Friday, March 6, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সাত কোটি সন্তানের, হে মুগ্ধ জননী! রেখেছ বাঙালী করে, মানুষ করনি!‌

এটাও সম্ভব?‌ সৌরভ গাঙ্গুলির চুলচেরা বিশ্লেষণ!‌ পোস্ট মর্টেম!‌ সৌরভকে গোটা বাঙালি জাতির কলঙ্ক বানিয়েও দিচ্ছেন খোদ বাঙালিরাই। দুঃখজনক কথা। মানুষের শ্রদ্ধা, আবেগ, ভালবাসা মনে করিয়ে দিচ্ছে অভয়া কান্ডর পর বিরোধী মিছিল এড়িয়ে মমতার কার্নিভালে পাশে থাকার কাহানি। মনে করিয়ে দিচ্ছেন স্পেনে মমতার সঙ্গী হওয়া এবং ফিরে শালবনীতে ইস্পাত কারখানার ঘোষণা। সৌরভের সেই “দাদাগিরি”র ইমেজ কী এতটাই লুন্ঠিত?‌ উনি নাকি বাংলার বাইরেও এখন পরিত্যক্ত। একটা মানুষের একই জীবনে এতটা উত্থান ও পতন খুব একটা দেখা যায় না। ন্যাটওয়েস্ট ম্যাচে জামা ওড়ানো সৌরভ নিয়ে ঋতুপর্ণ ঘোষের একটি তথ্যচিত্রে ভালবাসা, আবেগ চোখে জল এনেছিল। আজ মীরজাফর রূপে পরিণত হয়েছেন?‌ নেটিজনেরা বলছেন, ঋতুপর্ণ বেঁচে থাকলে পারতেন না। কারণ ঋতু মানুষটি বড়ই আবেগপ্রবণ ছিলেন। আবার কেউ বলছেন, যদি রাজনীতি করতেন বা শাহ র কথা শুনতেন তবে বিশ্বক্রিকেট মঞ্চে আজ সৌরভ থাকতেন। রাজনৈতিক দলগুলো হল তরল পদার্থের মত। বাংলার আইকনদের কাছে তারা পানীয় হিসেবে উপস্থিত হতে চায়। সৌরভ ঠিক করেছেন। সফট ড্রিঙ্ক খেয়ে কাগজের গ্লাসটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন। সবারই তাই করা উচিত।

