বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে। সেখানেই ওসমান হাদিকে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুলের সমাধি রয়েছে। তা ছাড়াও একাধিক শিক্ষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সমাধিস্থ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই নির্দিষ্ট চত্বরে। এ বার সেখানে স্থান পাবেন হাদি। হাদিকে নজরুলের পাশে সমাধিস্থ করার আর্জি জানিয়েছিল তাঁর পরিবার। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের কাছ থেকে চিঠি পান কর্তৃপক্ষ, সেখানেও অনুরূপ আর্জি জানানো হয়। এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। অনলাইন মাধ্যমের সেই বৈঠকেই হাদির সমাধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত কর্তৃপক্ষ। ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন হাদি। টানা ছ’দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর হার মেনেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি উদ্যোগে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ্যে আসে। এর পর শুরু হয় তাণ্ডব। ‘সংগঠিত জনরোষে’ ছারখার হয়ে যায় বাংলাদেশের একাধিক সরকারি ভবন, শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের কার্যালয়। রেহাই পায়নি সংবাদমাধ্যমও। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের আবেদন উড়িয়ে রাতভর হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। দেশের প্রথম সারির দুই সংবাদপত্র প্রথম আলো এবং ডেলি স্টার-এর দফতরে ঢুকে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভাঙা হয় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংস্কৃতিকেন্দ্র ছায়ানট ভবন, উদীচীর কার্যালয়। এই পরিস্থিতিতে হাদির শেষকৃত্য ঘিরে বাংলাদেশে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে অনেকে আশঙ্কা। হাদির স্মৃতি সম্মান জানাতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশে। ইউনূসের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর ২টো নাগাদ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজ়ায় হাদির শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তার পর দেহ পাঠানো হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থল প্রস্তুত। শুক্রবার সন্ধ্যাতেই সিঙ্গাপুর থেকে হাদির দেহ ঢাকায় পৌঁছেছিল। আপাতত তা হিমঘরে রাখা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শেষকৃত্য এবং সমাধিকে কেন্দ্র করে নতুন অশান্তি এড়াতে, তা নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বন্দোবস্ত।
বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি জারি করল রাষ্ট্রপুঞ্জ। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তথা জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে বিক্ষোভ। রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, হাদির হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তবে বাংলাদেশকে সংযত হতে হবে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সে দেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। আপাতত ভোটের কথা মাথায় রেখেই সংযম দরকার বলে মনে করছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস শুক্রবার রাতে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত’ করতে হবে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে তদন্তপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও মনে করেন গুতেরেস। তাঁর মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক নিউ ইয়র্কের সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানিয়েছেন। হাদির মৃত্যু পরবর্তী বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে রাষ্ট্রপুঞ্জ নজর রেখেছে। গুতেরেসের বার্তা, ‘‘নির্বাচনের উপযোগী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সমস্ত পক্ষকে হিংসা থেকে বিরত থাকতে হবে, উত্তেজনা কমাতে হবে এবং সংযত হতে হবে।’’ রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাইকমিশনার ভলকার টার্কও জেনেভা থেকে বাংলাদেশ নিয়ে পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন। জানিয়েছেন, হাদির মৃত্যুসংবাদে তিনি ‘অত্যন্ত বিব্রত’। কিন্তু প্রতিশোধ কেবল বিভেদকেই স্পষ্ট করে। তাতে সব পক্ষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। তাই এই কঠিন সময়ে সংযম প্রদর্শন প্রয়োজন। ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন হাদি। সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো যায়। টানা ছ’দিন লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার রাতে হাদির মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ্যে আসে। এর পরেই বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয় তাণ্ডব। ‘সংগঠিত জনরোষে’ তছনছ হয়ে যায় একাধিক সরকারি ভবন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং দেশের প্রথম সারির দুই সংবাদপত্র প্রথম আলো ও ডেলি স্টার-এর দফতর। খুলনায় এক সাংবাদিককে হত্যা এবং ময়মনসিংহে এক যুবককে মারধরের পর পুড়িয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। হিংসাত্মক কার্যকলাপের নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে এ বার মুখ খুলল রাষ্ট্রপুঞ্জও।




