Monday, March 9, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘সব জানি, আপনি বসুন’!‌ ডোন্ট শাউট’!‌ জ্ঞানেশের তীব্র ধমক!‌ জেলাশাসক হোন বা পুলিশ কমিশনার?‌ গাফিলতি দেখলে কাউকে রেয়াত নয়

কমিশনের বৈঠকে সাফাই দিতে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের ‘ধমক খেলেন’ আইপিএস বিনীত! নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিককে ভর্ৎসনা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি জানান, প্রত্যেকের কাজের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট আছে। জেলাশাসক হোন বা পুলিশ কমিশনার, গাফিলতি দেখলে কাউকে রেয়াত নয়। রাজ্যের ডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলকে ভর্ৎসনা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সোমবার দুপুরে প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠকে ধমক খান বিভিন্ন জেলাশাসক এবং পুলিশ আধিকারিকও। কমিশনের বার্তা, প্রত্যেকের কাজের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট আছে। জেলাশাসক হোন বা পুলিশ কমিশনার, গাফিলতি দেখলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। রাজ্যে এসআইআরের কাজে কয়েক জন আধিকারিকের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট কমিশন। কমিশনের একটি সূত্রের দাবি, রাজ্য এবং কেন্দ্রের ২৪টি সংস্থার আধিকারিকদের বৈঠকে জ্ঞানেশের হুঁশিয়ারি, ‘‘পদক্ষেপ করুন। না হলে শুধু চা খেয়ে থাকতে হবে।’’ কমিশনের একটি সূত্রের দাবি, বৈঠকে রাজ্যের আধিকারিকদের উদ্দেশে বার্তা দেওয়া হয়েছে, যদি কেউ ভাবে, দেড় মাসের জন্য কমিশন সক্রিয়, তার পরে আর নয়, তা খুব ভুল ভাবনা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা আধিকারিক বলেন, “কমিশন বলেছে, ইচ্ছাকৃত গরমিল বা গাফিলতি প্রমাণ হলে, এমন জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে, যেখান থেকে ফেরার সুযোগ থাকবে না।” একই সঙ্গে রিজ়ার্ভ ব‍্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই), বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ, আবগারি, মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থাও (নার্কোটিক্স) কমিশনের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে। ওই সময় কলকাতার প্রাক্তন সিপি এবং বর্তমান ডিজি (আইনশৃঙ্খলা) গোয়েলও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের ‘কোপে পড়েন।’ সূত্রের দাবি, নার্কোটিক্স অ‍্যাডভাইজরি কমিটি একমাত্র এ রাজ্যে কেন নেই, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ওই বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলে রাজ্য দাবি করলেও, তা সন্তুষ্ট করতে পারেনি কমিশনকে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকেও ধমক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের। সোমবার নিউটাউনে কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম ও রাজীব কুমার। ওই বৈঠক সেরে বেরিয়ে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন চন্দ্রিমা। কোনও কথা না শুনে শুধু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শুধু চিৎকার করে গিয়েছেন বলেই দাবি তাঁর। ১২টা ১০ মিনিট নাগাদ তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বৈঠকের শুরুতেই একজন বৈধ ভোটারেরও নাম বাদ যেন না যায়, সে আর্জি জানান শাসক শিবিরের প্রতিনিধি চন্দ্রিমা। অভিযোগ, এসব কথা শুনতে চাননি জ্ঞানেশ। চন্দ্রিমা বলেন, “উনি একাই কথা বলেন। বললেন। কিছুক্ষণ পর ক্ষিপ্ত হয়ে গেলেন। চেঁচাচ্ছেন। বলছেন আপনারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। আর কিছু বলার নেই। অন্য জায়গায় সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া অপরাধ নাকি? আমাদের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অধিকার আছে। আমি একজন মহিলা। আমাকে বলছে ডোন্ট শাউট। আমি বললাম, কীভাবে বলছেন আপনি? তার মানেই বোঝা যাচ্ছে মহিলাদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই। তার জন্য মহিলাদের নাম বাদ দিচ্ছেন। আমাদের কথা শুনতে রাজি নন। খালি বলছেন সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। বেশ করেছি গিয়েছি। আমার অধিকার, বাংলার মানুষকে ঠিক রাখার অধিকারে গিয়েছি। মহিলাদের প্রতি চেঁচানো? আপনি দেখে নেবেন এরপর কী হয়।” বৈঠক থেকে বেরিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “বিজেপি ধারণা তৈরি করেছে এখানে অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা রয়েছে। ক’জনকে খুঁজে বের করতে পারলেন? শুধু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হল। হাজার হাজার মানুষকে অযথা লাইনে দাঁড় করালেন। আপনার বিজেপির কথা শুনে ভুল হয়ে গিয়েছে। আপনি বলতে পারবেন আই অ্যাম রং। তবে দেখবেন একজন ভারতীয় নাগরিকেরও যেন ভোটদানের অধিকার যেন খর্ব না হয়। বাংলার সর্বনাশ করেছে বিজেপি। নিরীহ মানুষ যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মৃত্যুর কারণ ওরা। সুপ্রিম কোর্টে অধিকার রক্ষা করতে গিয়েছি। আদালতে যাওয়ার আগে বারবার আপনার কাছে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। গুরুত্ব দেননি।” এদিন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন বাম, বিজেপি এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধিরাও। তাঁরা এক কিংবা দু’দফায় ভোটের দাবি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles