“চিৎকার করবেন না” জ্ঞানেশ কুমারের কড়া ট্রিটমেন্টে নাজেহাল তৃণমূল? প্রবল গোঁসা চন্দ্রিমার! তারা বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের দপ্তরটাকে নিজেদের পার্টি অফিস মনে করতে পারে। সেখানে মামারবাড়ির আবদার করতে পারে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যে সাংবিধানিক একটা বডি, এটা হয়ত তৃণমূলের নেতা নেত্রীরা ভুলে গিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে অনেক কিছু দাবি জানানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেখানেও নির্বাচন কমিশন তাকে বুঝিয়ে দিয়েছে, এই সব অন্যায় আবদার চলবে না। পরবর্তীতে বাইরে বেরিয়ে এসে তাভগীকে অপমান করা হয়েছে,ভ ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন। এখন তো দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আক্রমণ করা অপমান করা যেন তৃণমূলের চিরাচরিত স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে আজ সেই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকে আলোচনা করতে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরাও কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের দাবির কথা জানালেও যে বিষয়ে যতটা কথা বলতে দেওয়া প্রয়োজন ঠিক ততটাই বলতে দিল নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চিৎকার করা অসভ্যতা করা যে তারা বরদাস্ত করবে না, সেই কথাও তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে সেই বৈঠকে অন্তত স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাইরে বেরিয়ে এসে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যেভাবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কথা বললেন, তাতে সকলেই বলছেন যে, নির্বাচন কমিশন এবার আচ্ছামত সবক শিখিয়ে দিয়েছে তৃণমূলের এই প্রতিনিধি দলকে। সূত্রের খবর, এদিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকের পরেই বাইরে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। আর সেখানেই তাকে ডোন্ট শাউট বলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমি মহিলা, আমাকে বলছেন ডোন্ট সাউট। মহিলাদের প্রতি এদের কোনো শ্রদ্ধা নেই। তাই মহিলাদের নামও কেটে দিচ্ছেন। আমার নাম না থাকলে সেটা প্রমাণ করার দায়িত্ব তো আপনার। কেন আমাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে? মহিলাদের ওপর চেঁচানোটা আপনাদের কাজ নয়।” এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস মনে করে যে, নির্বাচন কমিশনের অফিসটাও যেন তাদের সম্পত্তি। তারা যেভাবে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আচরণ করে, সেই সমান আচরণ তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে করবেন, আর কমিশনের অফিসাররাও সেটা মেনে নেবেন। কিন্তু অতীতেও তৃণমূলের সর্বময় নেত্রীকে পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বুঝিয়ে দিয়েছে, অন্যায় আবদার এখানে চলবে না। আর আজ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূল প্রতিনিধি দল গিয়ে নিজেদের দাবি-দাওয়া জানানোর চেষ্টা হয়ত করেছেন। তবে সেখানে তারা চিৎকার চেঁচামেচি করে নিজেদের দাবি আদায়ের যতই কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, তাদের পাল্টা জবাব দিয়ে দিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনের জ্ঞানেশ কুমার। আর তাতেই রীতিমত যে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমাদেবীর চরম গোঁসা হয়েছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।
“সুপার গড হয়ে গিয়েছে, মে মাসে চেয়ারে থাকবেন তো?” জ্ঞানেশ কুমারকে এ কোন আক্রমণ মমতার? জ্ঞানেশ কুমার এবং দেশের নির্বাচন কমিশন যেভাবে কাজ করছে, তাতে প্রবল অস্বস্তিতে এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের কোনো রকম অন্যায় আবদার যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শুনছেন না, তা বুঝেই এখন তাকে আক্রমণের রাস্তায় নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এতদিন নির্বাচন কমিশনকে যা খুশি তাই বলে আক্রমণ করতে দেখা যেত তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের। সম্প্রতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ওই পদে না থাকলে আঙ্গুল কেটে নিতেন বলে মন্তব্য করেছেন। আর এই পরিস্থিতিতে আজ সেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তার ফুল বেঞ্চ নিয়ে যখন রাজ্যে এসেছেন, যখন নির্বাচনকে স্বচ্ছ ভাবে পরিচালনা করতে একের পর এক কড়া বার্তা দিচ্ছেন, তখন মঞ্চ থেকে সেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও চিড়ে ভেজেনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো অন্যায় এখানে চলবে না। এসআইআরকে আটকানোর যে কাজ এই রাজ্যের শাসক দল প্রশাসনকে