Wednesday, March 11, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

জ্বালানির ছেঁকা গোটা বিশ্বে! পকেটে টান মধ্যবিত্তের!‌ যুদ্ধে জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে ভারতও!‌ ইরানের বিদেশমন্ত্রীকে ফোন জয়শংকরের

ফোনালাপে হরমুজ প্রসঙ্গ। ইরান জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচলের পক্ষে রয়েছে ইরান। তবে আমেরিকার আগ্রাসনের জেরে তা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ংকর যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে বিশ্ব। ইরানের হামলার আতঙ্কে থমকে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তৈল বাণিজ্য। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আরাগাছির সঙ্গে ফোনে কথা বললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। জানা যাচ্ছে, এই ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর এই নিয়ে তৃতীয়বার ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বললেন জয়শংকর। এবং ইরানে নয়া সুপ্রিম লিডার ঘোষণার পর প্রথমবার ফোনে কথা বললেন বিদেশমন্ত্রী। এদিন সোশাল মিডিয়ায় একথা জানিয়ে জয়শংকর লেখেন, ‘আজ সন্ধ্যায় ইরানের বিদেশমন্ত্রীর আরাগাছির সঙ্গে কথা হয়েছে। এই ফোনালাপে ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধপরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে আমাদের। আমরা নিজেদের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ রাখছি।’ ইরানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন হামলা নিয়ে বিদেশমন্ত্রী জয়শংকরকে অবগত করেছেন আরাগাছি। ইরানে স্কুলের আমেরিকার হামলা ও শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে ভারতকে জানানো হয়েছে। এই ফোনালাপে উঠে এসেছে হরমুজ প্রসঙ্গও। ইরান জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে নিরাপদ নৌ চলাচলের পক্ষে রয়েছে ইরান। তবে আমেরিকার আগ্রাসনের জেরে তা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় মঙ্গলবারই সিনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকটের প্রভাব যাতে দেশের উপর না এবং সরবরাহ যাতে স্বাভাবিকভাবে তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলরা। শোনা যাচ্ছে, হরমুজে আটকে থাকা জাহাজগুলি নিরাপদে বের করে আনতে নৌসেনাকে ব্যবহার করতে পারে কেন্দ্র। এহেন পরিস্থিতিতেই ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন জয়শংকর।

হরমুজে যুদ্ধের দামামা। স্তব্ধ গোটা বিশ্বের তেল সরবরাহ। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে দেশে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবার মাঠে নামছে ভারতীয় নৌসেনা! যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকা ভারতের তেলের জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করে আনার জন্য রণতরী পাঠানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে কেন্দ্র। যদিও এই বিষয়ে সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে এই বিষয়ে ইরানের প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় ফোনালাপ চলছে ভারতের। ইরানের ও আমেরিকার যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে এই পথে কোনও জাহাজ গেলে তার উপর হামলা চালানো হবে। এই অবস্থায় ঝুঁকি নিতে নারাজ কোনও সংস্থাই। হরমুজের দুই পাশে ভিড় জমেছে তেলবাহী অসংখ্য জাহাজের। জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে দেশে। এই অবস্থায় ভারতীয় আধিকারিক ক্যাপ্টেন পিসি মিনাকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট বলছে, হরমুজে আটকে থাকা ভারতের তেলের জাহাজগুলিকে নিরাপদে বের করে আনতে রণতরী পাঠানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় জাহাজগুলির মালিকদের তরফে অনুরোধ জানানো হয়েছে জাহাজগুলিকে নিরাপত্তা দেওয়া হোক। এরপরই নৌসেনাকে হরমুজে পাঠানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া সংকট মোকাবিলায় মঙ্গলবারই সিনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকটের প্রভাব যাতে দেশের উপর না এবং সরবরাহ যাতে স্বাভাবিকভাবে তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জ্বালানি মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলরা। সংকট মেটাতে নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও দেশে পরিস্থিতি খুব বিশেষ বদলায়নি। এলপিজি সিলিন্ডরের ঘাটতির জেরে দেশের বড় শহরগুলিতে বন্ধ হয়েছে হোটেল রেস্তরাঁ। বিশেষ করে মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং পুনের মতো শহরগুলিতে রেস্তরাঁ, হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রান্নার গ্যাসের দাম একধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। সরকার আশ্বস্ত করলেও রান্নার গ্যাসের ডেলিভারি ঠিকঠাক নেই বলে অভিযোগ উঠছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচে পুড়ছে বিশ্ব ! হরমুজ প্রণালী ‘বন্ধ’ করে গোটা বিশ্বকে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে ফেলছে ইরান। পাশাপাশি, পড়শি দেশগুলির তেল উৎপাদন ও সংশোধন কেন্দ্রগুলিতেও লাগাতার হামলা চালাচ্ছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে এতটাই ধাক্কা লেগেছে যে, শুধু ভারত নয়, প্রায় দশটি দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সংকট মারাত্মক আকার নিতে চলেছে। যার মধ্যে অন্যতম পাকিস্তান। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, জ্বলানি বাঁচাতে কার্যত লকডাউনের পথে হেঁটেছে দেশটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে চললে, বিশ্ব অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে। যার ফল হতে পারে মারাত্মক। এই পরিস্থিতির জেরে খাদের কিনারায় পড়শি দেশের অর্থনীতি। জ্বালানি বাঁচাতে কার্যত ‘লকডাউন’-এর পথে হাঁটছে পাকিস্তান। স্কুল বন্ধ করে সরকারি অফিসে কাজের দিন কমিয়ে দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুধু তাই নয়, দু মাস সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য জ্বালানি বরাদ্দে ৫০ শতাংশ কাটছাঁট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও জ্বালানি ঘাটতির কারণে রেশনিং চালু করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং গাড়ির জন্য ১০ লিটার জ্বালানি নেওয়ার সীমা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউরোপেও বিভিন্ন দেশের পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন। শ্রীলঙ্কায় জ্বালানির দাম প্রায় ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। মায়ানমারে যানবাহনের জন্য জোড়-বিজোড় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অনেক জায়গায় জ্বালানির অভাবে পাম্প বন্ধ। মায়ানমারের অনেকে থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন তেল কিনতে। আমেরিকার ফ্লোরিডা ও লুইজিয়ানায় গ্যাস পাম্পে দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ১১ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে। ভিয়েতনামে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ফ্রান্স, আমেরিকা, জার্মানি, পোল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলিতে জ্বালানির দাম বেড়েছে।সংবাদ সংস্থার খবর, জ্বালানি সংকটে জর্জরিত দিশাহারা পাকিস্তান। তাই চলতি সপ্তাহ শেষ হতেই পাকিস্তানের সমস্ত স্কুল টানা দু’সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ক্লাস হবে শুধুমাত্র অনলাইনে। বদলাচ্ছে অফিসের সময়সূচি। ব্যাঙ্ক বাদে সমস্ত সরকারি অফিস সপ্তাহে মাত্র চারদিন খোলা থাকবে। এছাড়া জরুরি পরিষেবা বাদে সরকারি দপ্তরের ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মন্ত্রীদের ভাতা কমানো হয়েছে।

