Sunday, March 8, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

প্রোমোটিং-বিবাদ? নেপথ্যে রাজনীতির আকচাআকচিও? বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে খাস কলকাতা!‌ শহরের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন?‌

বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে পাইকপাড়া। খাস কলকাতার বুকে পর পর বিস্ফোরণ হয়েছে একটি পরিত্যক্ত ক্লাবে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই ঘটনা শহরের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রোমোটিংয়ের জন্যই কি এই ক্লাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হল? না কি নেপথ্যে রাজনীতির আকচাআকচিও রয়েছে? স্থানীয়দের দাবি, ক্লাবটিতে প্রোমোটিং করতে চাওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে চাপও দেওয়া হচ্ছিল কর্তৃপক্ষকে। দীর্ঘ দিন ক্লাবটি বন্ধ ছিল। বিস্ফোরণের পরেও ওই ক্লাব থেকে ছ’টি বোমা উদ্ধার করে বম্ব স্কোয়াড। পুলিশ সূত্রে খবর, দু’টি বোতলে মিলেছে তরলও। এলাকায় আতঙ্ক রয়েছে। পর পর বিস্ফোরণ নাড়িয়ে দিয়েছে পাইকপাড়ার গাঙ্গুলিপাড়া এলাকাকে। সরু গলির মধ্যে পর পর বাড়ি। কয়েক ছটাক জমির উপর ছোট্ট ক্লাবঘর, নাম ‘যুবশক্তি’। বিস্ফোরণ এতটাই তীব্র ছিল যে, তার অভিঘাতে ক্লাবঘরের টিনের চাল উড়ে উঠে যায় পাশের ছ’তলা বাড়ির ছাদে! সামনের বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে যায়। ক্লাবে আগুনও লেগে গিয়েছিল। দমকল গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট শ্রাবণী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরা আলাদা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন। কারা এই বিস্ফোরণ ঘটাল, কেন ঘটাল, তা তাঁরা জানতে চান এবং দুষ্কৃতীদের শাস্তি চান। আতঙ্কের ঘোর এখনও কাটতে চাইছে না। শ্রাবণী বলেন, ‘‘আমরা এখনও খুব আতঙ্কিত, খুব ক্লান্ত। সকালে মারাত্মক আওয়াজ হয়েছিল। আমরা বেরিয়ে দেখি, ক্লাবে আগুন জ্বলছে। প্রচুর ধোঁয়া। তার পর আমরা থানায় খবর দিই। বম্ব স্কোয়াড আসে। ছ’টি বোমা এখান থেকে পাওয়া গিয়েছে। তিনটি ফেটেছে। নিজেদের নিরাপত্তার জন্যেই আমরা লিখিত অভিযোগ করব।’’ ক্লাবঘরের ভিতর কেরোসিন তেল মজুত রাখা ছিল বলেও দাবি করেছেন শ্রাবণী। তিনি বলেন, ‘‘ক্লাবের পিছন দিকের দেওয়ালটা দুর্বল ছিল। ওটা ভেঙেই কেউ ঢুকেছিল। বোমা রেখে চলে গিয়েছে। এই ক্লাবে প্রোমোটিংয়ের জন্য চেষ্টা চলছে। ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। কেউ কেউ আছেন, তবে আমি তাঁদের নাম করব না। বিষয়টা তদন্তসাপেক্ষ। তবে এর আগেও আমাদের ক্লাব থেকে উঠে যেতে বলা হয়েছিল। নানা ভাবে ভয় দেখানো হয়েছিল। অতীতে ক্লাবে চুরি হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে।’’ কয়েক দশকের পুরনো এই ক্লাবের জমি নিয়ে শরিকি গোলমাল রয়েছে বলে দাবি করেন শ্রাবণী। সামনের একটি বাড়িতে নির্মাণকাজ চলছে। শ্রাবণী জানান, পাশের বাড়ির এক ব্যক্তিকে জমির পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দেওয়া হয়েছিল। জমির উপর ওই ব্যক্তির নজর ছিল বলে দাবি করেছেন শ্রাবণী। একাধিক বার তাঁর বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। ভোটের মুখে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এসেছে। দিকে দিকে তারা রুটমার্চ করছে। তার মধ্যে এমন বিস্ফোরণে উদ্বেগে পাইকপাড়াবাসী। চিৎপুর থানার পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রোমোটিংয়ের জন্যই কি এই ক্লাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হল? না কি নেপথ্যে রাজনীতির আকচাআকচিও রয়েছে? স্থানীয়েরা অবশ্য কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে আঙুল তোলেননি। দাবি, এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি ওই এলাকায়। পাড়াটি মোটের উপর শান্ত হিসাবেই পরিচিত। যদিও বিজেপির তরফে পাইকপাড়ার ঘটনায় পুলিশি তৎপরতার অভাব এবং রাজ্য প্রশাসনের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। প্রোমোটিংয়ের জন্যই কি এই ক্লাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হল? না কি নেপথ্যে রাজনীতির আকচাআকচিও রয়েছে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles