এ বারের বিশ্বকাপের একমাত্র অপরাজিত দল, ফেভারিট হিসাবে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে খেলতে নেমেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে সেমির আগে একটাও ম্যাচ হারেনি এডেন মার্করামের দল। কিন্তু প্রোটিয়াবাহিনীর নামের সঙ্গেই জুড়ে রয়েছে ‘চোকার্স’ পরিচয়। আরও একবার নকআউট পর্বে এসে ধরাশায়ী দক্ষিণ আফ্রিকা। ইডেনে একপেশে সেমিফাইনালে প্রোটিয়াদের গুঁড়িয়ে দিল নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয়বার টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে কিউয়িরা।সেমিফাইনালে প্রোটিয়াদের মান রাখল মার্কো জানসেনের ব্যাট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ১৭০ রানের লক্ষ্য রাখে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইডেন গার্ডেন্সে প্রথমে ব্যাট করে এডেন মার্করামের দল তুলল ৮ উইকেটে ১৬৯ রান। টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ইনিংসের শুরুটা ভাল হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। দ্বিতীয় ওভারে পর পর দু’বলে কুইন্টন ডি কক (১০) এবং রায়ান রিকেলটনকে (০) আউট করে প্রোটিয়াদের চাপে ফেলে দেন কোল ম্যাককোনচি। মার্করামকে (১৮) বিতর্কিত ক্যাচ আউট দিয়ে সমস্যা বাড়িয়ে দেন তৃতীয় আম্পায়ার নীতিন মেননও। তবে রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপসেরা সহজ ক্যাচ ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিলেন। বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে বিতর্ক তৈরি হল আম্পায়ারিং নিয়ে। ঘটনাটি দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের অষ্টম ওভারের। রাচিন রবীন্দ্রের বলে ছয় মারার চেষ্টা করেন মার্করাম। কিন্তু তাঁর টাইমিং ঠিক হয়নি। লং অনে ফিল্ডার ছিলেন ডারেল মিচেল। তিনি খানিকটা এগিয়ে এসে সামনে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ ধরার চেষ্টা করেন। মাঠের আম্পায়ার সিদ্ধান্ত না নিয়ে তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে পাঠিয়ে দেন। কয়েক বার রিপ্লে দেখে মার্করামকে (২০ বলে ১৮) আউট দেন মেনন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কারণ রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা গিয়েছে, মিচেল তালুবন্দি করার আগে বল সামান্য লাফায়। বল মাটিতে পড়ে লাফিয়েছিল না মিচেলের আঙুলে পড়ে লাফিয়েছিল, তা টেলিভিশন রিপ্লেতে নিশ্চিত ভাবে বোঝা যায়নি। নিশ্চিত হতে পারেননি ধারাভাষ্যকারেরাও। তবে মেনন জানিয়ে দেন, বলের তলায় মিচেলের আঙুল ছিল। তাই মার্করাম আউট। ডেভিড মিলার (৬) দলকে ভরসা দিতে পারেননি। এক সময় ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবু গত বারের রানার্সদের লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দিলেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, ট্রিস্টান স্টাবস, জানসেনেরা। ব্রভিস চার নম্বরে নেমে করেন ২৭ বলে ৩৪। মারেন ৩টি চার এবং ২টি ছয়। স্টাবস করলেন ২৪ বলে ২৯। ২টি চার, ১টি ছক্কা মারেন তিনি। মূলত জানসেনের অর্ধশতরানই নিউ জ়িল্যান্ডকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল। ঠান্ডা মাথায় ৩০ বলে ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন জানসেন। তাঁর ব্যাটেই জান ফিরল দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের। মারলেন ২টি চার এবং ৫টি ছক্কা। নিউজিল্যান্ডের রাচিন ২৯ রানে ২ উইকেট নিলেন। ৯ রানে ২ উইকেট ম্যাককোনচির। ৩৪ রানে ২ উইকেট ম্যাট হেনরির। ২৯ রান দিয়ে ১ উইকেট লকি ফার্গুসনের। এ ছাড়া ৪২ রানে ১ উইকেট জেমস নিশামের। স্যান্টনার ভাল বল করলেও উইকেট পেলেন না।
ইডেনের শিশির ভেজা মাঠে ১৭০ রানের টার্গেট বেশ সহজ ছিল। কিন্তু প্রোটিয়াদের খাড়া টার্গেটকে সহজ থেকে সামান্যের পর্যায়ে নামিয়ে আনলেন দুই কিউয়ি ওপেনার টিম সাইফার্ট এবং ফিন অ্যালেন। বিপক্ষে থাকা কাগিসো রাবাডা, লুনগি এনগিডিদের নিয়ে স্রেফ ছেলেখেলা করলেন তাঁরা ইডেনের বাইশ গজে দাঁড়িয়ে। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বাউন্ডারি মারেন সাইফার্ট। প্রথম ছয় ওভার শেষেই লেখা হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। দশম ওভারে গিয়ে রাবাডার বলে আউট হয়ে যান সাইফার্ট। মাত্র ৩৩ বলে তাঁর সংগ্রহ ৫৮ রান। তবে উইকেটের অপর প্রান্তে ধ্বংসলীলা চালিয়ে সেঞ্চুরি পূরণ করলেন ফিন অ্যালেন। ৪৩ বল বাকি থাকতে ফাইনালে কিউয়িরা।
ইডেন গার্ডেন্সে এডেন মার্করামের আউট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হল। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ককে ক্যাচ আউট দিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেন ভারতের নীতিন মেনন। প্রথম সেমিফাইনালে তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্বে। আউট নিয়ে বিতর্ক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে শেষ হল এডেন মার্করামের ইনিংস। ড্যারেল মিচেল ঠিক মতো ক্যাচ ধরতে পেরেছেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। যদিও কয়েক বার রিপ্লে দেখার পর মার্করামকে আউট ঘোষণা করেন তৃতীয় আম্পায়ার নীতীন মেনন। ঘটনাটি দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের অষ্টম ওভারের। রাচিন রবীন্দ্রের বলে ছয় মারার চেষ্টা করেন মার্করাম। কিন্তু তাঁর টাইমিং ঠিক হয়নি। লং অনে ফিল্ডার ছিলেন মিচেল। তিনি খানিকটা এগিয়ে এসে সামনে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ ধরার চেষ্টা করেন। মাঠের আম্পায়ার সিদ্ধান্ত না নিয়ে তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে পাঠিয়ে দেন। কয়েক বার রিপ্লে দেখে মার্করামকে (২০ বলে ১৮) আউট দেন মেনন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কারণ রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা গিয়েছে, মিচেল তালুবন্দি করার আগে বল সামান্য লাফায়। বল মাটিতে পড়ে লাফিয়েছিল না মিচেলের আঙুলে পড়ে লাফিয়েছিল, তা টেলিভিশন রিপ্লেতে নিশ্চিত ভাবে বোঝা যায়নি। নিশ্চিত হতে পারেননি ধারাভাষ্যকারেরাও। তবে মেনন জানিয়ে দেন, বলের তলায় মিচেলের আঙুল ছিল। তাই মার্করাম আউট। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ককে অবশ্য বিস্মিত মনে হয়নি আউট হওয়ার পর। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের স্ত্রী-বান্ধবীরা বিস্মিত হয়েছেন। তাঁদের বিস্ময় ধরা পড়েছে টেলিভিশনের ক্যামেরাতেও। ইডেন গার্ডেন্সে ভারতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন এবং বিতর্ক। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আম্পায়ারদের আরও নিশ্চিত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ।





