনি। সূত্রের খবর, সোমবার কলকাতার রাজপথে মিছিলে হাঁটবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে কোন রুটে মিছিল হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে খবর দলীয় সূত্রে। এতদিন এসআইআরে বিচারাধীন ভোটারদের বৈধ হিসেবে ঘোষণার দাবিতে ধর্মতলায় ধরনা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে জ্বালানি নিয়ে প্রতিবাদ জারি রেখেছিলেন। তবে এবার সরাসরি পথে নেমেই প্রতিবাদ জানাবেন। পশ্চিম এশিয়ার ও আরব দুনিয়ার যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়েছে। সময় যত বাড়ছে, ততই তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের দেশগুলিতে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত বহু দেশ। এতে সবচেয়ে সমস্যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহ। কারণ আরব দুনিয়া থেকে গোটা বিশ্বে সিংহভাগ তেল সরবরাহ হয় গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। যুদ্ধের জেরে বন্ধ সেই হরমুজ প্রণালী। অর্থাৎ জ্বালানি সরবরাহের রাস্তাই পুরোপুরি বন্ধ। আর তাতে সব দেশে জ্বালানির সংকট তৈরি হচ্ছে। এর নেপথ্যে অবশ্য কেন্দ্রকে দায়ী করেছেন তিনি। কেন আগে থেকে সব দিক বিবেচনা না করে কেন্দ্র ২৫ দিনের আগে বুকিং করা যাবে না বলে ঘোষণা করল? দেশে কত গ্যাসের ভাণ্ডার মজুত রয়েছে? তা কেন জানানো হল না? এসব প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার বিকেলে তেল সংস্থা ও গ্যাসের ডিলারদের সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে বৈঠক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘‘সংকট কাটাতে আমরা বেশ কয়েকটা পদক্ষেপ নিলাম। ডিলারদের সঙ্গে আলোচনা করে যা জানলাম, জ্বালানি তেল নিয়ে এখনও ততটা সমস্যা হয়নি। মূল সমস্যা হচ্ছে এলপিজি গ্যাসে। আমরা বললাম, রাজ্যে যা গ্যাস মজুত আছে, তা আর বাইরে পাঠাবেন না।” সংকট কাটাতে এসওপি তৈরি করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার এনিয়ে সোমবার রাজপথে নেমে কেন্দ্রীয় নীতির প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। দলীয় সূত্রে খবর, সোমবার কলকাতার রাস্তায় মিছিলে হাঁটবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তার রুট এখনও স্থির হয়নি। আলিপুরের সৌজন্য প্রেক্ষাগৃহে এই বৈঠক চলছে। সেখানে রয়েছেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বরাষ্ট্রসচিব। রয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, খাদ্যদপ্তরের সচিব-সহ বহু প্রশাসনিক আধিকারিক। এ রাজ্যের দুর্গাপুর ও আশপাশে এলপিজি-র বটলিং প্ল্যান্ট রয়েছে। এখান থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা হয় এবং তা গোটা রাজ্যের পাশাপাশি সরবরাহ করা হয় প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও। সেই সিলিন্ডারই এই মুহূর্তে বাইরে না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মাঝে অভিযোগ উঠেছিল, গ্যাস বুকিংয়ের জন্য সংস্থাগুলিতে ফোন করলে কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছিল না। এদিনের বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ”ডিলারদের বললাম যে মানুষ অভিযোগ করছে, আপনারা ফোন ধরছেন না, গ্যাস বুক করতে পারছে না কেউ।” তাতে ডিলাররা জানান যে তাঁদের সার্ভারে সমস্যা হওয়ায় ফোনে পাননি গ্রাহকরা। তা ঠিক হয়ে গেলে ফের আগের মতোই বুকিং নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles