বিশ্বকাপজয়ী সূর্যদের জন্য পুরস্কার ১৩১ কোটি টাকা! দু’বছর আগে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ভারত যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল, তখনকার থেকেও এই পুরস্কারমূল্য অনেকটাই বেশি। সে বার সূর্যেরা পেয়েছিলেন ১২৫ কোটি টাকা। দেশকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়ার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দলকে পুরস্কারে ভরিয়ে দিচ্ছে বিসিসিআই। সূর্যকুমার যাদবের দলের জন্য ১৩১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। দু’বছর আগে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ভারত যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল, তখনকার থেকেও এই পুরস্কারমূল্য অনেকটাই বেশি। সে বার সূর্যেরা পেয়েছিলেন ১২৫ কোটি টাকা। এ বার আরও ৬ কোটি টাকা বেশি। ২০০৭ সালে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ভারত যখন প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল, তখন বোর্ডের পুরস্কারমূল্য ছিল ২ কোটি টাকা। ২০১১ সালে ধোনির নেতৃত্বেই এক দিনের বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। তখনও বোর্ড দলকে ২ কোটি টাকা দিয়েছিল। এর পর ২০২৪ সালে ১২৫ কোটি এবং এ বার ১৩১ কোটি টাকা দিল বিসিসিআই। হরমনপ্রীত কৌরেরা মেয়েদের এক দিনের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য পেয়েছিলেন ৫১ কোটি টাকা। তৃতীয় বারের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছেন সূর্যেরা। একই সঙ্গে প্রথম দল হিসাবে পর পর দু’বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার নজিরও গড়েছে তারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা প্রত্যেক দলই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়েছে। আহমদাবাদের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছেন সূর্যকুমার যাদবেরা। এ বারের বিশ্বকাপের জন্য ১২০ কোটি টাকার পুরস্কার ধার্য করেছিল আইসিসি। প্রতিটি ধাপে টাকার অঙ্ক নির্দিষ্ট ছিল। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যাওয়া দলগুলি পেয়েছে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। যে দলগুলি সুপার এইট পর্বে বাদ গিয়েছে তারা পেয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, পাকিস্তান সাড়ে ৩ কোটি টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড পেয়েছে ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। ফাইনালে রানার্স দল নিউজিল্যান্ড পেয়েছে ১৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। বিশ্বকাপ জিতে ভারত পেয়েছে ২৭ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা। আইসিসির কাছ থেকে এই পরিমাণ টাকা পেয়েছেন সূর্যেরা। বিশ্বকাপ জিতলে সাধারণত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড একটি পুরস্কারমূল্য ঘোষণা করে। এ বারও ব্যাতিক্রম হয়নি। মিঠুন মানহাসদের বোর্ড ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের জন্য পুরস্কার ঘোষণার পর আরও বেশি টাকা পকেটে সূর্যদের। এক বিবৃতিতে বিসিসিআই জানিয়েছে, ‘‘বোর্ড এই ঐতিহাসিক জয়ের জন্য খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ এবং নির্বাচকদের আবারও অভিনন্দন জানাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তাঁদের আরও সাফল্য কামনা করছে।’’

টুর্নামেন্টের সেরা দল ভারত। সময়মতো জ্বলে উঠেছেন সূর্যকুমার যাদবরা। যার সুবাদে চ্যাম্পিয়ন টিম ইন্ডিয়া। আইসিসির টুর্নামেন্টের সেরা দলে জায়গা পেলেন মাত্র ৪ ভারতীয়। বাকি অনেককেই বঞ্চিত হতে হল। চ্যাম্পিয়নের মতো খেলে ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একটা ম্যাচ হারলেও প্রশ্নাতীতভাবে টুর্নামেন্টের সেরা দল। আইসিসির সেরা একাদশে অধিনায়ক হিসাবে রাখা হয়েছে মার্করামকে, ভালো খেলেও ব্রাত্য একাধিক ভারতীয় তারকা। বিশ্বকাপ শেষের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টুর্নামেন্টের সেরা দল বেছে নিল আইসিসি। সেই দলে ভারত থেকে চারজন সুযোগ পেয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ড থেকে দু’জন করে সুযোগ পেয়েছেন। একজন করে সুযোগ পেয়েছেন পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবোয়ের একজন করে ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছেন। দ্বাদশ ব্যক্তি হিসাবে সুযোগ পেয়েছেন আমেরিকার শ্যাডলি ভ্যান শ্যালউইক। বিশ্বকাপের সেরা দুই ওপেনার হিসাবে সুযোগ পেয়েছেন পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান এবং সঞ্জু স্যামসন। ফারহান টুর্নামেন্টে জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন, ৩৮৩ রান করে তিনিই সর্বোচ্চ স্কোরার। সঞ্জু স্যামসন দলে আসার পরই বদলে যায় ভারতীয় দলের খেলার গতি। তৃতীয় ব্যাটার হিসাবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল, দুই ম্যাচেই হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। মাত্র পাঁচ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৩২১ রান। ভারতীয় টপ অর্ডারে এবার নজর কেড়েছেন ঈশান কিষানও। টুর্নামেন্টে ৩১৭ রান করা ব্যাটারকেও সেরা একাদশে রেখেছে আইসিসি। মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসাবে সেরা দলে বাছা হয়েছে এডেন মার্করাম, হার্দিক পাণ্ডিয়া, উইল জ্যাকস এবং জেসন হোল্ডারকে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এরা প্রত্যেকেই বলটাও করে দিতে পারেন। তবে শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেলরা টুর্নামেন্টে দারুন পারফর্ম করলেও সেরা একাদশে তাদের রাখেনি আইসিসি। পেস বিভাগের নেতৃত্বে প্রত্যাশিতভাবেই রয়েছেন জশপ্রীত বুমরাহ। তিনি যে কেন বিশ্বসেরা, সেটা এই টুর্নামেন্টে আরও একবার বুঝিয়েছেন বুমরাহ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন লুঙ্গি এনগিডি, এবং জিম্বাবোয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি। প্রত্যেকেই টুর্নামেন্টে নজর কেড়েছেন। একমাত্র স্পিনার হিসাবে বাছা হয়েছে আদিল রশিদকে। দ্বাদশ ব্যক্তি হিসাবে থাকছেন আমেরিকার শ্যাডলি ভ্যান শ্যালউইক। বরুণ চক্রবর্তী, মিচেল স্যান্টনারদের কেন সুযোগ দেওয়া হল না, সেটাও প্রশ্ন।
বিশ্বকাপের সেরা একাদশ
সাহিবজাদা ফারহান, সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষান, এডেন মার্করাম (অধিনায়ক), হার্দিক পাণ্ডিয়া, উইল জ্যাকস, জেসন হোল্ডার, জশপ্রীত বুমরাহ, লুঙ্গি এনগিডি, আদিল রশিদ, ব্লেসিং মুজারাবানি, শ্যাডলি ভ্যান শ্যালউইক (দ্বাদশ ব্যক্তি)।