দিয়ে করছে, সেই সমস্ত খবর যে তার কাছে রয়েছে, তা সকলেই খুব ভালো মতই বুঝতে পারছেন। আজ কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে এসে বিভিন্ন জেলা প্রশাসনিক সঙ্গে বৈঠকেও ভোটে হিংসা যাতে না হয়, তার জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন। আর নির্বাচনে যখন অনিয়ম করা যাবে না, যখন এবার নির্বাচন অন্যভাবে করতে চাইছে কমিশন, সেটা তৃণমূল বুঝে গিয়েছে, তখন আর অন্য কোনো উপায় না বুঝে এখন সেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকেই টার্গেট করতে শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। থেকেও তিনি যে সমস্ত কথা বলেন, তাতে রীতিমত তাজ্জব বনে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এসআইআরের প্রতিবাদে ধর্না মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “সুপার গড হয়ে গিয়েছে। স্পাইডার ম্যান হয়ে গিয়েছে। ভয় দেখানোর মাস্টার। মে মাসে আপনি চেয়ারে থাকবেন তো? আগে সেটা দেখুন। তারপর বাংলার মানুষকে থ্রেট করবেন।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গিয়েছেন যে, এই নির্বাচন কমিশনকে তিনি ম্যানেজ করতে পারবেন না। তারা স্বচ্ছভাবে ভোটের পক্ষে। আর সেই জন্য তারা যে যে কড়া পদক্ষেপ নিতে হয়, সেই সমস্ত পদক্ষেপ নেবেন। আর অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে যে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকবে না, তা বুঝতে পেরেই এখন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রীতিমত হুমকি দেওয়ার চেষ্টা শুরু করে দিলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেই দাবি করছে বিরোধীরা।
বাংলার ভোটে অশান্তি ঘটে। বোমাবাজি থেকে খুন। প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা। এমন নানা বড় ঘটনার সাক্ষী থাকে বহু জায়গা। বিশেষ করে একুশের নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। এসআইআর পরবর্তী বাংলায় ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন হিংসামুক্ত করাই লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের। মঙ্গলে সাংবাদিক বৈঠকে সেকথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এই প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার জায়গায় কোন কোন ওসি এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন অফিসাররা ছিলেন সেই তালিকা চাইল নির্বাচন কমিশন। আজ মঙ্গলবার মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ। সেই বৈঠকে এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে কমিশন চেয়েছে বলে সূত্রের খবর। শুধু তাই নয়, ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত অফিসারদের বিরুদ্ধে কী কোনও বিভাগীয় তদন্ত করা হয়েছে কিনা, তাও এদিন ডিজির কাছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানতে চেয়েছেন বলে খবর। বাংলায় আসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ। সোমবার থেকে দফায় দফায় বৈঠক করেন আধিকারিকরা। প্রথম দফায় রাজ্যের ২৩ জেলার জেলাশাসক, জেলা ও পুলিশ জেলার সুপার এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের ২৪টি সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়। শাসক-বিরোধী-সহ রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। এমনকী আজ মঙ্গলবারও রাজ্য প্রশাসনের একাধিক কর্তার সঙ্গে কমিশনের বৈঠক হয়। বৈঠক হয় বিএলওদের সঙ্গেও। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কমিশনের মতে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক সন্তোষজনক। এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশের বার্তা, “পশ্চিমবঙ্গে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। কোনও উসকানি বরদাস্ত নয়।” বাংলার ভোটে অশান্তি ঘটে না তা একেবারে বলা যাবে না। বোমাবাজি থেকে খুন – এমন নানা বড় ঘটনার সাক্ষী থাকে বহু জায়গা। বিশেষ করে একুশের নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। বিশেষত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদহে একাধিক অশান্তির ঘটনা ঘটে। যদিও চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল। ভোট কিংবা ভোট পরবর্তী হিংসায় একজনেরও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ছাব্বিশের নির্বাচনে চব্বিশের সেই ধারা বজায় রাখতে তৎপর নির্বাচন কমিশন। সে কারণেই ভোটের কাজে যুক্ত প্রত্যেক আধিকারিকদের একমাত্র কমিশনের নির্দেশমতো কাজ করার কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। কোনও রাজনৈতিক দল কিংবা নেতার নির্দেশে কাজ করলে ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান। প্রত্যেক পুলিশ সুপারদের কোনও হিংসা দেখলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ।





