Saturday, March 7, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আইএসএলে অপ্রতিরোধ্য মোহনবাগানের জয়রথ!‌ আইএসএলে ওড়িশাকে উড়িয়ে শীর্ষস্থানে সবুজ-মেরুন

মোহনবাগান ৫ (ম্যাকলারেন-৪, আলবের্তো)
ওড়িশা ১ (রহিম)

ওড়িশাকেও ৫-১ গোলে হারিয়ে দিল মোহনবাগান। হ্যাটট্রিক-সহ চারটি গোল করলেন জেমি ম্যাকলারেন।
আইএসএলে থামানো যাচ্ছে না মোহনবাগানের জয়রথ। মহমেডানের পর শুক্রবার ওড়িশাকেও ৫-১ গোলে হারিয়ে দিল তারা। হ্যাটট্রিক-সহ চারটি গোল করলেন জেমি ম্যাকলারেন। প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়ে গেলেন তিনি। তার চেয়েও বড় ব্যাপার, আরও একটি ম্যাচে গোলপার্থক্য বাড়িয়ে নিল মোহনবাগান। লিগের শেষ দিকে যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিতে পারে। অবশ্য মোহনবাগান যা খেলছে, তাতে গোলপার্থক্যের বিশেষ দরকার হবে না বলেই মনে করছেন অনেকে। মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ ওড়িশা আদৌ আইএসএলে খেলবে কি না, তা প্রতিযোগিতা শুরুর কয়েক দিন আগেও ঠিক ছিল না। শেষ মুহূর্তে তারা দল নামাতে রাজি হলেও প্রস্তুতির বিশেষ সময় পায়নি। শুক্রবারের আগে তারা দু’টি ম্যাচ ড্র করেছিল, একটিতে হেরেছিল। ছন্দে থাকা মোহনবাগানের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ওড়িশা। আগাগোড়া দাপট নিয়ে খেলেছে মোহনবাগান। পাঁচটি গোলের মধ্যে তারা চারটিই দিয়েছে প্রথমার্ধে। ভাগ্য সঙ্গে থাকলে এবং সব সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আরও বড় ব্যবধানে জেতার কথা ছিল। রবসনের অনুপস্থিতিতে এ দিন শুরু থেকে নেমেছিলেন জেসন কামিংস। তিনি বার বার বিপদে ফেলতে থাকেন ওড়িশার রক্ষণকে। বলও ছিল মোহনবাগানের ফুটবলারদের পায়ে। ১৪ মিনিটেই প্রথম গোল করে মোহনবাগান। বাঁ দিকে বল পেয়েছিলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। তিনি ডান দিকে কাট করে আচমকাই ব্যাক হিলে পাস দেন শুভাশিস বসুকে। চলতি বলে শুভাশিসের নেওয়া ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন ম্যাকলারেন। চলতি মরসুমে এটিই দ্রুততম গোল।

গোল খেয়ে আরও খোলসে ঢুকে পড়ে ওড়িশা। আগে যা-ও বা তাদের দু’একটি আক্রমণ দেখা যাচ্ছিল, মোহনবাগানের দাপটে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। সেই সুযোগে সবুজ-মেরুন আরও জাঁকিয়ে বসে ম্যাচে। ২৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন ম্যাকলারেন। লিস্টন ডান দিকে বল পেয়েছিলেন। তাঁর নিখুঁত পাসে গোল করতে ভুল করেননি অসি স্ট্রাইকার। তৃতীয় গোলের মাঝে দু’বার পেনাল্টির আবেদন করেছিল মোহনবাগান। প্রথম বার পেত্রাতোসের শট হাতে লাগে ওড়িশার এক ডিফেন্ডারের। দ্বিতীয় বার ম্যাকলারেনকে বক্সে ফেলে দেন জুইডিকা। কোনও ক্ষেত্রেই রেফারি পেনাল্টির আবেদনে সাড়া দেননি। ৪১ মিনিটে তৃতীয় গোল করেন আলবের্তো রদ্রিগেজ়। সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় গোল করেন। বক্সের বাইরে বল পেয়েছিলেন। সামনে বেশ কিছুটা জায়গা ছিল। আলবের্তো খানিকটা এগিয়ে ডান পায়ে নিচু শটে গোল করেন। ওড়িশার এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে হালকা ঘুরে যায় বলের দিক। ফলে গোলকিপার অমরিন্দর সিংহের কিছু করার ছিল না। দু’মিনিট পরেই বিশাল কাইথের ভুলে গোল হজম করে মোহনবাগান। ভেসে আসা বল দখলে নিয়েছিলেন রহিম আলি। হঠাৎই বিশাল গোল ছেড়ে এগিয়ে আসেন। তাঁকে কাটিয়ে বল জালে জড়ান বাঙালি স্ট্রাইকার। যদিও বিশাল না এগোলেও গোলের সম্ভাবনা ছিল। কারণ বল ছিল পুরোপুরি রহিমের পায়েই। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই হ্যাটট্রিক করেন ম্যাকলারেন। আবারও লিস্টনের ক্রস ভেসে এসেছিল বক্সে। ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় থাকা ম্যাকলারেন গোল করতে ভুল করেননি। ৪-১ এগিয়ে যাওয়ায় দর্শকাসনে তখন থেকেই উৎসব শুরু করে দেন মোহনবাগানের সমর্থকেরা। প্রথমে কামিংস, পরে পেত্রাতোসকে তুলে নেন কোচ সের্জিয়ো লোবেরা। নামান মনবীর সিংহ, সাহাল সামাদকে। দু’জনেই চেষ্টা করেছিলেন। তবে গোল করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত গোল আসে ম্যাকলারেনের পা থেকেই। ৮৭ মিনিটে পঞ্চম গোল করেন। মোহনবাগানের গোলকিপার বিশালকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি রহিম। কয়েক মুহূর্ত পরেই একই রকম দৃশ্য দেখা যায় ওড়িশার বক্সে। ম্যাকলারেনের নিখুঁত ফিনিশে চতুর্থ গোল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles