মস্তিষ্কের ‘সাবস্ট্যান্সিয়া নাইগ্রা’ নামক অংশ থেকে ডোপামিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান নিঃসৃত হয়ে ভাবনাচিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। মন ভাল থাকার নেপথ্যেও এর ভূমিকা আছে। মস্তিষ্কের এই অংশ অকেজো হয়ে গেলে, ডোপামিন নিঃসরণ কমে যায়। তখনই পার্কিনসন্সের সূচনা হয়। তবে এই রোগের নেপথ্যে জিনগত কারণও রয়েছে। গবেষকেরা দেখেছেন, অন্ত্রের প্রোটিন হোক বা ব্যাক্টেরিয়া, এরা ডোপামিন নিঃসরণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। যে কারণে স্নায়ুগুলির মধ্যে সঙ্কেতের আদানপ্রদানে জটিলতা তৈরি হয়। ফলে স্নায়ু অকেজো হতে থাকে এবং রোগ দেখা দিতে থাকে। কমবয়সিদের মধ্যে পারকিনসন্স কেন হচ্ছে তার কারণ খুঁজতে গিয়ে মুখ ও পেটের স্বাস্থ্য নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছেন গবেষকেরা। পারকিনসন্সকে বয়সজনিত রোগ বলেই মনে করা হত এক সময়ে। অথবা ব্রেন স্ট্রোকের রোগীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকত। কিন্তু কোনও অসুখবিসুখ নেই, পরিবারে স্নায়ুর রোগের ইতিহাসও নেই, এমন একজনের পারকিনসন্স ধরা পড়ায় রীতিমতো হতচকিত গবেষকেরা। দেখা গিয়েছে, মুখের ব্যাক্টেরিয়া কেবল নয়, অন্ত্রের প্রোটিনও এই রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। ‘আলফা-সিনুক্লিন’ নামে এক ধরনের প্রোটিন আছে, যা পার্কিনসন্সের কারণ। এই প্রোটিন অন্ত্রেই তৈরি হয় এবং শরীরের ভেগাস স্নায়ুবাহিত হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছোয়। এই প্রোটিনের কারণেও পার্কিনসন্সের মতো রোগ হতে দেখা গিয়েছে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণাতেও তেমনই দাবি করা হয়েছে। গবেষকেরা দেখেছেন, মুখের ভিতরে এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া জন্মায়, যার নাম ‘স্ট্রেপ্টোকক্কাস মিউট্যান্স’। এই ব্যাক্টেরিয়া দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে, মাড়িতে ক্ষত তৈরি করে। এর কারণে ক্যাভিটি হয়। এই ব্যাক্টেরিয়া এমন এক ধরনের উৎসেচক তৈরি করে, যার নাম ‘ইউরোক্যানেট রিডাক্টেজ়’ (ইউআরডিএ)। এই উৎসেচক স্নায়ুর মাধ্যমে সটান গিয়ে পৌঁছোয় মস্তিষ্কে এবং স্নায়ুর ক্ষতি করতে শুরু করে। ফলে মস্তিষ্কের সুস্থ কোষগুলির ক্ষয় হতে থাকে এবং স্নায়বিক রোগের জন্ম হয়। মুখে মখে জন্মানো ব্যাক্টেরিয়া থেকে জটিল স্নায়ুর রোগও হতে পারে? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগছে ঠিকই, কিন্তু এমনটাও যে হতে পারে তা দাবি করা হয়েছে একাধিক গবেষণায়। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ থেকে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, মুখের ভিতরের স্বাস্থ্যের খেয়াল না রাখলে তার থেকে ভয়াবহ সব ব্যাধি হানা দিতে পারে। যার মধ্যে একটি হল পারকিনসন্স রোগ।
তলপেটে মাঝেমধ্যেই যন্ত্রণা। ভারী খাবার খাওয়ার পরে পেট ভার, পেট ফাঁপার সমস্যা হলে অনেকেই ভেবে নেন গ্যাস-অম্বলের কারণে হচ্ছে। মহিলাদের ক্ষেত্রে পেটে ব্যথার অনেক ধরন আছে। সাধারণত তলপেটে ক্রনিক ব্যথা, পেটের একদিক থেকে ব্যথা ছড়াতে থাকলে, তার কারণ গ্যাসের সমস্যা না-ও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যথার কারণ হয় ডিম্বাশয়ের সিস্ট বা ‘ওভারিয়ান সিস্ট’। সিস্ট ডিম্বাশয়ের ভিতরে হয়। থলির মতো মাংসল পিণ্ড তৈরি হয়, যার ভিতরে রক্ত বা যে কোনও ধরনের ফ্লুইড থাকতে পারে। সিস্টের ধরন টিউমারের মতো হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা বিনাইন অর্থাৎ ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকে না। যদি তা ক্যানসারের দিকে বাঁক নেয়, তা হলে সিস্টের ভিতরের দেওয়াল পুরু হয়ে উঠবে ও সেখানকার কোষের অনিয়মিত বিভাজন শুরু হবে। সিস্টের থলি ফেটে গিয়ে পুঁজ বা রক্ত বেরোতে থাকবে। সেই সময়ে পেটে ব্যথা তীব্র হবে, প্রস্রাবের সময়ে জ্বালাযন্ত্রণা হবে। পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম) যাঁদের আছে, তাঁদের ‘ওভারিয়ান সিস্ট’ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। পিসিওএস-এ ওজন অতিরিক্ত বেশি হয়ে গেলে, তখন ঝুঁকি বাড়ে। এন্ডোমেট্রিওসিস থাকলেও সিস্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। হরমোন থেরাপি যাঁরা করিয়েছেন বা করাচ্ছেন, তাঁদেরও জরায়ুতে সিস্ট হওয়ার ঝুঁকি বেশি। পেটের নীচের দিকে অথবা যে কোনও একটি দিক থেকে ব্যথা শুরু হবে। মাঝেমধ্যে ব্যথার তীব্রতা বাড়বে। তলপেট ভারী হয়ে থাকা, পেট ফুলে থাকার অনুভূতি হবে।ঋতুস্রাবের সময়ে যন্ত্রণা বাড়বে।শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যাবে। ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের ক্ষরণে তারতম্য দেখা দেবে। খিদে কমে যাবে, কিছু খেলেই বমি ভাব থাকবে। ক্লান্তি বাড়বে, সর্বক্ষণ ঝিমুনি হবে। ওজন হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে। সিস্ট ভয়ের কি না তা জানতে কিছু টিউমার মার্কার টেস্ট করা হয়। ডিম্বাশয়ের সিস্ট বিনাইন না ম্যালিগন্যান্ট জানতে সিএ১২৫ রক্ত পরীক্ষা করা হয়। আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে সিস্টের জল বার করে নেওয়া হয়। ক্যানসার হলে সার্জারি করে সিস্ট বাদ দিতে হয়। বড় সিস্ট অস্ত্রোপচারে বাদ না দিলে অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। সাধারণ সিস্টের মধ্যে রক্ত চলাচলের শিরা ছিঁড়ে রক্ত জমলে হেমারেজিক সিস্ট হতে পারে। পাঁচ সেন্টিমিটারের কম সিস্টের জন্য কিছু করতে হয় না। তার চেয়ে বড় সিস্ট যন্ত্রের সাহায্যে বাদ দেওয়া হয়। শুধু তরল বার করে নিলে কিন্তু সেই সিস্ট আবার তরলে ভরে উঠতে পারে। বড় সিস্ট অস্ত্রোপচারে বাদ না দিলে অঙ্গগুলির ক্ষতি হয়। এ ক্ষেত্রে ল্যাপরোস্কোপিক সার্জারি করেন চিকিৎসকেরা। এই ধরনের অস্ত্রোপচারে ঝুঁকি কম। খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন রোগী।