কলকাতায় সিএনজির জোগান কমছে বলেই খবর। আর তার ফলে বাড়ল অটোর গ্যাসের দাম। বাড়তি খরচ সামাল দিতে একাধিক রুটের অটোভাড়া বাড়ানো হয়েছে। গন্তব্যে পৌঁছতে পকেটে টান মধ্যবিত্তের। বুধবার ভোররাত থেকেই কেমিক্যাল পাম্পে অটোচালকদের লম্বা লাইন। তাঁদের অভিযোগ, আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। অথচ হঠাৎ করে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাতে গ্যাসের দাম ছিল ৫৭ টারা ৬৮ পয়সা। একলাফে ৫ টাকা দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন গ্যাসের দাম বেড়ে হয়েছে ৬২ টাকা ৬৮ পয়সা। তাঁদের আরও অভিযোগ, বেশি দাম দেওয়া সত্ত্বেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আবার অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরেও গ্যাস পাচ্ছেন না তাঁরা। কেন রাতারাতি লিটার প্রতি ৫ টাকা করে দাম বাড়ল অটোর গ্যাসের? পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁদের কিছু করার নেই। আচমকা এক নির্দেশিকা এসেছে। আর সে কারণেই বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে অটোর গ্যাস। বাড়তি দামের ধাক্কা সামাল দিতে বহু অটোচালক ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। চিংড়িহাটা থেকে এসডিএফগামী এক যাত্রীর দাবি, এই রুটে অটো ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা। যা আগে নিত ১৫ টাকা। একধাক্কায় তিন টাকা ভাড়া বেড়ে গিয়েছে। আবার গড়িয়া-বারুইপুর, সোনারপুর-গড়িয়া রুটেও ভাড়া কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেই খবর। আচমকা ভাড়া বৃদ্ধিতে স্বাভাবিকভাবেই পকেটে টান পড়েছে নিত্য যাতায়াতকারীদের। অটোচালক সংগঠন সূত্রে খবর, ২-৩ টাকা নয় বাড়তি দামে অটোর গ্যাস ভরাতে হলে প্রতিটি রুটে ৫-১০ টাকা করে বাড়তে পারে ভাড়া। নইলে অটো পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনও গতি থাকবে না চালকদের।কলকাতার হোটেল-রেস্তরাঁতেও দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। কলকাতার খাদ্য গলি ডেকার্স লেন থেকে পার্ক সার্কাসের বিখ‌্যাত বিরিয়ানির দোকান, শিয়ালদহ থেকে যাদবপুর, সর্বত্র উঠেছে ‘গ‌্যাসের ব্যথা’। গ‌্যাসের অভাবে দোকান বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তার ঢেউ খেলছে পার্ক স্ট্রিট, গোল পার্ক, চাঁদনি, এসপ্ল‌্যানেড-সহ একাধিক রেস্তরাঁ ও হোটেল পাড়ায়। আবার গেরস্তর রান্নাঘরেও যেন আঁধার নামার জোগাড়। বুকিংয়ের পরেও গ্যাস না পৌঁছনোয় মাথায় হাত গৃহিণীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles