১৪.২ কেজি ওজনের বাড়িতে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম কেন্দ্র ৬০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বর্ধিত দাম কার্যকরও হয়েছে। ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে পশ্চিম এশিয়ার ভয়ংকর যুদ্ধ। যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যে ভারতে রান্নার গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। বেড়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) দামও। এরমধ্যেই গ্যাসের বুকিংয়ের সময়সীমা আরও বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র। এবার আর ২১ দিন নয়, ২৫ দিন অন্তর বুকিং করা যাবে রান্নার গ্যাস। কেন্দ্রের দাবি, এলপিজি গ্যাসের বাড়তি মজুত এবং কালোবাজারি রুখতেই বুকিং-সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। প্রায় ১০ দিন ধরে চলছে ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধ। এই অবস্থায় তেল-গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়বে! টান পড়বে মজুত থাকা পেট্রোপণ্যে? বাড়বে কালোবাজারি? এই পরিস্থিতিতে এই প্রশ্নগুলোই ঘোরাফেরা করছিল ভারতীয় আমজনতার মনে। যদিও তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়বে না বলেও দেশের মানুষকে আশ্বাস দেয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। এমনকী দেশের তেল শোধনাগারগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু দেখা যায়, যুদ্ধের আবহে গত কয়েকদিন আগেই ১৪.২ কেজি ওজনের বাড়িতে ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম কেন্দ্র ৬০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বর্ধিত দাম কার্যকরও হয়েছে। অর্থাৎ ৬০ টাকা দাম বৃদ্ধি হওয়ায় ৮৭৯ টাকার গ্যাস এবার কিনতে হচ্ছে ৯৩৯ টাকায়। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৯৯০ টাকা। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে রেস্তরায় খাওয়ার খরচ বাড়বে। এবার গ্যাস বুকিংয়ের সময়সীমাও বাড়িয়ে দিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগে ৫৫ দিনে রান্নার গ্যাস যাঁরা বুকিং করতেন, তাঁরা এখন ১৫ দিনে বুকিং করা শুরু করেছিলেন। আর সেই কারণেই বুকিংয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হল। মূলত সাপ্লাইয়ের ঘাটতির আশঙ্কায় প্যানিক বুকিং যাতে না হয়, মজুত এলপিজি ভাণ্ডারে ভারসাম্য থাকে, সেজন্যই এমন পদক্ষেপ। কোপ পড়তে পারে বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগানেও। আর তাতে সমস্যা নেমে আসতে পারে হোটেল, রেস্টুরেন্ট থেকে রাস্তার পাইস হোটেলগুলোয়। কারণ এদের সব কিচেনেই ধোঁয়া ওঠে বাণিজ্যিক গ্যাসে। যে কারণে আগামিদিনে ছোট-বড় সব হোটেলই গ্যাস পেতে সমস্যায় পড়তে পারে। জানা গিয়েছে, তেল কোম্পানিগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে, তা দিয়ে আগে ডোমেস্টিক সিলিন্ডারের চাহিদা মেটানো হবে। তারপর বাড়তি থাকলে সেক্ষেত্রে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার দেওয়া হবে। তেল কোম্পানিগুলোর প্রাথমিক লক্ষ্য, কারও বাড়ির হেঁশেলে যাতে গ্যাসের সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া। কিন্তু যেভাবে যুদ্ধের মেয়াদ বাড়ছে, তাতে গ্যাসের জোগান নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মুম্বইয়ের অন্তত ২০ শতাংশ হোটেল বন্ধ হয়ে যাবে। যুদ্ধের আবহে বাণিজ্যিক গ্যাস পেতে প্রবল সমস্যা হচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন হোটেল মালিকরা। একই ছবি চেন্নাই, বেঙ্গালুরুর মতো শহরগুলিতেও। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জেরে এবার বড়সড় ক্ষতির মুখে ভারতের হোটেল ব্যবসা। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে মুম্বইয়ের অন্তত ২০ শতাংশ হোটেল বন্ধ হয়ে যাবে। যুদ্ধের আবহে বাণিজ্যিক গ্যাস পেতে প্রবল সমস্যা হচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন হোটেল মালিকরা। একই ছবি চেন্নাই, বেঙ্গালুরুর মতো শহরগুলিতেও। গ্যাসের সমস্যা মেটাতে কেন্দ্রের পদক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, এলপিজি উৎপাদন বাড়াতে শোধনাগারগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। ভয়ংকর যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের সাধারণ নাগরিকদের উপর। একধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম সিলিন্ডারপিছু ১১৫ টাকা বেড়েছে। রিপোর্ট বলছে যুদ্ধের জেরে জ্বালানি গ্যাসের সরবরাহ ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। সেকারণেই ভারতের বাজারে গ্যাসের সংকট বাড়ছে বলেই অনুমান। বেঙ্গালুরুর হোটেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়ে দিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে হোটেল ব্যবসায় বড়সড় ক্ষতি হবে। মঙ্গলবার থেকে একাধিক হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হবে। মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের হোটেল মালিকরাও একই কথা বলেছেন। চেন্নাইয়ের অ্যাসোসিয়েশন চিঠি লিখেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সেখানে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক গ্যাসের অভাবে বহু বুকিং বাতিল করতে হতে পারে। ফলে হোটেলগুলি বড়সড় লোকসানের মুখে পড়বে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে মোদি পদক্ষেপ করুন, আর্জি হোটেল মালিকদের। মুম্বইয়ের ২০ শতাংশ হোটেল মঙ্গলবার থেকেই পরিষেবা বন্ধ করতে চলেছে। বেশ কিছু খাবার, যা বানাতে বেশি গ্যাস লাগে সেগুলি বানানোও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হোটেলগুলি তাড়াতাড়ি বন্ধও করে দেওয়া হচ্ছে মুম্বইয়ে। হোটেল মালিকদের জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনের মতে, “রেস্তরাঁর জন্য সিলিন্ডার সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা বসায়নি সরকার। কিন্তু বাস্তবটা অন্য কথা বলছে। এই নিয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে জবাব দিতে হবে।” কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে হাসপাতাল এবং স্কুলগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্যান্য বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, হোটেল-রেস্তরাঁর উপর অনেকখানি নির্ভর করে দেশের অর্থনীতি। পাইস হোটেল হোক বা পাঁচতারা রেস্তরাঁ-দেশবাসীর মুখে খাবার তুলে দেয় প্রতিদিন। কিন্তু যুদ্ধের আবহে হোটেল শিল্পের অবস্থা সঙ্গীন হয়ে উঠছে।




