রাজস্থান রয়্যালস: ১৫১/৯ (জুড়েল ৩৩, যশস্বী ২৯, বরুণ ২/১৭)
কলকাতা নাইট রাইডার্স: ১৫৩/২ (ডি’কক ৯৭, অঙ্গকৃষ ২২)
৮ উইকেটে জয়ী কলকাতা নাইট রাইডার্স
আইপিএলের প্রথম ম্যাচে বরুণ চক্রবর্তীদের তুলোধোনা করেছিলেন বিরাট কোহলি-ফিল সল্ট। পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়াল কেকেআর। রাজস্থান রয়্যালসকে মাত্র ১৫১ রানে আটকে দিল কেকেআর। অসুস্থ থাকায় এদিনের ম্যাচে খেলতে পারেননি সুনীল নারিন। ক্যারিবিয়ান তারকাকে বাদ দিয়েই দুরন্ত পারফরম্যান্স নাইট বোলিং ব্রিগেডের। রাজন্থানকে ৮ উইকেটে হারাল কেকেআর। গুয়াহাটির মাঠে চ্যাম্পিয়নের মেজাজে জয় ছিনিয়ে নিল কলকাতা নাইট রাউইডার্স। সুনীল নারিনকে ছাড়াই ব্যাটে-বলে দুরন্ত পারফর্ম করল বেগুনি জার্সিধারীরা। প্রথম ম্যাচে হার। দুরন্ত কামব্যাক করে অজিঙ্ক রাহানের দলের ঝুলিতে দুই পয়েন্ট। বোলারদের আঁটসাট বোলিং ও কুইন্টন ডি’ককের অনবদ্য ব্যাটিং। রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগের ঘরের মাঠে ম্যাচ ছিনিয়ে নিল কেকেআর। টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। সুনীল নারিন অসুস্থ থাকায় ক্যারিবিয়ান তারকার পরিবর্ত হিসাবে মইন আলি খেলেন। রাজস্থান ব্যাটিং লাইন আপে প্রথম আঘাত হানেন বৈভব আরোরা। চতুর্থ ওভারে ফেরান সঞ্জু স্যামসনকে। রাজস্থান দলের যশস্বী জয়সওয়াল ২৪ বলে ২৯ রান, রিয়ান পরাগ ১৫ বলে ২৫ রান করে আউট হন বরুণ চক্রবর্তীর বলে, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার শুভম দুবে ৯ রানে আউট হন, সঞ্জু স্যামসন করেন মাত্র ১৩ রান। ধ্রুব জুরেল ৩৩ রান এবং ৭ বলে ১৬ রানের ক্যামিও খেলেন জোফ্রা আর্চার।। বরুণ-মইনের স্পিন জাদুতে ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৫১ রান রাজস্থান রয়্যালসের। পার্পেল ব্রিগেড দ্বিতীয় ম্যাচে বারসাপারা স্টেডিয়ামে রাজস্থানের বিরুদ্ধে হাসতে হাসতেই জিতল। আজিঙ্কা রাহানের দলের হয়ে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকলেন কুইন্টন ডি কক। কলকাতা নাইট রাইডার্সের তারকা ক্রিকেটার সুনীল নারিনের অভাব বরুণ চক্রবর্তী, মইন আলিরা বল হাতে টের পেতে দিলেন না। ৪ ওভারে বরুণ চক্রবর্তী নেন ২ উইকেট, মাত্র ১৭ রান দিয়ে। নারিনের পরিবর্তে দলে সুযোগ পাওয়া মইন আলিও নিলেন জোড়া উইকেট, চার ওভারে দিলেন ২৩ রান। পেসার বৈভব অরোরা ৩৩ রানে ২ উইকেট তুলে নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে কলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়ক রাহানে নিজে ওপেন করতে না নেমে পাঠালেন নারিনের পরিবর্ত মইন আলিকে। যিনি সাধারণত ওপেনিং করেন না। এমনকি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও আসেননা ওপেনিং করতে। ব্যাট হাতে চূড়ান্ত ব্যর্থও মঈন করলেন ১২ বলে মাত্র ৫ রান। কুইন্টন ডি ককের দুরন্ত ৯৭ রানের সুবাদে ১৫ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ৬১ বলে ৯৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকলেন কুইন্টন ডি কক। মারলেন ছয়টা ছয় এবং আটটা চার। জোফ্রা আর্চারকে ছয় মেরে নাইট রাইডার্সকে ১৮ তম আইপিএলে প্রথম জয়ের স্বাদ এনে দেন ডি কক। জোফ্রা আর্চার অবশ্য শেষ ওভারে দুটি ওয়াইড বল করার ফলে ডি ককের শতরানের সুযোগ হাতছাড়া। অংকৃষ রঘুবংশী করেন ১৭ বলে ২২ রান। সোমবার কেকেআরের পরের ম্যাচ মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে।

তবে, জোফ্রা আর্চারের জঘন্য স্পোর্টসম্যানশিপ বেশ সমালোচিত। জয়ের জন্য ১৬ বলে সাত রান দরকার ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স অর্থাৎ কেকেআর দলের। শতরানের জন্য ৯ রান প্রয়োজন কুইন্টন ডি’ককের। অর্থাৎ একটি চার এবং একটি ছক্কা মারলেই কেকেআর জিতেও যেত এবং সেঞ্চুরি পূরণ হয়ে যেত ডি’ককেরও।। জোফ্রা আর্চারের পরপর দুটি ইচ্ছাকৃত ওয়াইড করে দেন। দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা প্রথম বলেই ছক্কা মেরে কেকেআরকে জেতালেও ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় বলেই ফাইন লেগের উপরে দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকান কেকেআর ওপেনার। তৃতীয় বল অফস্টাম্পের বেশ কিছুটা বাইরে করেন আর্চার। লেগ সাইডে ওয়াইড করেন আর্চার। অনেকটাই বাইরে বল উইকেটের পিছনে পুরো ঝাঁপিয়ে পড়ে কোনওক্রমে বলটা বাঁচান ধ্রুব জুরেল। সমালোচকদের দাবি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াইড করে ৬১ বলে ৯৭ রানে অপরাজিত থাকা প্রোটিয়া তারকা ডি’কককে শতরান করতে দিলেন না আর্চার।

আইপিএল ২০২৫-এর পয়েন্ট তালিকা
১. সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: ১ ম্যাচে ২ পয়েন্ট (নেট রান-রেট +২.২০০)।
২. রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: ১ ম্যাচে ২ পয়েন্ট (নেট রান-রেট +২.১৩৭)।
৩. পঞ্জাব কিংস: ১ ম্যাচে ২ পয়েন্ট (নেট রান-রেট + ০.৫৫০)
৪. চেন্নাই সুপার কিংস: ১ ম্যাচে ২ পয়েন্ট (নেট রান-রেট +০.৪৯৩)।
৫. দিল্লি ক্যাপিটালস: ১ ম্যাচে ২ পয়েন্ট (নেট রান-রেট +০.৩৭১)।
৬. কলকাতা নাইট রাইডার্স: ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট (নেট রান-রেট -০.৩০৮)।
৭. লখনউ সুপার জায়ান্টস: ১ ম্যাচে ০ পয়েন্ট (নেট রান-রেট -০.৩৭১)।
৮. মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: ১ ম্যাচে ০ পয়েন্ট (নেট রান-রেট -০.৪৯৩)।
৯. গুজরাট টাইটান্স: ১ ম্যাচে ০ পয়েন্ট (নেট রান-রেট -০.৫৫০)
১০. রাজস্থান রয়্যালস: ২ ম্যাচে ০ পয়েন্ট (নেট রান-রেট -১.৮৮২)।