Tuesday, March 10, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দেশের সাংবিধানিক প্রধানের পদমর্যাদা ক্ষুণ্ণ!‌ রাষ্ট্রপতির ‘অপমান’!‌ দ্রৌপদী মুর্মুর অসম্মানের কর্মসূচি নিয়ে জটিলতা?‌

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ সফর এবং তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক। রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক প্রধান। তাঁর পদমর্যাদা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। তাঁর পদমর্যাদা যাতে ক্ষুণ্ণ না-হয়, তা সমস্ত সংগঠনেরই দেখা উচিত। রাষ্ট্রপতি যে কোনও সরকারি কর্মসূচিতে দেশের যে কোনও প্রান্তে, দেশের বাইরে যেতে পারেন। যে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানেও যেতে পারেন। তবে সংবিধান অনুযায়ী তাঁর কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়া সমীচীন নয়। যে সংগঠন তাঁকে উত্তরবঙ্গে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, সেই ‘আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল’-এর সদর দফতর ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগে। রাজ্যের বাইরের যে কোনও সংগঠন এ রাজ্যে এসে তাদের কর্মসূচি করতেই পারে। সংগঠনটির তরফে বলা হয়, এটি ‘আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলন’। ২০১৮ সালে এই সংস্থাই অসমের গুয়াহাটিতে একই ধরনের অনুষ্ঠান করেছিল ৫০০ প্রতিনিধির ‘আন্তর্জাতিক সম্মেলন’। কর্মসূচি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার গোড়ায় যাওয়া প্রয়োজন। গত ৪ মার্চ শিলিগুড়ির এসডিও রাষ্ট্রপতির কর্মসূচিস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন একটি বাঁশও পড়েনি। তিনি জানান জেলাশাসককে। সে দিনই জেলাশাসক অবগত করেন নবান্নকে। নবান্ন জানায় রাষ্ট্রপতির সচিবালয়কে। অর্থাৎ, যাঁরা আয়োজক, সেই সংস্থার সঙ্গে রাজ্য সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই তাঁরাই রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি নেন। রাষ্ট্রপতি দেশের সাংবিধানিক প্রধান। তাঁর নিরাপত্তা-সহ ননাবিধ বিষয় সম্পর্কে ‘ব্লু বুক’-এ লেখা রয়েছে। যে ‘ব্লু বুক’-এর গোড়াপত্তন হয়েছিল ব্রিটিশ শাসনে। ইংরেজ আমলে যত জন ‘ভাইসরয়’ ছিলেন, তাঁদের মধ্যে এক জনকেই খুন হতে হয়েছিল। ১৮৭২ সালে আন্দামান পরিদর্শনের সময়ে ওয়াহাবি আন্দোলনের সমর্থক শের আলি আফ্রিদির ছুরিকাঘাতে লর্ড মেয়ো নিহত হওয়ার পরে উচ্চপদস্থদের নিরাপত্তা-সহ ইত্যাদি বিষয়ে ‘ব্লু বুক’ তৈরির ভাবনা শুরু হয়। যাঁরা জওহরলাল নেহরুর নামে সমালোচনা না-করে জলস্পর্শ করেন না, তাঁদের বোধহয় জানা নেই, এই ‘ব্লু বুক’ গ্রহণ করা হয়েছিল নেহরুর সময়েই। পরবর্তীকালে নানা সময়ে এই ‘ব্লু বুক’ সংশোধিত হয়েছে। ঔপনিবেশিক ভারতের রীতি। তাতে বলা আছে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী দেশের মধ্যে কোথাও গেলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজ্যপাল থাকবেন তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে। থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী না-থাকলে অন্য কোনও ক্যাবিনেট মন্ত্রী। রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ সফতরের সময়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস পদত্যাগ করেন। এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া নতুন রাজ্যপাল তখনও রাজ্যে আসেননি। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মানুষের অধিকার রক্ষায় কলকাতার রাজপথে ধর্নায় বসেছেন। জেলায় জেলায় মন্ত্রীরাও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় রাস্তায় রয়েছেন। তাই শিলিগুড়ির শহরের ‘প্রথম নাগরিক’ (মেয়র) গৌতম দেবকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঠিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে। গৌতম আগে রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফরের কর্মসূচির খুঁটিনাটি জানতে চেয়ে রাজ্যের রিপোর্ট তলব করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির সফর এবং সেই সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের কী অবস্থান, জানাতে হবে অমিত শাহের মন্ত্রককে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ‘‘সাধারণত রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রীরও আসা উচিত। মন্ত্রীর থাকা উচিত। মমতা আমার ছোট বোনের মতো। জানি না, হয়তো কোনও কারণে আমার উপর রাগ করেছেন। প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজে চলে এলাম। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা (অনুষ্ঠান করার) নেই। এখানে এত বড় জায়গা আছে। তা-ও কেন হল না, জানি না। এখানে হলে আরও অনেক মানুষ আসতে পারতেন।’’
দেশের রাষ্ট্রপতির সম্পর্কে মমতার ভাষায়, ‘‘আমার বলতে লজ্জা করছে। মাননীয়া রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি। তাঁকে দিয়েও পলিটিক্স বেচতে পাঠানো হয়েছে! বিজেপির এজেন্ডা বেচতে পাঠানো হয়েছে!’’ তিনি এ-ও অভিযোগ করেন, রাজ্যে ‘রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিকল্পনা নিয়ে আগেই গান গেয়ে রাখা হচ্ছে’। মখ্যমন্ত্রীর মুখে ইংরেজীটা ছিল এরকম ‘‘আই অ্যাম সরি ম্যাডাম। আই হ্যাভ গ্রেট রিগার্ডস ফর ইউ। বাট ইউ আর ট্র্যাপড বাই দ্য বিজেপি’স পলিসি (মাননীয়া আমি দুঃখিত। আপনার প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা। কিন্তু আপনি বিজেপির নীতির ফাঁদে পড়েছেন)।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles