কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেলেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের হুমায়ুন কবীর। তৃণমূল ছেড়ে গিয়ে নতুন দল গড়া বিধায়ককে ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এ বার থেকে সর্বক্ষণ তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ১২ সদস্যের একটি দল। বুধবার দুপুরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা পৌঁছে যান হুমায়ুনের রেজিনগরের বাড়িতে। এই দলে রয়েছেন এক পরিদর্শন, এক সহকারী পরিদর্শক এবং ১০ জন কনস্টেবল। হুমায়ুনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। ওই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রকে হুমায়ুনের আর্জি খতিয়ে দেখার জন্য বলেছিল আদালত। পরে দিল্লি থেকেও তাঁর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত আসে। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাঁকে ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বুধবার সেই মতো কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা পৌঁছে যান হুমায়ুনের বাড়িতে। এখন থেকে এই বাহিনীর সুরক্ষা বলয়েই থাকবেন ভরতপুরের বিধায়ক। নির্বাচনের আগে হুমায়ুনের এই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি রাজ্যের শাসকদল। বিধায়কের দাবি, “লাগাতার খুনের হুমকি ফলে রাজ্যের কাছে আবেদন করেছিলাম। সেখানে সদুত্তর না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হই। এর পরে আজ নিরাপত্তা দল এসে পৌঁছোল।” তৃণমূল তাঁকে নিলম্বিত করার পরে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরির ঘোষণা করেন হুমায়ুন। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সভা করেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি নতুন দলের নাম দেন, ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’, সংক্ষেপে জেইউপি। তবে এই নামে আগে থেকেই নির্বাচন কমিশনে একটি দল নিবন্ধিত রয়েছে। ফলে তাঁকে দলের নাম বদলাতে হয়েছে। ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ হিসাবে ভরতপুরের বিধায়কের দলের রেজিস্ট্রেশন মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন।
হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির রেজিস্ট্রেশন মঞ্জুর করল নির্বাচন কমিশন। এবার সংবাদপত্রে নতুন রাজনৈতিক দলের বিষয়ে বিজ্ঞাপন দিতে হবে। তাতে কোনও আপত্তি না উঠলে রাজনৈতিক দল হিসাবে স্বীকৃতি দেবে কমিশন। তারপরই প্রতীকের জন্য আবেদন করা যাবে। হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দপ্তর। সিইও দপ্তর সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, হুমায়ূনের দল সব প্রক্রিয়া শেষ করেছে। রাজনৈতিক দল হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার যাবতীয় শর্ত পূরণ করেছে এজেইউপি। হুমায়ুনের দলের রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্বাচন সদনে সুপারিশ করা হয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন মঞ্জুর করতে পারে কমিশন। ১৫ দিনও লাগল না। তার আগেই রেজিস্ট্রেশন মঞ্জুর করল কমিশন। ২২ ডিসেম্বর নিজের নতুন দলের নাম ঘোষণা করেছিলেন ভরতপুরের বিধায়ক। প্রকাশ করেন দলের ইস্তেহারও। তাঁর দাবি অনুযায়ী, দলের স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল আগেই। জানা যাচ্ছে, তাঁর দলের সদর দপ্তর হতে পারে বেলডাঙা বা রেজিনগর। দলের সম্ভাব্য প্রতীক কী হতে পারে সেটার ইঙ্গিতও আগেই দিয়েছেন হুমায়ুন। ২০১৬ সালে নির্দল হিসাবে টেবিল প্রতীক নিয়ে লড়েছিলেন তিনি। নতুন দলের প্রতীক হিসাবে টেবিলই পছন্দ তাঁর। যদিও সেই প্রতীক তিনি পাবেন নাকি অন্য কোনও প্রতীকে লড়তে হবে, সেটা কমিশনের সিদ্ধান্ত। প্রসঙ্গত, হুমায়ুন প্রথমে দলের নাম রেখেছিলেন ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি।’ কিন্তু ওই নামে অন্য একটি ছোট দল থাকায় নাম পরিবর্তন করতে হয়েছে হুমায়ুনকে। তাঁর দলের নতুন নাম ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’।