সরাসরি ভোটের রাজনীতিতে না থেকেও ক্ষমতার অলিন্দে অবাধ যাতায়াত রাখেন, তাঁদের উপস্থিতি কখনও ‘সম্মানিত নাগরিক’, কখনও ‘নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব’, আবার কখনও জনমানসে ‘বিকল্প মুখ্যমন্ত্রী’-র গুঞ্জন তৈরি হওয়া, এই তালিকার শীর্ষে যে নামটি বারবার উঠে আসে, তিনি হলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। ক্রিকেট মাঠে তাঁর নেতৃত্ব ও সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন নেই, কিন্তু রাজনীতির মাঠে তাঁর ভূমিকা বরাবরই সন্দেহজনক, সুবিধাবাদী, ধূর্ততার গন্ধমাখা। জনগণের ও নেট নাগরিকদের কমেন্ট বক্সের মতামতের জোয়ার। এক সময় তিনি প্রকাশ্যেই বামফ্রন্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-এর সঙ্গে তাঁর সখ্যতা ছিল সর্বজনবিদিত। শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখানো সেই সময় গাঙ্গুলী ছিলেন সরকারের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’-এর মতো। রাজনীতির হাওয়া বদলাতেই তাঁর অবস্থানও বদলাতে সময় লাগেনি। বামেদের পতনের পরে তিনি ধীরে ধীরে দূরে সরে যান, তৃণমূলের সঙ্গে, বিশেষ করে মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন। কিছু বছর চলার পরে আবার ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর ঝোঁক স্পষ্টভাবে গিয়ে পড়ে বিজেপির দিকে। তখন পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসছেই, এই আত্মবিশ্বাসে তিনি বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে দেন বলেই নেট নাগরিকদের অভিমত। রাজ্য বিজেপির অন্দরে পর্যন্ত তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী করার গুঞ্জন ওঠে। প্রকাশ্যে তিনি ‘রাজনীতিতে আসছি না’ বললেও, নেপথ্যে তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা লুকোনো ছিল, এমন ধারণা অমূলক নয় বলেই মনে করেন নেটনাগরিকরা। কিন্তু ফলাফল বেরোতেই দেখা গেল, বিজেপির সেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। আর ঠিক তখনই গাঙ্গুলীর রাজনৈতিক কম্পাস আবার ঘুরে গেল!‌ সহাস্য উপহাস নেটনাগরিকদের। পরাজয়ের পরে বিজেপি থেকে কার্যত মুখ ফিরিয়ে তিনি নতুন করে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুললেন রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে আবার সম্পর্ক উষ্ণ হল, আর তার ফল হিসেবে এল শালবনিতে শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা। এই শালবনি শিল্পাঞ্চল বা তথাকথিত ‘কারখানা’ আসলে ক্ষমতার সঙ্গে সখ্যতার উদাহরণ বলে প্রকাশ করেছেন নেটিজনেরা!‌ সমস্যা এখানেই। সৌরভ গাঙ্গুলী রাজনীতিবিদ নন, এই অজুহাতে তিনি কোনও রাজনৈতিক জবাবদিহির ধার ধারেন না। আবার রাজনীতি থেকে দূরেও নন, কারণ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সবসময় অটুট। সুবিধা বুঝে শিবির বদলান, কিন্তু কখনও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন না। ‘নিরপেক্ষ’ নয়, চরম সুবিধাবাদী চরিত্রের ধারক ও বাহক বলতেও দ্বিধাবোধ করেন নি নেটনাগরিকরা।

সৌরভ গাঙ্গুলী যদি সত্যিই রাজনীতির বাইরে থাকতে চাইতেন, তবে তাঁকে কোনও দলের সঙ্গেই এমন ঘনিষ্ঠতায় জড়াতে হতো না। আর যদি রাজনীতিতে আসার ইচ্ছে থাকে, তবে তা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে জনগণের রায়ে নিজেকে প্রমাণ করা উচিত বলে দাবি করছেন নেটনাগরিকরা। নেটিজনেদের বক্তব্য, তিনি বেছে নিয়েছেন সবচেয়ে নিরাপদ রাস্তা, ক্ষমতার সঙ্গে থাকব, কিন্তু দায় নেব না। তাই এখানে তাঁর কাছে খ্যাতি, সুযোগ আর ক্ষমতার হিসাবই শেষ কথা। নেট নাগরিকদের কমেন্ট বক্স থেকে পাওয়া অধিকাংশ মতামতের উপর ভিত্তি করে লেখাটি। জনৈক নেট নাগরিক মন্তব্য করেন, একজন সুবিধাভোগী বটে কারণ এনার পরিবার স্বাধিনতার পূর্বে পূর্ববঙ্গের জমিদার ছিল, দুই জেলায় জমিদারি যশোর ও ময়মনসিংহের কিছু অঞ্চলে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখানে এরা বিত্তশালী। ব্যাক্তিটি শুধুমাত্র ভোগ জানে ত্যাগ জানেন না যেখানে মিঠুনদা কিংবা অরিজিৎ সিং বহু ক্ষেত্রে মুক্ত মনে দান করেন সেখানে উনি নিমিত্ত মাত্র। সারা জীবন জগমোহন ডালমিয়া নামক তৎকালীন ভারতীয় ক্রিকেটার যে ক্ষমতাবান মানুষটির ছত্রছায়া তে সৌরভ এর ক্রিকেট জমানার উত্থান এবং অগ্রগতি, সেই মানুষটির ক্ষমতা চলে যাবার পর সৌরভের কাছ থেকে তিনি পেয়েছিলেন চরম উপেক্ষা। শেষ জীবনে ডালমিয়া সাহেব সৌরভ সম্পর্কে বলে ছিলেন যে, সময় এবং ক্ষমতার সাথে আনুগত্য ও বদলে যায়।

সৌরভের সম্পর্কে নানা অপবাদ এবং অসম্মানজনক কথাবার্তা অনেকদিন ধরেই চলে আসছে তার মধ্যে প্রধান কারন তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বড়ো নেতারা সঙ্গে ওঠাবসা করলেও কোনও দলেই যোগদান করেন নি, তিনি নাকি ধান্দাবাজী করেছেন। ভিন্ন মতের নেট নাগরিকের প্রশ্ন, আপনি আমি কেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বড়ো নেতাদের সাথে ওঠাবসা করতে পারিনি, একটাই কারন আমার আপনার সেই মার্কেট ভ্যালু নেই যে ভ্যালু থাকলে বিভিন্ন নেতারা আমাদের পাত্তা দেবেন। সৌরভকে দোষারোপ না করে যে দল ওকে দলে নিতে চেয়ে অনেকের কথামতো বিভিন্ন সুবিধা দিয়েছে তারা সবাই ধোয়া তুলসীপাতা? রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরা সুবিধা পাবার জন্য সেই সুবিধা আপনাকে আমাকে না দিয়ে সৌরভকে দিয়েছে। ভারতবর্ষের অনেক খেলোয়াড়ের সাথেই অনেক নামজাদা নেতার যোগাযোগ আছে, বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা তারাও পান কিন্তু তাদের নিয়ে তাদের রাজ্যের মানুষের কোনও অভিযোগ এভাবে শুনতে পাওয়া যায় না, কেবল সৌরভের বেলায় পাওয়া যায় কারন বাঙালি বোধহয় একমাত্র জাতি যার অধিকাংশই মানুষ নিজের জাতির আর একজন এগিয়ে গেলেই টেনে নামাতে যায়। প্রতিভাধর, অভিনেতা, অভিনেত্রী, বিচারপতি, নায়ক, নায়িকা, গায়ক গায়িকা, সঙ্গীত শিল্পী,সা়ংবাদিক হলে, শাসকদলের গুণগ্রাহী, শক্তিশালী বিরোধী দলের কাছাকাছি থাকলে রাজনীতি না করলেও, অভিজ্ঞতা না থাকলেও এদের লোকসভায়, রাজ্যসভায় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরা কিন্তু সুবিধাভোগী শ্রেণীর। সুবিধা বঞ্চিত শ্রেণীর মানুষদের যতই যোগ্যতা, মেধা, প্রতিভা, দক্ষতা থাকুক না কেন, ওদের চোখে পড়ে না। তৃণমূল বিজেপি একই পথের পথিক। অনন্ত মহারাজ দল করেন নি। করেনও না। অথচ রাজ্যসভার সদস্য। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর নজরে পড়ে গেছে। হয়তো পদ পেয়ে যাবে। কারণ রাজবংশী ভোট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কামতাপুর রাজ্যের বিপক্ষে। আবার অনন্ত মহারাজকে কোলে তুলে নাচছে। পুরস্কারও দিয়েছে। কোয়েল মল্লিকের মুচকি হাসি ছাড়া রাজনৈতিক জ্ঞান বুদ্ধি অভিজ্ঞতা আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু রাজ্যসভায় মনোনয়ন পেয়ে গেছে।

একই ভাবে বলা যেতেই পারে, বাঙালিরাই বাঙালির শত্রু। লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারলেও, পিছন থেকে দাও টান। সাতকোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী/‌রেখেছ বাঙালী করে মানুষ করনি?‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles